AkramNadwi

শিরোনাম : চেয়ারে বসে নামাজ পড়া।———-

শিরোনাম : চেয়ারে বসে নামাজ পড়া।———-

শিরোনাম : চেয়ারে বসে নামাজ পড়া।
———-

|| প্রশ্ন:

ড. বদরুদ্দীন সাহেব নিম্নলিখিত প্রশ্ন করেছেন—
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,
আশা করি আপনি ভালো আছেন। এই ক’দিন মসজিদে নামাজের সময় চেয়ারের ব্যবহার বেশ সাধারণ হয়ে উঠেছে। কেউ কেউ এটিকে ঠিক মনে করেন না। এ বিষয়ে আপনার কী মত? অনুগ্রহ করে জবাব দান করলে কৃতজ্ঞ হব।

|| উত্তর:

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন—

“صل قائماً، فإن لم تستطع فقاعداً، فإن لم تستطع فعلی جنب”
অর্থাৎ, “নামাজ দাঁড়িয়ে পড়ো, যদি সে সামর্থ্য না থাকে তবে বসে পড়ো, আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে কাত হয়ে পড়ো।”
(বুখারী শরীফ)

এই হাদিস থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে নামাজের আসল ও মূল ভঙ্গি হলো দাঁড়িয়ে পড়া। যদি দাঁড়ানো সম্ভব না হয়, তবে মাটিতে বসে নামাজ পড়া সুন্নত ও উত্তম। আর যদি তাও সম্ভব না হয় তবে কাত হয়ে নামাজ পড়তে হবে।

চেয়ারে বসে নামাজ পড়া কয়েকটি দিক থেকে ভাববার বিষয়—

১. বিনয় ও খুশুর বিপরীতে:
নামাজের প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর সামনে বিনয়, নত হওয়া এবং ভগ্নহৃদয়ে দাঁড়ানো। মাটিতে বসা এক ধরনের নম্রতা ও বিনয়ের প্রকাশ। কিন্তু চেয়ারে বসা একরকম উঁচু অবস্থায় আরামদায়ক ভঙ্গি, যা নামাজের রুহ বা আত্মার পরিপন্থী।

২. কাতার ভেঙে যাওয়া:
জামাতে নামাজে কাতার সোজা ও সমান রাখা অত্যন্ত জরুরি এবং শরীয়তের জোরালো নির্দেশ। চেয়ারে বসা লোকদের কারণে কাতার সোজা থাকে না, এতে শৃঙ্খলা নষ্ট হয়, যা সুন্নতের বিরুদ্ধে।

৩. অযথা রেওয়াজ ছড়িয়ে পড়া:
শুরুর দিকে কেবল অতি প্রয়োজনীয় কিছু মানুষ চেয়ার ব্যবহার করতেন। এখন এটি সাধারণ সুবিধা হিসেবে ধরা হচ্ছে। ফলে মসজিদে চেয়ারের সংখ্যা বেড়ে গেছে। অথচ যদি মানুষকে মাটিতে বসে নামাজ পড়তে উৎসাহ দেওয়া হয় তবে অধিকাংশই সেটাই করবে, এবং চেয়ারের প্রয়োজনও কমে যাবে।

সুতরাং আমার বিনম্র মত হলো:
শরীয়তের মেজাজ অনুযায়ী চেয়ারের বদলে মাটিতে বসে নামাজ পড়া উত্তম। আর যদি সেটাও সম্ভব না হয়, তখন চেয়ারের সহায়তা নেওয়া যেতে পারে। তবে কেউ যদি অন্য কোনো স্বীকৃত আলেমের ভিন্ন অভিমত মেনে চলে, তাহলে তাদের সঙ্গে ঝগড়া বা বিতর্ক করার প্রয়োজন নেই। কারণ মতভেদের জায়গায় সহনশীলতা ও উদারতাই শরীয়তের সৌন্দর্য।

——————–

ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, নামাজ, ফিকাহ।

✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7148

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *