Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম: স্টক মার্কেট ও শরিয়তের মৌলিক নীতিমালা –

শিরোনাম: স্টক মার্কেট ও শরিয়তের মৌলিক নীতিমালা
—–
লেখক: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী
অক্সফোর্ড
১৯/৮/২০২৬

প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
আশা করি আপনি সুস্থ ও নিরাপদ আছেন। আল্লাহ তাআলা আপনাকে রহমত ও অফুরন্ত কল্যাণে রেখুন।

আমি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন পেশ করছি, আশা করি তার উত্তর দিয়ে বিশেষত ভারতীয় মুসলমান এবং সাধারণভাবে সমগ্র মুসলিম উম্মাহ-কে সঠিক শরিয়ত-সম্মত দিকনির্দেশনা দিয়ে আপনি সাওয়াবের অংশীদার হবেন, ইনশাআল্লাহ।

১. স্টক মার্কেটে ‘সুইং ট্রেডিং’ ও মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের শরিয়তসম্মত হুকুম কী?
২. যদি তা বৈধ হয়, তবে কোন কোন শরিয়তসিদ্ধ শর্ত অবশ্যই মানতে হবে?
৩. বিশেষ করে শেয়ার ক্রয়ের পর ‘কবযা’ (দখল) টেকনিক্যালি কখন সম্পূর্ণ হয়? আর সেই দিনই যদি তা বিক্রি করা হয়, তা কি শরিয়ত-সম্মত?

মুহাম্মদ ইয়াহইয়া খান নদভী

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।

সমসাময়িক বিশ্বে বিনিয়োগ ও আর্থিক লেনদেনের ধরন দ্রুত বদলাচ্ছে। স্টক মার্কেট, অনলাইন ট্রেডিং, সুইং ট্রেডিং ও মিউচুয়াল ফান্ড আজকের দিনে জনপ্রিয় বিনিয়োগ-পথ। এতে সম্ভাবনার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ফিকহি প্রশ্নও দেখা দিচ্ছে—কোন কোন পদ্ধতি বৈধ, আর কোনগুলিকে এড়িয়ে চলা জরুরি। বিশেষ করে সুইং ট্রেডিং, মিউচুয়াল ফান্ড ও শেয়ার ক্রয়ের পর কবযা সম্পন্ন হওয়ার প্রসঙ্গ ইসলামি ফিকহের নিয়মাবলি সমসাময়িক আর্থিক বাস্তবতার সঙ্গে সমন্বয় করে বুঝতে হবে।

১. স্টক মার্কেটে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়
শেয়ার বেচা-কেনা নিজেই হারাম নয়। যদি কোম্পানির মৌলিক ব্যবসা হালাল হয়, শেয়ার প্রকৃত মালিকানার প্রতিনিধিত্ব করে এবং লেনদেনে শরিয়ত-বিরোধী কোন অবৈধতা না থাকে, তাহলে তা সাধারণভাবে বৈধ। শেয়ার কিনে কেউ আসলে কোম্পানির সম্পদ ও মুনাফায় অংশীদার হয়; কেবল কাগুজে কিছুর আদান-প্রদান নয়।

যদি কোম্পানির মৌলিক কাজই হারাম (মদ, জুয়া, সুদভিত্তিক আর্থিক সেবা ইত্যাদি) হয়—এর শেয়ার কেনা বৈধ নয়। আবার মৌলিক কাজ হালাল হলেও যদি কোম্পানির আর্থিক কাঠামোতে সুদি ঋণ, সুদি বিনিয়োগ বা অন্যান্য হারাম আয়-ব্যয় থাকে, তবে সুস্পষ্ট শরিয়তসিদ্ধ স্ক্রিনিং প্রয়োগ করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

২. সুইং ট্রেডিং
সুইং ট্রেডিং মূলত লাভবান মুহূর্তের অপেক্ষায় কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে শেয়ার বেচা-কেনার কৌশল; এটি কোনো স্বতন্ত্র শরয়ি চুক্তি নয়। স্বল্প সময় ধরে শেয়ার ধরে রাখা নিজেই নিষিদ্ধ নয়। শর্ত হল—
• কোম্পানি হালাল হতে হবে,
• শেয়ার ক্রয়ের পর প্রকৃত (বা বৈধ হুকুমি) মালিকানা ও কবযা অর্জন করতে হবে,
• সুদি মার্জিন, শর্ট-সেল, হারাম ডেরিভেটিভ বা কবযাহীন প্রতিশ্রুত লেনদেন থেকে বিরত থাকতে হবে।

মার্জিন ট্রেডিংয়ে যদি ব্রোকার সুদি ঋণ দেয় এবং এর বিনিময়ে সুদ আদায় করে, তবে তা হারাম। শর্ট-সেলিংয়ে সাধারণত যে শেয়ার বিক্রি হয় তা বিক্রেতার মালিকানায় থাকেই না; নবী ﷺ-এর নির্দেশ: “যা তোমার কাছে নেই, তা বিক্রি করো না।” সুতরাং প্রচলিত শর্ট-সেল শরিয়ত-সম্মত নয়।

৩. মিউচুয়াল ফান্ড
মিউচুয়াল ফান্ডের হুকুম নির্ভর করে তার প্রকৃত গঠন, বিনিয়োগ নীতি ও সম্পদভিত্তির ওপর। যদি তহবিল হালাল ব্যবসার শেয়ার বা অন্য শরিয়ত-সম্মত সম্পদে বিনিয়োগ করে এবং চুক্তিতে কোনো হারাম শর্ত না থাকে, তাহলে বিনিয়োগ বৈধ হতে পারে। অন্যথায় সুদি বন্ড, কনভেনশনাল ইন্টারেস্ট-বেয়ারিং সিকিউরিটি বা হারাম খাতে বিনিয়োগ করা হলে তা বৈধ নয়। “ইসলামিক” বা “শরিয়াহ-সম্মত” লেবেলই যথেষ্ট নয়; বিনিয়োগনীতি, আন্ডারলাইং অ্যাসেট, ফিনান্সিয়াল রেশিও, শরিয়ত বোর্ড ও পিউরিফিকেশন মেকানিজম সবই যাচাই করা চাই।

৪. কবযার (দখলের) প্রশ্ন
শরিয়তের এক গুরুত্বপূর্ণ বিধান—কবযা সম্পন্ন হওয়ার আগেই মাল বিক্রি করা যায় না। আধুনিক লেনদেনে বস্তুগত দখল সব সময় হাত-করা হয় না; শেয়ারের মতো কাগুজে সম্পদে ‘হুকুমি কবযা’ বৈধ হতে পারে, যদি—
• ক্রয়ের পর ক্রেতাকে মালিক বলে আইন ও প্রচলিত রীতিতে স্বীকার করা হয়,
• সে শেয়ারটিতে বাধাহীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে,
• শেয়ার নির্দিষ্টভাবে তার বেনিফিশিয়াল অ্যাকাউন্টে ঝুঁকে যায়,
• পরবর্তী সেটেলমেন্ট শুধু প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা হয়।

এই প্রশ্নগুলোর জবাব থেকেই নির্ণয় হবে—কবে কবযা সম্পন্ন হল।

৫. সেইম-ডে ট্রেডিং (Same-Day Sale)
কোনো স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ ব্যবস্থায় যদি ট্রেড এক্সিকিউশনের পরই ক্রেতা বৈধ কবযা পেয়ে যায় এবং সম্পূর্ণ মালিকানা অধিকারসহ তা বিক্রি করতে পারে, তাহলে ওই দিনই বিক্রি বৈধ হতে পারে। কিন্তু যদি প্রযুক্তিগতভাবে ‘সেল’ বাটন চাপা সম্ভব হলেও শরিয়ত ও আইনগত মালিকানা এখনো স্থানান্তরিত না হয়, তাহলে তা কবযা-পূর্ব বিক্রি হিসেবে অবৈধ হবে। T+1, T+2 ইত্যাদি মেয়াদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে কবযার মানদণ্ড নয়; বরং দেখতে হবে মালিকানা ও বেনিফিশিয়াল ইন্টারেস্ট কবে হস্তান্তরিত হয়।

৬. ন্যূনতম

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *