Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : যখন একজন অভিভাবক ইসলাম ত্যাগ করেন তখন পিতা-মাতার অধিকার ও দায়িত্ব।

|| প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আমার একটি প্রশ্ন আছে, দয়া করে দিকনির্দেশনা দিলে উপকৃত হব।

এক মুসলিম বোনের বিয়ে হয়েছিল একজন রিভার্ট ভাইয়ের সঙ্গে। তাঁদের এক সন্তান জন্মানোর পর বাবা ইসলাম ত্যাগ করে আবার খ্রিস্টধর্মে ফিরে যায়। ফলে দাম্পত্য সম্পর্ক ভেঙে যায়। তবুও বাবা মাঝে মাঝে সন্তানের সঙ্গে দেখা করে। এখন মা ভাবছেন, সন্তানের ইমান রক্ষার্থে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেবেন।

কারণ বাবা হারাম খায়, বিয়ের বাইরে এক নারীর সঙ্গে বসবাস করে এবং ইসলামের কোনো বিধান মানে না। মা আশঙ্কা করছেন, এসব আচরণ সন্তানের দ্বীনের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে।

এই ক্ষেত্রে শরীয়তের হুকুম কী? খ্রিস্টান হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও কি সন্তানের বাবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা জরুরি, নাকি সন্তানের ঈমান সুরক্ষার জন্য এ যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়াই উত্তম হবে?

|| উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

এটি নিঃসন্দেহে একটি সূক্ষ্ম ও সংবেদনশীল বিষয়। আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার উদ্দেশ্যে এবং সন্তানের কল্যাণের জন্য সঠিক দিকনির্দেশনা চাওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।

ইসলামে পিতা-মাতার সন্তানের প্রতি অধিকার যেমন সুপ্রতিষ্ঠিত, তেমনি সন্তানের পিতা-মাতার ওপরও দায়িত্ব জোর দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সন্তান আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আমানত, আর পিতা-মাতা উভয়েই দায়বদ্ধ কিভাবে তারা তার দায়িত্ব পালন করে। এমনকি আলাদা হয়ে যাওয়ার পরও বা ধর্মের পার্থক্য হলেও ইসলাম ন্যায়, সহমর্মিতা ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়।

যদি বাবা সন্তানের ওপর কোনো ধরনের নির্যাতন, সহিংসতা বা সরাসরি শারীরিক-মানসিক ক্ষতির কারণ না হন, তবে তার সন্তানের সঙ্গে দেখা করার অধিকার বহাল থাকবে। ইসলামী দৃষ্টিতে এটি আত্মীয়তার সম্পর্ক (সিলাতুর রাহিম) বজায় রাখার অন্তর্ভুক্ত, যা কুরআনে কঠোরভাবে পালনের নির্দেশ এসেছে। বাস্তব দিক থেকেও সন্তানের মানসিক ভারসাম্য, আবেগী স্থিরতা ও পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য বাবা-মা উভয়ের সান্নিধ্য গুরুত্বপূর্ণ। কোনো বৈধ শরয়ী কারণ ছাড়া বাবার সঙ্গে যোগাযোগ পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া দীর্ঘমেয়াদে সন্তানের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে এবং পরে অনুশোচনার কারণও হতে পারে।

অন্যদিকে, মায়ের ওপর দায়িত্ব রয়েছে সন্তানের ইসলামী লালন-পালনের। অর্থাৎ তাকে ঈমানের ভিত্তিতে গড়ে তোলা, ছোটবেলা থেকেই নামাজে অভ্যস্ত করা, আকীদার মূল শিক্ষা দেওয়া এবং ইসলামী আদর্শে শিষ্টাচার শেখানো। বাবা ইসলাম ত্যাগ করায় এ দায়িত্ব আরও বেড়ে গেছে। মায়ের উচিত সন্তানের ইসলামী পরিচয়কে দৃঢ় করতে বাড়তি যত্ন নেওয়া।

সন্তানকে ভালো ইসলামী পরিবেশে বড় করতে হবে।
ঘরে নিয়মিত নামাজ কায়েম করা।
সন্তানকে practicing মুসলিম পরিবার ও শিশুদের সঙ্গ দেওয়া।
ইসলামী সমাজে ইতিবাচক রোল মডেল দেখার সুযোগ করে দেওয়া।
কুরআন শিক্ষা, ইসলামি ক্লাস ও কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা, যাতে তার ইসলামী পরিচয়ে গর্ব জন্মায়।

এভাবে যদি ভিত্তি মজবুত করা যায়, তবে বাবা’র সঙ্গে সম্পর্ক থেকেও সন্তানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়বে। বয়স উপযোগী সময়ে বাবার জীবনযাপন সম্পর্কে সন্তানকে কোমলভাবে, সম্মানের সঙ্গে কিন্তু সত্যনিষ্ঠভাবে ইসলামের আলোকে বোঝানো যেতে পারে—কোনটা সঠিক, কোনটা ভুল।

সুতরাং ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থান হলো: যদি কোনো ক্ষতির আশঙ্কা না থাকে, তবে সন্তানের বাবাকে পুরোপুরি বঞ্চিত করা ঠিক নয়। তবে মায়ের দায়িত্ব হচ্ছে সন্তানের ঈমানি পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করা এবং দ্বীনের শিক্ষায় তাকে গড়ে তোলা। শেষ বিচারে হেদায়েত আল্লাহর হাতে। পিতা-মাতার করণীয় হচ্ছে আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে চেষ্টা করে যাওয়া।

আল্লাহ যেন মা’কে প্রজ্ঞা, ধৈর্য ও দৃঢ়তা দান করেন, সন্তানকে রক্ষা করেন এবং তাকে এক দৃঢ় ঈমানদার মুসলিম হিসেবে গড়ে তোলেন।

——————–

ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, পারিবারিক জীবন।

✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7174

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *