আপনার প্রভুর মহিমা ঘোষণা করুন

এআই-অনূদিত — মূল উৎস দেখুন আকিদা ও বিশ্বাসআধ্যাত্মিকতাচরিত্র ও নৈতিকতা
Honour Your Lord

https://t.me/DrAkramNadwi/6154

بسم الله الرحمن الرحيم.

❝
——————–

এই সেই সত্যের বর্ণনা, যা প্রতিটি সৃষ্টির প্রকৃতির গভীরে গোপন রহস্যরূপে নিহিত, এবং প্রতিটি শিরা-উপশিরায় প্রবাহমান। এই সেই সত্যের ঘোষণা, যা প্রতিটি গোপনে প্রকাশমান এবং প্রতিটি প্রকাশে গোপন, যার সাক্ষ্য দেয় আকাশ ও পৃথিবী, যার গান গায় পাথর, গাছপালা ও বন্য প্রাণীরা; যার সংগীত গেয়ে সবুজ ঘাস দুলে ওঠে এবং পাখিরা সুরেলা কণ্ঠে চিৎকার করে ওঠে। যার দ্বারা জ্বিন, মানুষ ও ফেরেশতাদের আত্মা উজ্জীবিত হয়। কাফিররা তাদের মুখে এই সত্যকে অস্বীকার করে, কিন্তু তাদের দেহ, হৃদয় এবং বুদ্ধি এই সত্যের সামনে সিজদা করে।

সে সত্য কী? কান খোলো এবং মনোযোগ দিয়ে শোনো — সেই সত্য হলো, তোমার প্রভু মহানতর, মহত্ত্ব কেবল তাঁরই জন্য উপযুক্ত, গরিমা কেবল তাঁরই প্রাপ্য। তিনি একক, এবং কাউকেই প্রয়োজন নেই তাঁর। তাঁর ব্যতীত যা কিছু আছে, সবই তাঁর সৃষ্ট, তাঁর মালিকানাধীন, তাঁরই মুখাপেক্ষী, এবং তাঁর দ্বারাই টিকে আছে। তিনি সকলের ভরসাস্থল, এবং সব ভরসার ভরসা।

হে নিজেদের কৃতিত্ব গেয়ে বেড়ানো লোকেরা! তোমাদের প্রশংসা মিথ্যা, কারণ তোমরা কিছুই ছিলে না — তিনিই তোমাদের সৃষ্টি করেছেন। তোমরা গুণহীন ছিলে, তিনিই তোমাদের গুণবান করেছেন। তোমরা অক্ষম ছিলে, তিনিই তোমাদের যোগ্যতা দিয়েছেন। মনে রেখো — সেই দাতা যখন ইচ্ছা করেন, তোমাদের গুণাবলী তো দূরে থাক, তোমাদের অস্তিত্বও কেড়ে নিতে পারেন। তখন অস্তিত্বের কোনো চিহ্নও তোমাদের গুণ ও সত্ত্বা ফিরিয়ে দিতে পারবে না।

হে পূর্বপুরুষদের গৌরবগাথা শুনানো লোকেরা! মিথ্যা বলা বন্ধ করো। বলো, তোমাদের পূর্বসূরিরা কোথায়? গিয়ে দেখো তাদের কবরগুলো। যদি খুঁড়ো, পাবে না কিছুই, কেবল কয়েকটা পচা হাড় ছাড়া। কোথায় সেই বাহু, যা তরবারি ও বর্শার খেলা খেলত? কোথায় সেই মস্তিষ্ক, যার চিন্তায় মানুষ মোহাচ্ছন্ন হয়ে পড়ত?

হে শিক্ষকদের ও বুযুর্গদের কীর্তিগাথা প্রচারকারী লোকেরা! তোমরা তাদের প্রশংসায় অতিরঞ্জন করেছ, এমন কথা তাদের নামে বলেছ, যা তারা আসলে ছিলেন না। কোথায় তাদের সেই বুদ্ধি, যা পাহাড়সম জ্ঞান ও কলার ঝরনা প্রবাহিত করত? আজ যদি তোমরা তাদের কাছে ‘কুদূরীর’ প্রথম শব্দ জিজ্ঞাসা করো, তারা বলতে পারবে না। যদি ‘কায়েদা বাগদাদি’ খুলে দেখাও, তাদের জিভ বোবা হয়ে যাবে। যদি চোখে চোখ রাখো, তারা তোমাদের চিনতেও অস্বীকার করবে। যদি কানে আজান দাও, তারা তোমার কণ্ঠে অপরিচিত হয়ে থাকবে।

হে কুসংস্কার ও কল্পনার শৃঙ্খলে আবদ্ধ লোকেরা! হে যারা কুসংস্কারের শেকলকেই স্বাধীনতা মনে করো! আমাদের অন্তরের কথা আমরা মুখে আনবই, আমরা সত্যের স্লোগান তুলবই — যতক্ষণ না তোমরা আমাদের গালি দাও, যন্ত্রণা দাও, আমরা কষ্ট সহ্য করব, কিন্তু তোমাদের খুশি করতে গিয়ে কখনও সত্য বলা ছাড়ব না। আমরা বাস করি তোমাদের এই পৃথিবীতেই, কিন্তু আমাদের প্রশিক্ষণ হয়েছে বাইতুল্লাহর কোলে। আমরা পড়েছি তোমাদের গ্রন্থ, কিন্তু আমাদের অন্তরে লিপিবদ্ধ আছে সেই পবিত্র সফরের সত্য, যে সফর জাতিগোষ্ঠীর গ্রন্থাগারের উপর সত্যের অক্ষরে দাগ কেটে দিয়েছে। মনে রেখো — আমরা তোমাদের দুনিয়ার মন্দিরে একত্ববাদের আওয়াজ তুলতেই থাকব।

শোনো — আবার শোনো — এবং বারবার শোনো! চিরস্থায়ী কেবল তোমাদের প্রতিপালক, আর সব কিছুর শেষ পরিণতি ধ্বংস। কেবল তাঁরই নাম অবশিষ্ট থাকবে। তাঁরই নাম উচ্চারণ করো, তাঁর মহিমা প্রকাশ করো। যখন মানুষ তাদের নিজেদের প্রশংসা করে, তখন তোমরা করো রব্বে জুল-জালালের হামদ। যখন জাতিগুলো তাদের নেতাদের ও পেশওয়াদের প্রশংসা করে, তখন তোমরা তোমাদের প্রভুর প্রশংসা করো। তোমরা যখন তোমাদের পূর্বপুরুষদের স্মরণ করো, তার চেয়েও বেশি স্মরণ করো তাঁকে — যিনি সত্যিকার স্মরণের যোগ্য। যার স্মরণই জীবন, যার প্রশংসাই পুরস্কার।

যখন তোমরা এই সত্যকে স্বীকার করো, তখন পুরো সৃষ্টি তোমাদের স্বীকারোক্তির সঙ্গে সুর মিলিয়ে ফেলে।

হে আল্লাহ! তুমি মহান, এবং তুমি ছাড়া আর কেউ মহান নয়। সিকান্দার ও খিজিরের গল্প কেবল কল্পনা ও কুসংস্কার। হায়! কেউ যদি তাদের বলত যে, আমাদের চশমায়ে হায়ওয়ান (অমৃতের ঝর্ণা) হলো “আল্লাহু আকবার”।
তুমি ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তোমার ইবাদতের আহ্বান ছাড়া প্রতিটি আহ্বান একেকটি জাদু, সামরির যাদু, অপবাদ ও জুলুম, এবং মিথ্যা ও প্রতারণা।
ইবরাহিম (আঃ) বলেছিলেন, আমি আমার মুখ ঘুরিয়ে নিয়েছি তাঁর দিকে, যিনি আকাশ ও পৃথিবীর স্রষ্টা”— এভাবে তিনি তাঁর অন্তর্দৃষ্টি তুলে ধরেছিলেন।
আমরাও পুনঃপুন বার্তা দেই সেই ইবরাহিমি কালেমার, এবং বলে যাই — সত্য এই যে, কেবল ইবরাহিম নন ইবরাহিমি, বরং গোটা সৃষ্টিই ইবরাহিমি।

——————–

✍ মূল : ড. আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড, ইউকে।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

——————–

এ সেই সত্যের বর্ণনা, যা প্রতিটি সৃষ্টির অন্তঃকরণে গোপনে লুকানো অথচ প্রতিটি সত্তায় উন্মোচিত; যা প্রতিটি শিরা-উপশিরায় প্রবাহমান; এ সেই বাস্তবতার ঘোষণা, যা অন্তরের গভীরে অদৃশ্য হয়েও জগতে স্পষ্ট, আবার জগতে স্পষ্ট হয়েও অন্তরে অদৃশ্য। আসমান-জমিন এর সাক্ষ্য দেয়; জড়-নির্জীব, উদ্ভিদ ও পশুপাখি এর সুরে গেয়ে ওঠে; সবুজ ঘাস সেই গানে দোল খায়, পাখিরা সুরেলা কণ্ঠে তা ঘোষণা করে। জিন-ইনসান ও ফেরেশতাদের প্রাণ এ সত্যে সিক্ত। কাফেররা মুখে অস্বীকার করে, কিন্তু তাদের দেহ, তাদের হৃদয়, তাদের বুদ্ধি—সবই এই সত্যের সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়ে।

সে সত্য কী? কান খোলো এবং শোনো!
সত্য এটাই—তোমাদের রবই সর্বশ্রেষ্ঠ। মহিমা ও গরিমা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। শ্রেষ্ঠত্ব তাঁরই অধিকার। তিনি একক, কারও মুখাপেক্ষী নন। তাঁর বাইরে যা কিছু আছে সব তাঁরই সৃষ্টি, তাঁর মালিকানাধীন, তাঁরই মুখাপেক্ষী এবং তাঁরই ভরসায় টিকে আছে। তিনি সবার সহায়, এবং সকল সহায়তাকারীর সহায়।

হে নিজেদের কৃতিত্বের গান গাওয়া মানুষ! তোমাদের প্রশংসা মিথ্যা। তোমরা কিছুই ছিলে না, তিনিই তোমাদের বানিয়েছেন। তোমরা ছিলে অক্ষম, তিনিই তোমাদের সামর্থ্য দিয়েছেন। তোমরা ছিলে অদক্ষ, তিনিই তোমাদের দক্ষ বানিয়েছেন। মনে রেখো, তিনি যখন খুশি তোমাদের গুণাবলি কেড়ে নিতে পারেন, এমনকি তোমাদের অস্তিত্বও বিলীন করে দিতে পারেন। তখন কোনো শক্তি তোমাদের অস্তিত্ব ফিরিয়ে আনতে পারবে না।

হে পূর্বপুরুষদের কীর্তি বর্ণনাকারীরা! মিথ্যা গৌরবে লজ্জা করো। বলো তো, তোমাদের পূর্বপুরুষরা কোথায়? গিয়ে তাদের কবর দেখো, খুঁড়ে দেখো—পাবে কেবল ভাঙা-চোরা হাড়। কোথায় সেই বাহু, যা তরবারি-ভাল্লুক খেলা করত? কোথায় সেই মস্তিষ্ক, যা চিন্তার যাদুতে মানুষকে মোহিত করত?

হে শিক্ষকদের ও পীরদের কর্মযজ্ঞ প্রচারকারীরা! তোমরা প্রশংসায় বাড়াবাড়ি করেছ, তাদের সঙ্গে এমন গুণ জুড়েছ, যা তাদের ছিলই না। কোথায় তাদের সেই বুদ্ধি, যা পাহাড় থেকে জ্ঞানের ঝরনা বইয়ে দিত? আজ তাদের সামনে কুদুরির প্রথম লাইন খুলে ধরো, কিছুই বলতে পারবে না। তাদের কাছে কায়দা বাগদাদি খোলো, জিভ আটকে যাবে। তাদের চোখের দিকে তাকাও, চিনতে অস্বীকার করবে। কানে আজান দাও, তোমাদের সুর তাদের কাছে অপরিচিত হয়ে থাকবে।

হে ভ্রান্ত ধারনা ও কুসংস্কারের শৃঙ্খলে বাঁধা মানুষ! হে বিভ্রান্তিকে স্বাধীনতা মনে করা জনগণ! আমরা হৃদয়ের কথা ঠোঁটে আনবই, সত্যের স্লোগান দেবই। তোমরা গালি দাও, কষ্ট দাও, আমরা সহ্য করব। কিন্তু তোমাদের খুশি করার জন্য সত্য বলা থেকে বিরত হব না। আমরা বাস করি তোমাদেরই দুনিয়ায়, কিন্তু আমাদের লালনপালন হয়েছে বায়তুল্লাহর কোলে। আমরা উল্টেপাল্টে দেখেছি তোমাদের গ্রন্থসমূহ, কিন্তু আমাদের অন্তরে খোদিত রয়েছে সেই পবিত্র সফরের সত্য, যা বহু জাতির গ্রন্থাগারে চিরস্থায়ী রেখা টেনে দিয়েছে। মনে রেখো, আমরা তোমাদের মন্দিরসমাজে থেকেও তাওহীদের আওয়াজ তুলতে থাকব।

শোনো, এবং বারবার শোনো—অটল-অবিনশ্বর কেবল তোমাদের রব। আর সবকিছুর পরিণতি ধ্বংস। কেবল তাঁরই নাম চিরন্তন। তাঁর নাম স্মরণ করো, তাঁর মহিমা ঘোষণা করো। যখন মানুষ নিজেদের প্রশংসায় মত্ত হয়, তখন তোমরা তোমাদের রবের প্রশংসা করো। যখন জাতিগুলো তাদের নেতা-নেত্রীর গুণগান করে, তখন তোমরা তোমাদের রবের গুণগান করো। যখন তোমরা পূর্বপুরুষদের স্মরণ করো, তখন আরও বেশি স্মরণ করো সেই সত্তাকে, যিনি স্মরণযোগ্য, যাঁর স্মরণ জীবন, যাঁর প্রশংসাই অনন্ত পুরস্কার।

যখন তোমরা এ সত্যের স্বীকৃতি দাও, তখন সমগ্র সৃষ্টিজগত সেই স্বীকৃতিতে তোমাদের সঙ্গে সুর মেলায়।

হে আল্লাহ! তুমি মহান, আর তোমাকে ছাড়া কোনো মহান নেই। সিকান্দার ও খিজরের কাহিনি নিছক মিথকথা। যদি কেউ তাদের জানাতো—আমাদের জীবন-স্রোত, আমাদের অমরতার উৎস কেবল “আল্লাহু আকবার।”

হে আল্লাহ! তুমি-ই একমাত্র সত্য উপাস্য, তোমাকে ছাড়া আর কোনো উপাস্য নেই। তোমার ইবাদতের আহ্বান ছাড়া সব আহ্বানই ভেলকি, সামিরির জাদু, মিথ্যা ও প্রতারণা। ইবরাহিম বলেছিলেন—“আমি আমার মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি তাঁর দিকে, যিনি আসমান ও জমিনের স্রষ্টা।”—এ কথা বলেই তিনি নিজের দূরদর্শিতা প্রমাণ করেছিলেন। আমরাও সেই ইবরাহিমি কলেমা বারবার পুনরাবৃত্তি করি।

সত্য এটাই—শুধু ইবরাহিমই ইবরাহিমি ছিলেন না, বরং গোটা সৃষ্টিজগতই ইবরাহিমি।

————–
ক্যাটাগরি : ইসলামি চিন্তাধারা, আআত্মশুদ্ধি, উপদেশ।
—
✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7127

কে আসলে কুফর থেকে মুক্ত?
★ বিশেষ
আকিদা ও বিশ্বাসসমসাময়িক প্রসঙ্গ

কে আসলে কুফর থেকে মুক্ত?

ইংল্যান্ডের একটি মসজিদে ইমামের পদটি শূন্য হয়ে গেলে মসজিদের ট্রাস্টিবৃন্দ আমাদের এক বন্ধুকে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দিলেন। বেশ কিছু দিন তিনি নামাজ পড়ালেন, বাচ্চাদের কুরআন-তালিম…

আরও পড়ুন →
মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য দিকনির্দেশনা
★ বিশেষ
আধ্যাত্মিকতাচরিত্র ও নৈতিকতা

মুসলিম সংখ্যালঘুদের জন্য দিকনির্দেশনা

সম্প্রতি একজন একাডেমিক আমাকে অনুরোধ করেছিলেন সংখ্যালঘু হিসেবে বসবাসরত মুসলিমদের পরিস্থিতি সম্পর্কে চিন্তা করতে, যারা প্রাতিষ্ঠানিক অবিচার, প্রান্তিকীকরণ এবং কিছু ক্ষেত্রে জীবন ও সম্পত্তির…

আরও পড়ুন →
একটি অস্থির যুগে পথভ্রষ্ট আত্মা
আধ্যাত্মিকতাচরিত্র ও নৈতিকতা এআই-অনূদিত

একটি অস্থির যুগে পথভ্রষ্ট আত্মা

এই যুগে মানুষ এমন সব শব্দ শুনছে যা তার পূর্বপুরুষেরা দীর্ঘ শতাব্দী ধরে শোনেনি; লোহার শব্দ যখন তা নড়ে, যন্ত্রের শব্দ যখন তা কাজ…

আরও পড়ুন →