স্ত্রীর গোপনীয়তার অধিকার ও পিতামাতার খে

প্রশ্ন করা হয়েছে: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
শায়খ আকরাম নদভী
উত্তরদাতা

শায়খ আকরাম নদভী

অধ্যক্ষ, আল-সালাম ইনস্টিটিউট · প্রতিষ্ঠাতা স্কলার, এএসআই রিসার্চ সেন্টার ফর ইসলামিক স্টাডিজ

উত্তর দেওয়া হয়েছে: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫


————- | প্রশ্ন: আমার ছাত্র আবু হানিফা দিলওয়ার জিজ্ঞেস করেছেন: আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, সম্মানিত শায়খ। আপনার লেখা স্ত্রীর আলাদা থাকার অধিকার এর বিষয়ে প্রবন্ধের পর বাংলায় অনেক প্রশ্ন উঠেছে। আমি সেগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরছি। বাংলাদেশে, বিশেষত গ্রামে, আর্থিক কারণে অনেক পরিবার একসাথে থাকে। বাবা–মা ছেলে ও পুত্রবধূর উপর নির্ভরশীল। তাই সবাইকে আলাদা থাকতে বলা অনেকের কাছে অবাস্তব বা অসম্মানের মনে হয়। কিন্তু স্বামী–স্ত্রীরও গোপনীয়তা ও সীমার প্রয়োজন। মুসলমানরা কীভাবে আলাদা থাকা, পিতামাতার খেদমত এবং পারিবারিক সৌহার্দ্য—সব মিলিয়ে সামঞ্জস্য বজায় রাখবে? | উত্তর: ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আপনার প্রশ্নটি খুব গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার পরিবারগুলোর জন্য। ইসলাম স্ত্রীর অধিকার, স্বামীর দায়িত্ব এবং পিতামাতার হক—সবই স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করেছে। ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি, যাতে ন্যায়বিচার ও শান্তি বজায় থাকে। তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী যেখানে তোমরা বসবাস কর সেখানে তাদেরকেও বাস করতে দাও।” (সূরা আত-তালাক ৬৫:৬) এর মানে হলো স্ত্রীকে এমন জায়গা দিতে হবে যেখানে তিনি সম্মানিত, নিরাপদ ও হস্তক্ষেপমুক্ত থাকেন। ফিকহবিদরা একমত—স্ত্রী বাধ্য নন স্বামীর বাবা–মা বা আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে, যদি এতে তার গোপনীয়তা নষ্ট হয়। দ্বিতীয়ত, শরীয়তে স্ত্রী শ্বশুর–শাশুড়ির খেদমতে বাধ্য নন। এ দায়িত্ব তাদের ছেলে অর্থাৎ স্বামীর উপর। স্ত্রী স্বেচ্ছায় করলে এটি সওয়াবের কাজ, কিন্তু তাকে বাধ্য করা যাবে না। তার প্রধান দায়িত্ব স্বামী ও সন্তানদের প্রতি। তৃতীয়ত, বিররুল ওয়ালিদাইন (পিতামাতার হক আদায়) সন্তানের নিজের দায়িত্ব। কুরআনে আদেশ এসেছে পিতামাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ও যত্ন করার (সূরা আল-ইসরা ১৭:২৩)। কিন্তু এ দায়িত্ব পুত্রবধূর নয়, বরং সন্তানের। তাই ছেলেকেই ব্যক্তিগতভাবে, আর্থিকভাবে বা প্রয়োজন হলে উপযুক্ত ব্যবস্থার মাধ্যমে পিতামাতার খেদমত করতে হবে। তবে যেখানে একসাথে থাকার সংস্কৃতি প্রচলিত, সেখানে হঠাৎ আলাদা হওয়া কষ্ট বা ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে। তাই স্বামী চেষ্টা করবে স্ত্রীকে আলাদা ব্যবস্থা দেওয়ার—সামর্থ্য থাকলে আলাদা বাসা, না হলে বড় বাড়ির ভেতরেই আলাদা অংশ। একই সাথে বাবা–মার যত্নও ভালোবাসা ও দায়িত্ব নিয়ে চালিয়ে যাবে। এভাবে চললে স্ত্রীর সম্মান রক্ষা হবে, বাবা–মার অধিকার পূর্ণ হবে এবং পরিবারে শান্তি বজায় থাকবে। ————- ক্যাটাগরি : পারিবারিক জীবন, ফাতাওয়া, পরামর্শ , —- ✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড ✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ — 🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇 https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w স্ত্রীর গোপনীয়তার অধিকার এবং পিতামাতার যত্ন নেওয়ার দায়িত্ব ——————– | প্রশ্ন: আমার ছাত্র আবু হানিফা দিলওয়ার আমাকে নিম্নলিখিত প্রশ্নটি করেছেন: আস-সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিত শাইখ। আপনার সেই প্রবন্ধের আলোকে যেখানে আপনি বলেছেন স্ত্রী আলাদা থাকার জায়গার অধিকারী, বাংলাভাষী ফেসবুক পেইজে এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন এসেছে। আমি সেগুলোর সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরছি। বাংলাদেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় বড় পরিবার একসাথে বসবাস করে। পিতামাতা দৈনন্দিন যত্নের জন্য ছেলে ও পুত্রবধূদের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। অনেকের ধারণা, প্রতিটি দম্পতিকে আলাদা থাকার পরামর্শ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় এবং কখনও কখনও এটি পিতামাতার প্রতি অসম্মানজনক মনে হতে পারে। আবার দম্পতিদেরও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সীমারেখা প্রয়োজন। মুসলমানরা কীভাবে আলাদা থাকার বিষয়টিকে পিতামাতার অধিকার আদায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখবে? | উত্তর: ওয়া ‘আলাইকুম আস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। তোমার প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছে, যা অনেক মুসলিম পরিবার বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় মুখোমুখি হয়। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, স্বামীর দায়িত্ব এবং পিতামাতার হক সম্পর্কিত সুস্পষ্ট নীতিমালা দিয়েছে। এসব দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি, যাতে ন্যায় ও সম্প্রীতি অটুট থাকে। প্রথমত: ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে, স্ত্রীকে স্বাধীন ও ব্যক্তিগত আবাসন দেওয়া স্বামীর মৌলিক দায়িত্ব। আল-কুরআনে বলা হয়েছে: “তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) বসবাসের ব্যবস্থা করো যেখানে তোমরা থাকো, তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী।” (সূরা আত-তালাক ৬৫:৬) এ থেকে বোঝা যায়, স্ত্রী এমন একটি ব্যক্তিগত জায়গার অধিকার রাখেন যেখানে তিনি নিরাপদ, সম্মানিত এবং হস্তক্ষেপমুক্ত অনুভব করবেন। চার মাযহাবের ফকিহগণও একমত যে, যদি গোপনীয়তা ও স্বস্তি ব্যাহত হয় তবে স্ত্রীকে স্বামীর পিতামাতা, ভাইবোন বা অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যাবে না। দ্বিতীয়ত: স্ত্রীকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা বা তাদের যত্ন নেওয়ার কোনো শরঈ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই দায়িত্ব পুরোপুরি তাদের ছেলে, অর্থাৎ স্ত্রীর স্বামীর ওপর বর্তায়। অবশ্যই স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় সদিচ্ছা থেকে তাদের সাহায্য করেন, তবে এটি প্রশংসনীয় এবং সওয়াবের কাজ হবে, কিন্তু এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। স্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব তাঁর স্বামী ও সন্তানদের প্রতিই সীমাবদ্ধ। তৃতীয়ত: বিররুল ওয়ালিদাইন—অর্থাৎ পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও দায়িত্ব পালন—এটি সন্তানের নিজের ওপর ফরজ। কুরআন পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়া, সম্মান দেখানো এবং যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে (সূরা আল-ইসরা ১৭:২৩)। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এই দায়িত্ব পুত্রবধূর কাঁধে চাপানো হবে। বরং ছেলেই নিজ উদ্যোগে তাঁর পিতামাতার খরচ বহন ও যত্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করবে—নিজ হাতে, আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে, বা উপযুক্ত সাহায্যের ব্যবস্থা করে। একইসাথে, সেই সমাজে যেখানে প্রসারিত পরিবার একত্রে বসবাস করে, সেখানে প্রজ্ঞা ও সংবেদনশীলতা অপরিহার্য। হঠাৎ আলাদা হয়ে যাওয়া, কিন্তু পিতামাতার প্রতি যত্ন না দেখানো—এটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। তাই স্বামীর উচিত স্ত্রীকে তাঁর নিজস্ব গোপনীয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এটি হতে পারে আলাদা বাড়ি, আর্থিক অসুবিধা থাকলে একই পরিবারের ভেতরে আলাদা অংশ। আর পাশাপাশি, স্বামীকে করুণা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তাঁর পিতামাতার হক আদায় করতে হবে। এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি স্ত্রীকে মর্যাদা দেয়, পিতামাতার অধিকার নিশ্চিত করে এবং পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখে। ————- ক্যাটাগরি : পারিবারিক জীবন, ফাতাওয়া, পরামর্শ , —- ✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড ✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ — 🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇 https://t.me/DrAkramNadwi/7001

| প্রশ্ন:

আমার ছাত্র আবু হানিফা দিলওয়ার আমাকে নিম্নলিখিত প্রশ্নটি করেছেন:

আস-সালামু ‘আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, সম্মানিত শাইখ।

আপনার সেই প্রবন্ধের আলোকে যেখানে আপনি বলেছেন স্ত্রী আলাদা থাকার জায়গার অধিকারী, বাংলাভাষী ফেসবুক পেইজে এ নিয়ে অনেক প্রশ্ন এসেছে। আমি সেগুলোর সারসংক্ষেপ নিচে তুলে ধরছি।

বাংলাদেশে, বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় বড় পরিবার একসাথে বসবাস করে। পিতামাতা দৈনন্দিন যত্নের জন্য ছেলে ও পুত্রবধূদের ওপর নির্ভরশীল থাকেন। অনেকের ধারণা, প্রতিটি দম্পতিকে আলাদা থাকার পরামর্শ দেওয়া বাস্তবসম্মত নয় এবং কখনও কখনও এটি পিতামাতার প্রতি অসম্মানজনক মনে হতে পারে। আবার দম্পতিদেরও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সীমারেখা প্রয়োজন। মুসলমানরা কীভাবে আলাদা থাকার বিষয়টিকে পিতামাতার অধিকার আদায়ের দায়িত্বের সঙ্গে সমন্বয় করবে এবং পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখবে?

| উত্তর:

ওয়া ‘আলাইকুম আস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

তোমার প্রশ্নটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উত্থাপন করেছে, যা অনেক মুসলিম পরিবার বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ায় মুখোমুখি হয়। ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর অধিকার, স্বামীর দায়িত্ব এবং পিতামাতার হক সম্পর্কিত সুস্পষ্ট নীতিমালা দিয়েছে। এসব দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি, যাতে ন্যায় ও সম্প্রীতি অটুট থাকে।

প্রথমত: ইসলামী শরিয়তের দৃষ্টিতে, স্ত্রীকে স্বাধীন ও ব্যক্তিগত আবাসন দেওয়া স্বামীর মৌলিক দায়িত্ব। আল-কুরআনে বলা হয়েছে: “তোমরা তাদের (স্ত্রীদের) বসবাসের ব্যবস্থা করো যেখানে তোমরা থাকো, তোমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী।” (সূরা আত-তালাক ৬৫:৬)

এ থেকে বোঝা যায়, স্ত্রী এমন একটি ব্যক্তিগত জায়গার অধিকার রাখেন যেখানে তিনি নিরাপদ, সম্মানিত এবং হস্তক্ষেপমুক্ত অনুভব করবেন। চার মাযহাবের ফকিহগণও একমত যে, যদি গোপনীয়তা ও স্বস্তি ব্যাহত হয় তবে স্ত্রীকে স্বামীর পিতামাতা, ভাইবোন বা অন্যান্য আত্মীয়দের সঙ্গে থাকতে বাধ্য করা যাবে না।

দ্বিতীয়ত: স্ত্রীকে শ্বশুর-শাশুড়ির সেবা করা বা তাদের যত্ন নেওয়ার কোনো শরঈ দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। এই দায়িত্ব পুরোপুরি তাদের ছেলে, অর্থাৎ স্ত্রীর স্বামীর ওপর বর্তায়। অবশ্যই স্ত্রী যদি স্বেচ্ছায় সদিচ্ছা থেকে তাদের সাহায্য করেন, তবে এটি প্রশংসনীয় এবং সওয়াবের কাজ হবে, কিন্তু এটি তাঁর ওপর চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। স্ত্রীর প্রধান দায়িত্ব তাঁর স্বামী ও সন্তানদের প্রতিই সীমাবদ্ধ।

তৃতীয়ত: বিররুল ওয়ালিদাইন—অর্থাৎ পিতামাতার প্রতি সদাচরণ ও দায়িত্ব পালন—এটি সন্তানের নিজের ওপর ফরজ। কুরআন পিতামাতার প্রতি সদয় হওয়া, সম্মান দেখানো এবং যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে

(সূরা আল-ইসরা ১৭:২৩)।

কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এই দায়িত্ব পুত্রবধূর কাঁধে চাপানো হবে। বরং ছেলেই নিজ উদ্যোগে তাঁর পিতামাতার খরচ বহন ও যত্ন নেওয়ার ব্যবস্থা করবে—নিজ হাতে, আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে, বা উপযুক্ত সাহায্যের ব্যবস্থা করে।

একইসাথে, সেই সমাজে যেখানে প্রসারিত পরিবার একত্রে বসবাস করে, সেখানে প্রজ্ঞা ও সংবেদনশীলতা অপরিহার্য। হঠাৎ আলাদা হয়ে যাওয়া, কিন্তু পিতামাতার প্রতি যত্ন না দেখানো—এটি বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করতে পারে। তাই স্বামীর উচিত স্ত্রীকে তাঁর নিজস্ব গোপনীয়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা। এটি হতে পারে আলাদা বাড়ি, আর্থিক অসুবিধা থাকলে একই পরিবারের ভেতরে আলাদা অংশ। আর পাশাপাশি, স্বামীকে করুণা ও দায়িত্বশীলতার সাথে তাঁর পিতামাতার হক আদায় করতে হবে।

এই ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি স্ত্রীকে মর্যাদা দেয়, পিতামাতার অধিকার নিশ্চিত করে এবং পারিবারিক সম্প্রীতি বজায় রাখে।

————-

মূল : ড. মোহাম্মদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।