প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
আশা করি ভালো আছেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে সুস্থ ও নিরাপদ রাখুন!
আপনার খেদমতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পেশ করছি। আশা করি উত্তর দিয়ে বিশেষভাবে ভারতের মুসলমানদের এবং সাধারণভাবে মুসলিম উম্মাহর সঠিক শরয়ি দিকনির্দেশনা দিয়ে সওয়াবের অধিকারী হবেন!
* স্টক মার্কেটে (Stock Market) সুইং ট্রেডিং (Swing Trading) করা এবং মিউচুয়াল ফান্ডে (Mutual Fund) বিনিয়োগ (Investment) করার শরয়ি হুকুম কী?
* যদি সঠিক হয়, তবে এতে কোন কোন শরয়ি মূলনীতি মেনে চলা আবশ্যক হবে?
* বিশেষ করে শেয়ার (Shares) কেনার পর কবজা (দখল) কখন বাস্তবায়িত হয়—আপনি যদি বলে দিতে পারেন, টেকনিক্যালি (Technically) কখন তা সঠিক হবে? এবং একই দিনে (Same day) সেই শেয়ার বিক্রি করা কি শরয়িভাবে জায়েয হবে?
মুহাম্মদ ইয়াহইয়া খান নদভী
উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
বর্তমান যুগে বিনিয়োগের মাধ্যম এবং আর্থিক লেনদেনের ধরন দ্রুত বদলে যাচ্ছে। স্টক মার্কেট, অনলাইন ট্রেডিং, সুইং ট্রেডিং ও মিউচুয়াল ফান্ড আজ বিনিয়োগের সাধারণ মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। এসব আধুনিক আর্থিক পদ্ধতি একদিকে বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে, অন্যদিকে এই প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে যে এগুলোর কোন কোন রূপ শরয়িভাবে জায়েয এবং কোন কোন রূপ থেকে বিরত থাকা জরুরি। বিশেষ করে সুইং ট্রেডিং, মিউচুয়াল ফান্ড এবং শেয়ার কেনার পর কবজার বাস্তবায়ন এমন বিষয়, যেগুলোতে ইসলামি ফিকহের মূলনীতিকে বর্তমান আর্থিক ব্যবস্থার ব্যবহারিক ও প্রযুক্তিগত বাস্তবতার সাথে মিলিয়ে বোঝা জরুরি।
সর্বপ্রথম এটি স্পষ্ট হওয়া উচিত যে স্টক মার্কেটে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয় মূলগতভাবে হারাম নয়। কোনো কোম্পানির মৌলিক ব্যবসা যদি শরয়িভাবে জায়েয হয়, তার শেয়ার যদি প্রকৃত ব্যবসায়িক মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে, এবং ক্রয়-বিক্রয়ে কোনো শরয়ি নিষেধাজ্ঞা যুক্ত না থাকে, তবে নীতিগতভাবে তার শেয়ার কেনা ও বেচা জায়েয। শেয়ার ক্রেতা প্রকৃতপক্ষে কোম্পানির সম্পদ ও ব্যবসায়িক অধিকারে নিজের অংশের মালিক হন; তাই একে নিছক কাগুজে বা কাল্পনিক লেনদেন মনে করা সঠিক নয়।
তবে কোম্পানি জায়েয হওয়ার পাশাপাশি তার আর্থিক লেনদেনের পর্যালোচনাও জরুরি। কোনো কোম্পানির মৌলিক ব্যবসাই যদি হারাম হয়—যেমন মদ, জুয়া, সুদভিত্তিক আর্থিক সেবা বা অন্য কোনো নিষিদ্ধ কার্যক্রম—তবে তার শেয়ারে বিনিয়োগ জায়েয নয়। একইভাবে কোম্পানির মৌলিক ব্যবসা জায়েয হলেও যদি তার আর্থিক কাঠামোতে সুদি ঋণ, সুদি বিনিয়োগ বা অশরয়ি আয় যুক্ত থাকে, তবে তার হুকুম নির্ধারণের জন্য নির্ভরযোগ্য শরয়ি স্ক্রিনিংয়ের মূলনীতি সামনে রাখতে হবে।
সুইং ট্রেডিং মূলত শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়ের একটি কৌশল, কোনো স্বতন্ত্র শরয়ি চুক্তি নয়। এতে সাধারণত বিনিয়োগকারী কোনো কোম্পানির শেয়ার কিনে কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম যথেষ্ট বাড়লে বিক্রি করে দেন। শেয়ার দীর্ঘ মেয়াদে রাখা হয়নি—শুধু এই বিষয়টি ব্যবসাকে নাজায়েয করে না। শরীয়তে এমন কোনো সাধারণ শর্ত নেই যে শেয়ার কেনার পর তা একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত রাখা জরুরি।
অতএব কোনো জায়েয কোম্পানির প্রকৃত শেয়ার কেনা হলে, তাতে শরয়ি দৃষ্টিতে মালিকানা ও কবজা অর্জিত হলে, এবং তারপর দাম বৃদ্ধি বা বাজার বিশ্লেষণের ভিত্তিতে তা বিক্রি করা হলে, এটি নীতিগতভাবে জায়েয ব্যবসার আওতায় আসতে পারে। তবে সুইং ট্রেডিংয়ে যদি মার্জিন ট্রেডিং, সুদি ঋণ, শর্ট সেলিং, অশরয়ি ডেরিভেটিভস (derivatives) অথবা এমন কোনো লেনদেন যুক্ত থাকে যাতে প্রকৃত মালিকানা ও কবজাই বিদ্যমান নেই, তবে এর শরয়ি অবস্থান ভিন্ন হবে।
বিশেষ করে মার্জিন ট্রেডিংয়ে সতর্কতা জরুরি। ব্রোকার বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি সুদি ঋণ দেয় এবং সেই ঋণের বিনিময়ে সুদ বা কোনো শর্তযুক্ত আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করে, তবে এই পদ্ধতিতে ব্যবসা করা শরয়িভাবে জায়েয নয়। একইভাবে শর্ট সেলিংয়ে সাধারণত এমন শেয়ার বিক্রি করা হয় যা বিক্রেতার মালিকানায় থাকে না। নবী কারীম ﷺ ইরশাদ করেছেন: “لا تَبِعْ ما ليسَ عندَكَ”—অর্থাৎ যে জিনিস তোমার কাছে নেই, তা বিক্রি করো না। এই মূলনীতির আলোকে সাধারণ শর্ট সেলিং (short selling) শরয়ি মূলনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
মিউচুয়াল ফান্ড
মিউচুয়াল ফান্ডের হুকুমও তার নাম দিয়ে নয়, বরং তার প্রকৃত কাঠামো ও বিনিয়োগ নীতির ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। ফান্ডের পুঁজি যদি জায়েয ব্যবসা পরিচালনাকারী কোম্পানিগুলোর শেয়ারে কিংবা শরয়ি মূলনীতি অনুযায়ী অন্যান্য সম্পদে বিনিয়োগ করা হয়, এবং ফান্ডের চুক্তিতেও কোনো নাজায়েয উপাদান না থাকে, তবে নীতিগতভাবে তাতে বিনিয়োগের অবকাশ থাকতে পারে।
এর বিপরীতে ফান্ডের পুঁজি যদি সুদি বন্ড, প্রচলিত সুদবাহী সিকিউরিটিজ (conventional interest-bearing securities), সুদি আর্থিক প্রতিষ্ঠান বা অন্যান্য অশরয়ি খাতে বিনিয়োগ করা হয়, তবে তাতে বিনিয়োগ জায়েয হবে না।
তাই কোনো মিউচুয়াল ফান্ডের ক্ষেত্রে কেবল এটুকু দেখে নেওয়া যথেষ্ট নয় যে তার নামের সাথে “Islamic” বা “Shariah Compliant” লেখা আছে; বরং তার বিনিয়োগ নীতি (investment policy), অন্তর্নিহিত সম্পদ (underlying assets), আর্থিক অনুপাত (financial ratios), শরয়ি তত্ত্বাবধান এবং পরিশোধন ব্যবস্থা (purification mechanism) পর্যালোচনা করা জরুরি।
কবজার মাসআলা
এই পুরো মাসআলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও কারিগরি প্রশ্ন হলো কবজার। শরীয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো, কোনো জিনিস কবজায় নেওয়ার আগে তা পুনরায় বিক্রি না করা। নববী হাদিসে এর স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।
কিন্তু আধুনিক ব্যবসায় কবজা সবসময় এই অর্থে হয় না যে কোনো বস্তুগত জিনিস হাতে চলে আসবে। অনেক পণ্য ও আর্থিক অধিকারের ক্ষেত্রে হুকমি কবজা (বিধানগত দখল) গ্রহণযোগ্য। প্রচলিত রীতি (উরফ), আইন এবং লেনদেনের প্রকৃত ধরন অনুযায়ী ক্রেতা যদি কেনা জিনিসের ওপর এমন অধিকার লাভ করেন যা একজন মালিকের থাকে, তবে কোনো কোনো ক্ষেত্রে একে হুকমি কবজা গণ্য করা যেতে পারে।
এই মূলনীতি ডিমেটেরিয়ালাইজড (dematerialised) শেয়ারের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হতে পারে। কিন্তু এখানে কেবল এটুকু দেখা যথেষ্ট নয় যে ব্রোকারের অ্যাপ বা ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে “Buy” অর্ডার এক্সিকিউট হয়ে গেছে। প্রযুক্তিগত এক্সিকিউশন (technical execution) এবং শরয়ি কবজা সবসময় একই জিনিস নয়।
আসল প্রশ্ন হলো, ক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর:
• ক্রেতা কি সেই নির্দিষ্ট শেয়ারের মালিক হয়ে যান?
