৪. অমুসলিমদের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক
অমুসলিমদের সঙ্গে উত্তম সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। অমুসলিম প্রতিবেশীর খোঁজখবর রাখা, তাদের উপহার দেওয়া, অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ করা—এসব সম্পর্ককে উষ্ণ করে। প্রতিটি মহল্লায় বর্ণ, জাতিগত ও সামাজিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মুসলিম ও অমুসলিমদের যৌথ সমাবেশ আয়োজন করা যেতে পারে—যেখানে আপ্যায়নের ব্যবস্থা থাকবে এবং মানবিক, নাগরিক ও পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে মতবিনিময় হবে।
তাদের শিশু ও প্রবীণদের প্রতিও আমাদের আন্তরিক আগ্রহ প্রকাশ করা উচিত। সম্পর্ক যত দৃঢ় হবে, গণমাধ্যম ও ইসলামবিরোধী সংগঠনগুলোর নেতিবাচক প্রভাব ততটাই হ্রাস পাবে।
৫. ধৈর্য ও সংযমের অনুশীলন
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের অসীম ধৈর্য ও সহনশীলতা অবলম্বন করতে হবে। আমাদের উত্তেজিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। ধর্মীয় ও অ-ধর্মীয় শোভাযাত্রা আমাদের এলাকায় এনে প্ররোচিত করা হবে, উপাসনালয়গুলোকে বিতর্কে জড়ানো হবে। এসব মুহূর্তে আমাদের উত্তেজনা এড়িয়ে চলতে হবে; স্লোগান ও শোরগোলের জবাব দিতে হবে নীরব স্থিরতায়।
ইরাক ও সিরিয়ার অভিজ্ঞতা থেকে আমাদের বিরোধীরা নতুন কৌশল খুঁজে পেয়েছে—মুসলিম ও অমুসলিম সংঘর্ষের পরিবর্তে মুসলমানদের অভ্যন্তরীণ মতভেদ উসকে দেওয়া এবং তাদের পরস্পরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেওয়া। আমরা ইতিহাসের এক সংকটময় সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। নিজেদের মতভেদকে পাশে রেখে উম্মাহর জন্য কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।
শিয়া-সুন্নি মতভেদ, দেওবন্দি-বেরেলভি বা সালাফি-অসালাফি পছন্দ, এসবকে শ্রেণিকক্ষের আলোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত। মসজিদ ও জনসমাবেশে আমাদের সাম্প্রদায়িক বিভাজন ভুলে দ্বীনের মৌলিক বিষয়ে ঐক্য জোরদার করতে হবে। জাতির সামগ্রিক কল্যাণে ব্যক্তিগত ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিমুখে বিসর্জন দেওয়ার শিক্ষা অর্জন করতে হবে।
উপসংহার
এই চিন্তা ও প্রস্তাবগুলো তখনই ফলপ্রসূ হবে, যখন এগুলোকে আন্দোলনের রূপ দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য পৃথক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে, যারা দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে এই নির্দেশনাগুলোর প্রচার ও বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করবে।
আলহামদুলিল্লাহ, কিছু স্থানে ইতোমধ্যে এসব নীতির আলোকে কাজ শুরু হয়েছে। এখন প্রয়োজন, এসব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত ও সুশৃঙ্খল করা। আমরা দোয়া করি, আল্লাহ তাআলা আমাদের সাহস ও স্থিরতার সঙ্গে কাজ করার তাওফিক দিন এবং অনর্থক সমালোচনা ও বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ থেকে আমাদের রক্ষা করুন। আমীন।
———–
ক্যাটাগরি : ইসলামি চিন্তাধারা, জামাআত, উপদেশ, আখলাক
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/377