প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। মাওলানা ড. মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী সাহেব দামাত বারাকাতুহুম, আশা করি ভালো আছেন। হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষা সংক্রান্ত একটি সংশয় সামনে এসেছে; আশা করি সন্তোষজনক উত্তর দান করে বাধিত করবেন।
হাদিসশাস্ত্রের পরিভাষায় ‘আযীয’ এবং ‘শাহিদ’ দুটি ভিন্ন পরিভাষা। ‘আযীয’-এর সংজ্ঞা এই যে, রেওয়ায়াতটি অন্তত দুটি সূত্রে (তরীকে) বর্ণিত হয়েছে; আর ‘শাহিদ’-এর সংজ্ঞা হলো এমন কোনো দ্বিতীয় রেওয়ায়াত, যা অন্য কোনো রেওয়ায়াতকে সমর্থন করে।
এখন প্রশ্ন হলো, কোনো রেওয়ায়াতের যখন দুটি সনদ পাওয়া গেল, তখন তো সেই রেওয়ায়াতটি ‘আযীয’ হয়ে গেল; তাহলে সেটিকে আবার ‘শাহিদ’ নামে আলাদা পরিভাষা বানিয়ে পরিচিত করানোর কী প্রয়োজন ছিল? আর যদি ‘শাহিদ’ ও ‘আযীয’ দুটো ভিন্ন ধরনের রেওয়ায়াত হয়ে থাকে, তবে তাদের মধ্যে পার্থক্যের কারণ কী?
উত্তর:
এই প্রশ্নটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং গভীর মনোযোগের দাবি রাখে। বাস্তবতা হলো, এই সংশয় কেবল আপনার একার নয়; বরং হাদিসশাস্ত্রের চর্চায় নিয়োজিত বহু আলিম ও তালিবে ইলমও এ মাসআলায় বিষয়বস্তুর গোলমালে নিপতিত হন। পার্থক্য শুধু এই যে, আপনি আপনার সংশয়টি প্রকাশ করেছেন, অথচ অনেকেই হয় এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করেন না, অথবা এর তাহকিক ও নিরসনের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না।
আমার দৃষ্টিতে এই জটিলতার মূল কারণ হলো ‘আযীয’ পরিভাষার সেই সংজ্ঞাটি, যা সাধারণত পরবর্তী যুগের (মুতাআখখিরীন) মুসতালাহুল হাদিসের কিতাবসমূহে বর্ণনা করা হয়—অর্থাৎ কোনো রেওয়ায়াত অন্তত দুজন রাবির সূত্রে বর্ণিত হওয়া। আমি আমার ‘তামহীদু ইলমিল হাদীস’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। আমার অনুরোধ, আপনি গ্রন্থটি অধ্যয়ন করুন; সেখানে কেবল ‘আযীয’ নয়, বরং ‘মুতাওয়াতির’, ‘মাশহুর’ এবং অন্যান্য পরিভাষা সংক্রান্ত কিছু প্রচলিত ধারণা ও ভুল বোঝাবুঝিও পর্যালোচনা করা হয়েছে।
এখানে প্রথমে ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’-এর মর্ম স্পষ্ট করা সংগত হবে; এরপর ‘আযীয’-এর প্রকৃত স্বরূপ তুলে ধরলে এই তিনটির মধ্যকার পার্থক্য বোঝা সহজ হবে।
১. শাহিদের সংজ্ঞা ও প্রকৃত স্বরূপ
‘শাহিদ’ বলতে সাধারণত এমন রেওয়ায়াতকে বোঝায়, যার মতন (মূলপাঠ) একজন সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়েছে, অতঃপর সেই একই মতন বা তার সমার্থক বিষয়বস্তু অন্য কোনো সাহাবির রেওয়ায়াত থেকেও বর্ণিত পাওয়া যায়। এই দ্বিতীয় রেওয়ায়াতটিকে প্রথম রেওয়ায়াতের জন্য ‘শাহিদ’ বলা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, কোনো হাদিসের বিষয়বস্তু হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণিত হলো এবং সেই একই বিষয়বস্তু হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকেও বর্ণিত পাওয়া গেল—তবে দ্বিতীয় সাহাবির রেওয়ায়াতটি প্রথম রেওয়ায়াতের জন্য ‘শাহিদ’ হতে পারে।
এই পরিভাষায় মূল বিবেচ্য বিষয় হলো, রেওয়ায়াতটির সমর্থন অন্য কোনো সাহাবি থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতের মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে। কেবল একই সাহাবি থেকে রেওয়ায়াতের একাধিক সূত্র (তরীক) পাওয়া যাওয়া পরিভাষাগত দিক থেকে ‘শাহিদ’-এর সংজ্ঞা পূরণ করে না।
২. মুতাবির সংজ্ঞা ও প্রকৃত স্বরূপ
‘মুতাবি’ বলা হয় সেই রেওয়ায়াত বা সূত্রকে (তরীক), যা একই সাহাবি থেকে বর্ণিত হাদিসকে সমর্থন করে—অর্থাৎ তার বর্ণনার এমন কোনো দ্বিতীয় সূত্রও পাওয়া যায়, যেখানে মতন এবং সাহাবি উভয়ের সম্বন্ধই অভিন্ন থাকে।
উদাহরণস্বরূপ, একটি রেওয়ায়াত ইমাম মালিক — নাফি — ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, এবং সেই একই রেওয়ায়াত লায়স — নাফি — ইবনে উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুমা সূত্রেও পাওয়া গেল; তবে লায়সের সূত্রটি ইমাম মালিকের সূত্রের জন্য ‘মুতাবি’ বলে গণ্য হবে।
এ ক্ষেত্রে উভয় সূত্রের সাহাবি ও মতনের দিক থেকে অভিন্ন হওয়া মৌলিক গুরুত্ব রাখে, অথচ সনদের কোনো একটি অংশে সূত্রের ভিন্নতা বিদ্যমান থাকে।
অতএব, ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’-এর মধ্যে মৌলিক পার্থক্য হলো—‘শাহিদ’-এর ক্ষেত্রে সমর্থন অর্জিত হয় অন্য কোনো সাহাবির রেওয়ায়াত থেকে, পক্ষান্তরে ‘মুতাবি’-এর ক্ষেত্রে একই সাহাবি থেকে বর্ণিত রেওয়ায়াতের দ্বিতীয় আরেকটি সূত্র পাওয়া যায়।
৩. শাহিদ ও মুতাবি সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ সংশোধন
এখানে আরেকটি ভুল বোঝাবুঝি দূর করা জরুরি। কেউ কেউ মনে করেন, ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’ পাওয়া গেলেই মূল হাদিসের বিশুদ্ধতা (সিহহাত) অনিবার্যভাবে প্রমাণিত হয়ে যায়, কিংবা একাধিক সূত্রের কারণে প্রতিটি যঈফ হাদিসই হাসান বা সহীহ স্তরে পৌঁছে যায়। এই ধারণা সঠিক নয়।
মূল হাদিসের বিশুদ্ধতা এবং তার জন্য ‘শাহিদ’ বা ‘মুতাবি’ পাওয়া যাওয়া—এ দুটি ভিন্ন বিষয়। ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’-এর উপস্থিতি স্বস্থানে গুরুত্বপূর্ণ বটে, কিন্তু সেগুলোর নিজস্ব বিশুদ্ধতা, সনদের শক্তি এবং মূল রেওয়ায়াতের সাথে সেগুলোর সামঞ্জস্য যাচাই করা অপরিহার্য। কেবল সূত্রের সংখ্যা বেড়ে গেলেই রেওয়ায়াত সহীহ হয়ে যায় না।
ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম রাহিমাহুমাল্লাহর মানহাজ (কর্মপদ্ধতি) বোঝার জন্যও এই পার্থক্যটি সামনে রাখা উচিত। তাঁদের নিকট মূল রেওয়ায়াতের বিশুদ্ধতা এবং তার সমর্থক সূত্রসমূহের মর্যাদাকে একই পর্যায়ের মনে করা হয় না।
যদি মূল রেওয়ায়াতটি যঈফ হয়, তবে তার জন্য কোনো ‘শাহিদ’ বা ‘মুতাবি’ পাওয়া গেলে তার সমর্থনের সম্ভাবনা অবশ্যই তৈরি হয়, কিন্তু এর দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সহীহ হওয়ার হুকুম আবশ্যক হয়ে পড়ে না। এ ক্ষেত্রে দেখা জরুরি যে দুর্বলতা কোন প্রকৃতির, ‘শাহিদ’ বা ‘মুতাবি’-এর সনদ কোন স্তরের, এবং তা বাস্তবেই মূল রেওয়ায়াতকে শক্তিশালী করার উপযুক্ত কি না।
কোনো কোনো বিজ্ঞজনের কাছে এ মাসআলায় ইমাম তিরমিযী রাহিমাহুল্লাহর হুকুম আরোপের রীতি থেকেও ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়। এ দিকটি নিয়ে আমি অন্য এক স্থানে আলোচনা করেছি; আপাতত এখানে তার বিস্তারিত বিবরণ উদ্দেশ্য নয়।
৪. আযীযের প্রকৃত স্বরূপ: প্রচলিত সংজ্ঞার পুনর্বিবেচনা
হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী রাহিমাহুল্লাহ ‘নুখবাতুল ফিকার’ এবং তার শরাহ ‘নুযহাতুন নাযার’ গ্রন্থে ‘আযীয’-এর সংজ্ঞা এই ভাষায় দিয়েছেন:
وَهُوَ أَنْ لَا يَرْوِيَهُ أَقَلُّ مِنِ اثْنَيْنِ عَنْ اثْنَيْنِ
অর্থাৎ, ‘আযীয’ হলো এমন রেওয়ায়াত, যা দুজন রাবি থেকে দুজনের কম রাবি বর্ণনা করেন না (পৃ. ৪৭)।
এই সংজ্ঞাটি মুসতালাহুল হাদিসের প্রচলিত কিতাবসমূহে সুপরিচিত; কিন্তু এখানে চিন্তা করার প্রয়োজন আছে যে মুহাদ্দিসগণের নিকট শুরু থেকেই কি ‘আযীয’-এর মর্ম এটিই ছিল যে পুরো সনদে প্রতিটি স্তরে (তাবাকায়) অন্তত দুজন করে রাবি বিদ্যমান থাকতে হবে?
ইমাম ইবনুস সালাহ রাহিমাহুল্লাহ হাফিয ইবনে মান্দাহ রাহিমাহুল্লাহ থেকে উদ্ধৃত করেছেন যে, তিনি ‘গরীব’, ‘আযীয’ ও ‘মাশহুর’-এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন:
الغريب من الحديث كحديث الزهري وقتادة وأشباههما من الأئمة ممن يجمع حديثهم إذا انفرد الرجل عنهم بالحديث يسمى غريبا، فإذا روى عنهم رجلان وثلاثة واشتركوا في حديث يسمى عزيزا، فإذا روى الجماعة عنهم حديثا سمي مشهورا
এই বক্তব্যের সারকথা হলো—যুহরী, কাতাদাহ এবং তাঁদের মতো যেসব ইমামের হাদিস সংকলন করা হয়, তাঁদের রেওয়ায়াতসমূহে যদি কোনো একজন রাবি এককভাবে বর্ণনা করেন (মুতাফাররিদ হন), তবে সেই রেওয়ায়াতকে ‘গরীব’ বলা হয়; যদি দুজন বা তিনজন রাবি সেই রেওয়ায়াতে শরিক হন, তবে সেটিকে ‘আযীয’ বলা হয়; আর যদি তাঁদের থেকে একটি জামাত (দল) হাদিসটি বর্ণনা করে, তবে তা ‘মাশহুর’ বলে অভিহিত হয়।
এই ব্যাখ্যা থেকে জানা যায় যে, ‘গরীব’, ‘আযীয’ ও ‘মাশহুর’-এর শ্রেণিবিভাগে প্রতিটি রেওয়ায়াতের পুরো সনদের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত রাবিদের সংখ্যা গণনা করা জরুরি নয়; বরং সনদের কোনো বিশেষ স্থানে রাবিদের সংখ্যা এবং তাঁদের এককত্ব (তাফাররুদ) বা অংশীদারিত্ব (ইশতিরাক) লক্ষ্য করা হয়।
উদাহরণস্বরূপ, ইমাম যুহরী রাহিমাহুল্লাহ থেকে কোনো রেওয়ায়াত যদি কেবল একজন রাবিই উদ্ধৃত করেন, তবে যুহরী থেকে বর্ণনাকারী সেই রাবির দিক থেকে তা ‘গরীব’ হবে। যদি একই রেওয়ায়াতে যুহরী থেকে দুজন বা তিনজন রাবি শরিক হয়ে যান, তবে সেই স্থানে তার গারাবাতের (এককত্বের) বৈশিষ্ট্য পরিবর্তিত হয়ে সূত্রের ইযযত (আযীয হওয়া)-এর রূপ ধারণ করতে পারে; আর যদি রাবিদের সংখ্যা একটি জামাত পর্যন্ত পৌঁছে যায়, তবে সেটিকে ‘মাশহুর’ বলা যেতে পারে।
এখানে একটি মৌলিক সূক্ষ্ম বিষয় বোঝা প্রয়োজন: ‘আযীয’-এর সম্পর্ক হলো রেওয়ায়াতের সূত্রসংখ্যা এবং সনদের কোনো নির্দিষ্ট স্থানে রাবিদের অংশীদারিত্বের সাথে; পক্ষান্তরে ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’-এর সম্পর্ক হলো একটি রেওয়ায়াতের জন্য অন্য আরেকটি রেওয়ায়াত বা দ্বিতীয় কোনো সূত্রের সমর্থনের সাথে। এটিই সেই পার্থক্য, যা উপেক্ষা করার কারণে আলোচ্য সংশয়টি দেখা দেয়।
৫. আযীয হওয়ার জন্য কি প্রতিটি স্তরে দুজন রাবি থাকা জরুরি?
হাকিম নিশাপুরী রাহিমাহুল্লাহ ‘মারিফাতু উলূমিল হাদীস’ (পৃ. ২৪২) গ্রন্থে সাহাবি থেকে বর্ণনাকারী দুজন ন্যায়পরায়ণ (আদিল) তাবেয়ীর উল্লেখ করেছেন; কিন্তু তাঁর বক্তব্যকে সহীহ হাদিসের সংজ্ঞায় সর্বত্র দুজন রাবির অপরিহার্য শর্ত হিসেবে গণ্য করা সঠিক নয়। সেখানে উদ্দেশ্য হলো সাহাবি থেকে জাহালাত (অপরিচিতি) দূর হওয়ার ব্যাখ্যা দেওয়া—হাদিসের বিশুদ্ধতার জন্য প্রতিটি স্তরে দুজন রাবির শর্ত আরোপ করা নয়।
সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মধ্যে এমন কিছু সাহাবিও রয়েছেন, যাঁদের থেকে কেবল একজন রাবিই হাদিস বর্ণনা করেছেন; কিন্তু যদি তাঁদের সাহাবিত্ব অন্য কোনো নির্ভরযোগ্য পন্থায় প্রমাণিত হয় এবং বিশুদ্ধতার অন্যান্য শর্ত পূর্ণ হয়, তবে তাঁদের রেওয়ায়াত সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমেও বিদ্যমান রয়েছে।
হাফিয ইবনে রজব রাহিমাহুল্লাহ ‘শারহু ইলালিত তিরমিযী’ গ্রন্থে ইয়াকুব ইবনে শায়বাহ ও ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে মাঈন রাহিমাহুমাল্লাহর মধ্যকার কথোপকথন উদ্ধৃত করেছেন। সেই আলোচনা থেকে জানা যায় যে, কোনো রাবি থেকে বর্ণনাকারীদের সংখ্যাকে তাঁর পরিচিতি (মারিফাত) এবং অপরিচিতি (জাহালাত) দূর হওয়ার একমাত্র মাপকাঠি সাব্যস্ত করা যায় না; বরং রাবিদের ইলমি মর্যাদা এবং তাঁদের মানহাজকেও সামনে রাখা জরুরি (ইবনে রজব, শারহু ইলালিত তিরমিযী, ৩৭৭–৩৭৮)।
এ কারণে কোনো রেওয়ায়াত ‘গরীব’, ‘আযীয’ বা ‘মাশহুর’ হওয়াকে তার সহীহ বা যঈফ হওয়ার সাথে গুলিয়ে ফেলা উচিত নয়। এসব গুণাবলি এক দিক থেকে রেওয়ায়াতের প্রকৃতি স্পষ্ট করে, পক্ষান্তরে সহীহ ও যঈফ হওয়ার ফয়সালা স্বতন্ত্র মূলনীতির অধীনে সম্পন্ন হয়।
৬. আযীয ও শাহিদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য
এবার আপনার মূল প্রশ্নের দিকে আসা যাক—যখন কোনো রেওয়ায়াতের দুটি সনদ পাওয়া যায়, তখন সেটিকে কেন ‘আযীয’ বলা হবে না, এবং ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’ নামে আলাদা পরিভাষা তৈরির প্রয়োজনই বা কী?
এর উত্তর হলো, কেবল দুটি সনদ পাওয়া যাওয়াই সর্বাবস্থায় রেওয়ায়াতটি ‘আযীয’ হওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, আর প্রতিটি দ্বিতীয় সূত্রকেই ‘শাহিদ’ বলা যায় না। এসব পরিভাষার মধ্যে পার্থক্য তৈরি হয় এই দিক থেকে যে, দ্বিতীয় সূত্রটি কোন মর্যাদায় বিদ্যমান রয়েছে এবং প্রথম রেওয়ায়াতের সাথে তার সম্পর্ক কী।
‘আযীয’ হলো ‘গরীব’-এর বিপরীত একটি বৈশিষ্ট্য, যেখানে সনদের কোনো বিশেষ স্থানে বর্ণনাকারীদের সংখ্যা ও অংশীদারিত্ব আলোচিত হয়। এর বিপরীতে ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’ সেই দ্বিতীয় সূত্রের অবস্থান নির্ধারণ করে, যা কোনো রেওয়ায়াতের সমর্থনের জন্য বিদ্যমান থাকে।
সুতরাং যদি একই সাহাবির হাদিস দুটি ভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হয় এবং উভয় সূত্রে মতন ও সাহাবির সম্বন্ধ অভিন্ন থাকে, তবে সেগুলোর একটি সূত্র অপরটির জন্য ‘মুতাবি’ হতে পারে। কিন্তু এর দ্বারা এটি আবশ্যক হয় না যে পুরো রেওয়ায়াতটিকে সর্বদিক থেকে ‘আযীয’-ও সাব্যস্ত করা হবে; সেটির জন্য ‘আযীয’-এর সংশ্লিষ্ট সংজ্ঞা এবং সনদের বিভিন্ন স্তরে (তাবাকায়) রাবিদের সংখ্যা লক্ষ্য করতে হবে।
অনুরূপভাবে, যদি একটি হাদিসের বিষয়বস্তু দুজন ভিন্ন সাহাবি থেকে বর্ণিত হয়, তবে দ্বিতীয় সাহাবির রেওয়ায়াতটি প্রথমটির জন্য ‘শাহিদ’ হবে। এখানে দুটি সূত্রের উপস্থিতির চেয়ে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এই যে, রেওয়ায়াতটির সমর্থন অন্য সাহাবির রেওয়ায়াত থেকে অর্জিত হচ্ছে।
অতএব, এই দুটি পরিভাষা একই প্রশ্নের উত্তর দেয় না। ‘আযীয’-এর আলোচনায় মৌলিক মনোযোগ থাকে গারাবাত (এককত্ব) দূর করার ওপর; পক্ষান্তরে ‘শাহিদ’ ও ‘মুতাবি’-এর আলোচনায় দেখা হয় যে অন্য কোনো রেওয়ায়াত বা সনদ মূল রেওয়ায়াতকে কোন প্রক্রিয়ায় সমর্থন করছে।
———
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ AI
🔗 https://t.me/DrAkramNadwi/10849