• তাঁর মালিকানার অধিকার কি আইনগতভাবে ও প্রচলিত রীতিতে স্বীকৃত হয়?
• তিনি কি সেই শেয়ারে বিনা বাধায় তাসাররুফ (লেনদেন ও ব্যবহার) করতে পারেন?
• তিনি কি তা পুনরায় বিক্রি করার প্রকৃত অধিকার লাভ করেন?
• শেয়ারটি কি তাঁর বেনিফিশিয়াল ওনারশিপ (beneficial ownership) বা সিকিউরিটিজ অ্যাকাউন্টে নির্দিষ্ট হয়ে যায়?
• এবং সেটেলমেন্টের বাকি ধাপটি কি নিছক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, নাকি মালিকানা হস্তান্তরের জন্য সেটেলমেন্ট নিজেই জরুরি?
এই প্রশ্নগুলোর উত্তরের ভিত্তিতেই কবজা বাস্তবায়িত হয়েছে কি না তার সিদ্ধান্ত হবে।
সেইম-ডে ট্রেডিংয়ের (Same-Day Trading) হুকুম
এই ভিত্তিতেই সেইম-ডে ট্রেডিং সম্পর্কেও কোনো একক সাধারণ হুকুম দেওয়া যায় না। কোনো নির্দিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারের ব্যবস্থায় ক্রয় সম্পন্ন হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতা যদি প্রকৃত বা নির্ভরযোগ্য হুকমি কবজা লাভ করেন এবং শরয়ি দৃষ্টিতে সেই শেয়ারের মালিক হয়ে তাতে তাসাররুফ করতে পারেন, তবে একই দিনে তা বিক্রি করার নীতিগত অবকাশ থাকতে পারে।
কিন্তু যদি কেবল ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মের প্রযুক্তিগত সুবিধার কারণে একই দিনে বিক্রি সম্ভব হয়, অথচ শরয়ি ও আইনগত দিক থেকে মালিকানা তখনো হস্তান্তরিত হয়নি, কিংবা ক্রেতা প্রকৃত তাসাররুফের অধিকার লাভ করেননি, তবে নিছক “sell” বাটন সক্রিয় হয়ে যাওয়া কবজার শরয়ি প্রমাণ হবে না।
এ কারণেই T+1, T+2 বা অন্য কোনো সেটেলমেন্ট সাইকেলকে নিজে থেকেই কবজার চূড়ান্ত মানদণ্ড গণ্য করা যায় না। দেখতে হবে, সংশ্লিষ্ট বাজারের আইন অনুযায়ী ট্রেড এক্সিকিউশনের পর মালিকানা (ownership) ও বেনিফিশিয়াল ইন্টারেস্ট (beneficial interest) কোন পর্যায়ে হস্তান্তরিত হয় এবং বিনিয়োগকারী কোন পর্যায়ে পূর্ণ তাসাররুফের অধিকার লাভ করেন।
শরয়ি মূলনীতির মৌলিক তালিকা
স্টক মার্কেট বা সুইং ট্রেডিংয়ে বিনিয়োগকারী ব্যক্তির উচিত অন্তত নিম্নোক্ত মূলনীতিগুলো মেনে চলা:
১. কোম্পানির মৌলিক ব্যবসা যেন শরয়িভাবে জায়েয হয়।
২. কোম্পানির আর্থিক লেনদেনের শরয়ি স্ক্রিনিং যেন নির্ভরযোগ্য মূলনীতি অনুযায়ী হয়।
৩. সুদি ঋণ বা সুদভিত্তিক মার্জিনের (interest-based margin) মাধ্যমে বিনিয়োগ যেন না করা হয়।
৪. শর্ট সেলিং (short selling) থেকে যেন বিরত থাকা হয়।
৫. যেসব ডেরিভেটিভসে শরয়িভাবে নিষিদ্ধ উপাদান পাওয়া যায়, সেগুলো থেকে যেন বেঁচে থাকা হয়।
৬. কেনা শেয়ারের ওপর প্রকৃত বা নির্ভরযোগ্য হুকমি কবজা অর্জিত হওয়ার আগে তা যেন বিক্রি করা না হয়।
৭. প্রতারণা, বাজার কারসাজি (market manipulation), ইনসাইডার ট্রেডিং (insider trading) এবং অবৈধ কৃত্রিম মূল্য নির্ধারণ থেকে যেন সম্পূর্ণ বিরত থাকা হয়।
৮. নিছক জুয়াসদৃশ ফটকাবাজি এবং অস্বাভাবিক ঝুঁকিভিত্তিক লেনদেন থেকে যেন বেঁচে থাকা হয়।
৯. কোম্পানির আনুষঙ্গিক আয়ে যদি অশরয়ি উপাদান থাকে এবং নির্ভরযোগ্য শরয়ি মানদণ্ড অনুযায়ী তার পরিশোধন আবশ্যক হয়, তবে যেন পরিশোধনের (purification) ব্যবস্থা করা হয়।
১০. মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের আগে যেন তার অন্তর্নিহিত সম্পদ (underlying assets) ও বিনিয়োগ নীতির শরয়ি অবস্থান জেনে নেওয়া হয়।
শেষে এ কথা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে মুয়ামালাতের ফিকহে নাম ও পরিভাষার চেয়ে লেনদেনের প্রকৃত কাঠামো বেশি গুরুত্বপূর্ণ। “Trading”, “Investment”, “Settlement”, “Execution” বা “Same Day”-এর মতো প্রযুক্তিগত পরিভাষা নিজে থেকে শরয়ি হুকুম নির্ধারণ করে না। আসল প্রশ্ন হলো লেনদেনের ভেতরে বাস্তবে কী ঘটছে: মালিকানা কখন হস্তান্তরিত হয়, কবজা কখন অর্জিত হয়, পুঁজি কোন ভিত্তিতে বিনিয়োগ করা হয়, এবং ক্রেতা ও বিক্রেতার অধিকার ও দায়দায়িত্ব কোন পর্যায়ে প্রতিষ্ঠিত হয়।
অতএব কোনো নির্দিষ্ট স্টক এক্সচেঞ্জ বা ব্রোকারের ক্ষেত্রে সেইম-ডে সেলের (same-day sale) চূড়ান্ত শরয়ি হুকুম দেওয়ার জন্য তার প্রকৃত সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা (actual settlement mechanism) ও মালিকানা কাঠামো (ownership structure) আলাদাভাবে পর্যালোচনা করা জরুরি। আধুনিক আর্থিক লেনদেনে ফিকহি মূলনীতির সঠিক ও সতর্ক প্রয়োগের দাবি এটিই।
সারকথা হলো, জায়েয কোম্পানির প্রকৃত শেয়ারে বিনিয়োগ নীতিগতভাবে জায়েয হতে পারে, সুইং ট্রেডিংও কেবল স্বল্প মেয়াদের কারণে নাজায়েয নয়, এবং মিউচুয়াল ফান্ডও তার শরয়ি কাঠামো অনুযায়ী জায়েয বা নাজায়েয হবে। তবে সর্বাবস্থায় সুদ, শর্ট সেলিং, অশরয়ি ডেরিভেটিভস এবং কবজার আগে বিক্রি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। একইভাবে সেইম-ডে সেল নির্ভর করে এ বিষয়ের ওপর যে ক্রয়ের পর শরয়ি দৃষ্টিতে প্রকৃত বা হুকমি কবজা কখন বাস্তবায়িত হয়।
———
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ AI
🔗 https://t.me/DrAkramNadwi/10067