Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : ন্যায়বোধের দাবি: নিজের ও অন্যের শ্রদ্ধেয়

শিরোনাম : ন্যায়বোধের দাবি: নিজের ও অন্যের শ্রদ্ধেয় ব্যক্তিত্বদের ক্ষেত্রে সমান মানদণ্ড
———-

بسم الله الرحمن الرحيم

|| প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।
সম্মানিত মাওলানা, আশা করি আল্লাহর অনুগ্রহে আপনি সুস্থ ও ভালো আছেন। আপনার কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পেশ করছি—অনুগ্রহ করে দিকনির্দেশনা দিয়ে উপকৃত করবেন।

আমরা, হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান হুসাইনি (রহ.)-এর ছাত্ররা, তাঁর জীবনের বিভিন্ন গুণ, বৈশিষ্ট্য ও অবদান তুলে ধরে তাঁর মনীষা আলোচনা করছি। কিন্তু অপর একটি পক্ষ থেকে এর প্রতিক্রিয়া আসছে। তারা আমাদেরকে ভর্ৎসনা করে বলছে—“তিনি সাহাবায়ে কেরাম (রিদওয়ানুল্লাহি আলাইহিম আজমাঈন)-সম্পর্কে যেসব মন্তব্য করেছেন, এরপরও তোমরা কীভাবে তাঁর গুণাবলি বর্ণনা করতে পারো? তোমাদের কি সাহাবাদের ব্যাপারে কোনো ঈমানি স্পৃহা নেই?”—ইত্যাদি নানা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।

এমনও বলা হচ্ছে—তাঁর উপর লেখা বা আলোচনা করা উচিত নয়; তা না হলে তাঁর মতাদর্শের প্রতি নরম মনোভাব তৈরি হবে, এমনকি তাঁর মত গ্রহণ করার সমতুল্য হয়ে যাবে।

অতএব, আপনার কাছে বিনীত অনুরোধ—আপনি আমাদেরকে সংযম ও ভারসাম্যের সঠিক পথ দেখিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদান করুন।

|| উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু।

আপনার প্রশ্নটি প্রকৃতপক্ষে কোনো একক ব্যক্তি বা বিশেষ কোনো ব্যক্তিত্বকে কেন্দ্র করে নয়; বরং এটি আমাদের দ্বীনি সমাজে মতভেদ পরিচালনার আদব ও ইসলামী নৈতিকতার এক মৌলিক নীতির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত।

নিশ্চয়ই, কোনো আলেম, দাঈ বা শায়খের মতামতের সঙ্গে মতভেদ করা বৈধ—বরং যদি কোনো মত কুরআন, সুন্নাহ বা উম্মাহর ইজমার পরিপন্থী মনে হয়, তাহলে আহলে ইলমের জন্য তা দলীল, ন্যায় ও সততার সঙ্গে স্পষ্ট করা দায়িত্ব। এটাই আহলে সুন্নাহর সুপ্রতিষ্ঠিত পথ। কেননা, নিষ্পাপতা কেবল নবীগণের জন্য নির্ধারিত; নবী ছাড়া অন্য কারো কথা গ্রহণও করা যায়, আবার দলীলের ভিত্তিতে প্রত্যাখ্যানও করা যায়।

কিন্তু একই সঙ্গে এটিও এক অস্বীকারযোগ্য সত্য যে—যখন কোনো ব্যক্তি দুনিয়া থেকে বিদায় নেয়, তখন আমাদের দায়িত্বের ধরণও পরিবর্তিত হয়ে যায়। তখন মতভেদের ভাষা নয়, বরং ইসলামী শিষ্টাচারই হয়ে ওঠে মুখ্য।

এ পর্যায়ে একজন মুমিনের অন্তত দুটি দায়িত্ব বিশেষভাবে স্মরণে রাখা উচিত—
১. মৃত ব্যক্তির জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা, রহমত ও মাগফিরাত কামনা করা।
২. তাঁর পরিবার, ছাত্র, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীদের শোকের অংশীদার হওয়া; তাদের সান্ত্বনা দেওয়া এবং এমন কোনো কথা থেকে বিরত থাকা, যা তাদের দুঃখকে আরও গভীর করে।

দুঃখজনকভাবে, উপমহাদেশের কিছু মহলে মতভেদের সংস্কৃতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে—কোনো ব্যক্তির দাফনের আগেই তার বিরুদ্ধে প্রচারণা শুরু হয়ে যায়। তার ভুলত্রুটি প্রচার করা হয়, এবং তার পরিবার ও শিষ্যদেরকে কটুক্তির নিশানা বানানো হয়। এ আচরণ কুরআন-সুন্নাহসম্মত নয়, সালাফে সালেহীনের পথের সঙ্গেও এর কোনো সামঞ্জস্য নেই; বরং এটি আহলে হকের আদর্শের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

আমি পূর্বে এ বিষয়ে এক প্রবন্ধে উল্লেখ করেছি—মৃত্যুর মুহূর্তে এ ধরনের সংঘর্ষ ও দোষারোপ উম্মাহর মধ্যে ফিতনা, বিদ্বেষ ও বিভক্তি বাড়ায়। এতে না সত্যের সেবা হয়, না কোনো সংশোধনের পথ উন্মুক্ত হয়।

আপনার সম্মানিত শিক্ষক, হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ সালমান হুসাইনি (রহ.)-এর প্রসঙ্গে যদি বলা হয়—আপনারা তাঁর জীবনের সেই দিকগুলো তুলে ধরেন, যেগুলো কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে প্রশংসনীয়—যেমন দ্বীনের খেদমত, শিক্ষাদান, দাওয়াহ, দ্বীনি স্পৃহা, দানশীলতা, উত্তম চরিত্র ইত্যাদি—তাহলে এতে শরিয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি নেই। একজন মানুষের ভালো দিকের স্বীকৃতি দেওয়া মানে তার প্রতিটি মত, প্রতিটি ইজতিহাদ বা প্রতিটি অবস্থানকে সমর্থন করা নয়। ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি সর্বদা ভালোকে ভালো এবং ভুলকে ভুল বলেই বিবেচনা করে।

তবে একটি মূলনীতি কখনো ভোলা উচিত নয়—আমাদের শিক্ষক ও শায়খগণ যতই সম্মানিত হোন না কেন, আমাদের প্রকৃত আনুগত্য একমাত্র আল্লাহ তাআলা ও তাঁর রাসূল ﷺ-এর প্রতি। কোনো ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা যেন আমাদেরকে তার ভুলকে সঠিক প্রমাণ করতে প্রলুব্ধ না করে; আবার কারো সঙ্গে মতভেদ যেন আমাদেরকে তার সব গুণ অস্বীকার করতে বাধ্য না করে। এটিই ন্যায়, এটিই আহলে সুন্নাহর পথ।

একইভাবে, যেসব ভাই এ সময় মৃত ব্যক্তির পরিবার, ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ীদের কষ্ট দিচ্ছেন—তাদের প্রতিও বিনয়ের সঙ্গে আহ্বান জানাই: আপনারা নিজেদের আচরণ পুনর্বিবেচনা করুন। যদি কারো চিন্তা বা মতের সঙ্গে আপনার ভিন্নমত থাকে, তাহলে তা নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ লিখুন, প্রমাণভিত্তিক আলোচনা করুন। কিন্তু মৃত্যুর মুহূর্তে মানুষের দুঃখকে বাড়িয়ে দেওয়া—এটি না দাওয়াহ, না সংশোধন, না সততা, না উত্তম চরিত্র।

এখানে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও বিশেষভাবে বিবেচনার দাবি রাখে,

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *