Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : যুলহিজ্জায় চুল ও নখ কাটার বিধান ——-

শিরোনাম : যুলহিজ্জায় চুল ও নখ কাটার বিধান
———-

|| প্রশ্ন:
ক্যালিফোর্নিয়ার সম্মানিত আলেম ও মুফতি ড. উমর খান সাহেব প্রশ্ন করেছেন যে, কুরবানি করতে ইচ্ছুক ব্যক্তির জন্য যুলহিজ্জার দিনগুলোতে কুরবানি করার আগে চুল কাটা এবং নখ ছাঁটা জায়েজ নাকি না-জায়েজ?

|| উত্তর:

যুলহিজ্জার প্রথম দশ দিনে প্রায়শই এই বিষয়টি আলোচনায় আসে যে, যে ব্যক্তি কুরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তার জন্য এই দশ দিনে নখ ও চুল কাটা জায়েজ কি না। এই বিষয়টি শুরু থেকেই মতভেদপূর্ণ রয়েছে।

ইমাম আবু হানিফা, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী (একটি বর্ণনা অনুযায়ী) এবং অন্যান্য কিছু ফকিহগণের মতে, এই কাজটি মুবাহ, অর্থাৎ এই দিনগুলোতে নখ বা চুল কাটা এবং না-কাটা উভয়ই সমান।

ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অন্যান্য কিছু আলেমদের মতে, যে ব্যক্তি কুরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করেন, তার জন্য চুল ও নখ না-কাটা ওয়াজিব, এবং যদি তিনি তা করেন তবে তিনি গুনাহগার হবেন। তাদের প্রমাণ হল হযরত উম্মে সালমা রাযি. এর হাদিস, যেখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: “যখন তোমরা যুলহিজ্জার চাঁদ দেখো এবং তোমাদের মধ্যে কেউ কুরবানি করার ইচ্ছা পোষণ করে, তবে সে যেন তার চুল ও নখ না-কাটে।” (সহীহ মুসলিম)।

প্রথম মতের প্রমাণ হল হযরত আয়েশা রাযি. এর হাদিস, যা সহীহাইন ও অন্যান্য গ্রন্থে বিভিন্ন সনদ ও শব্দে বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন: “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মদীনায় থেকে কুরবানির পশু পাঠাতেন, আমি সেই পশুর গলায় কুরবানির চিহ্ন হিসেবে মালা গাঁথতাম, তারপর তিনি মুহরিমদের জন্য নিষিদ্ধ কাজগুলো থেকে বিরত থাকতেন না।”

এই মতের অনুসারীরা বলেন যে, হযরত আয়েশা রাযি. এর হাদিস অধিক শক্তিশালী এবং সহীহ। ইমাম তাহাওয়ী ‘শরহে মাআনি আল-আথার’ গ্রন্থে বলেন: “হযরত আয়েশা রাযি. এর হাদিসের আগমন হযরত উম্মে সালমা রাযি. এর হাদিসের আগমনের চেয়ে উত্তম; কারণ এটি মুতাওয়াতিরভাবে এসেছে, আর উম্মে সালমা রাযি. এর হাদিস তেমনভাবে আসেনি।”

কিছু হাদিসের হাফিজদের মতে, হযরত উম্মে সালমা রাযি. এর হাদিস তার নিজস্ব মতামত, এটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নির্দেশ নয়। ইমাম তাহাওয়ী ‘শরহে মাআনি আল-আথার’ গ্রন্থে এ কথা বলেছেন: “এটি উম্মে সালমা রাযি. এর উপর মাওকুফ,” এবং ইমাম দারকুতনীও এ কথা বলেছেন: “আমার মতে এটি মাওকুফ।” (আল-বদর আল-মুনীর ইবনে মুলকান ৯/২৭৬), হাফিজ ইবনে আব্দুল বার এই হাদিসকে দুর্বল বলেছেন। (আত-তামহীদ ইবনে আব্দুল বার ১১/৭৮)।

ইমাম তাহাওয়ী বলেন যে, ইহরামের সময় সহবাসের নিষেধাজ্ঞা অধিক কঠোর, যদি কুরবানির জন্য সহবাসের নিষেধাজ্ঞা না থাকে তবে অন্য কোনো বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা কীভাবে হবে? তারপর ইমাম তাহাওয়ী বলেন: “এটি ইমাম আবু হানিফা, আবু ইউসুফ, মুহাম্মদ রহ. এর মতামত, এবং এটি পূর্ববর্তী অনেকের থেকেও বর্ণিত হয়েছে।”

———-

ক্যাটাগরি : ফিকাহ, ফাতাওয়া, হাদিস, শিক্ষা

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ AI, সম্পাদনা, মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇

https://t.me/DrAkramNadwi/9163

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *