Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : কিভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করা যায় এবং ধর্মকে

শিরোনাম : কিভাবে বিশ্বাস প্রকাশ করা যায় এবং ধর্মকে রক্ষা করা যায়?
——————–

প্রাথমিক শিক্ষা থেকে শুরু করে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা পর্যন্ত এক সমস্যাই দেখা যায়।
তা হলো—শিক্ষা বা দক্ষতার সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসকে প্রাসঙ্গিক ধরা হয় না।
এমনকি বিষয়টি যদি ধর্ম বা নির্দিষ্ট কোনো ধর্ম সম্পর্কিতও হয়, তবুও বিশ্বাস সেখানে গুরুত্ব পায় না।

আধুনিক শিক্ষা মূলত দক্ষতা অর্জন ও উন্নয়নের দিকে মনোযোগী।
বিশেষ করে বাজারে কাজে লাগে এমন পেশাগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিটি সংস্কৃতিতেই অন্য লক্ষ্য সামনে রাখত।
সেটি হলো—নৈতিক চরিত্র গঠন ও তার উন্নয়ন।

এই প্রেক্ষাপটে ধর্মের উপযোগিতা প্রমাণ করা প্রায় অসম্ভব। এখন ধর্মের সঙ্গে একমাত্র যে ধরনের দক্ষতা যুক্ত করা হয়, তা হলো সামাজিক শৃঙ্খলায় অবদান (মানুষ যেন নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে এবং জোরজবরদস্তি ছাড়াই শালীন আচরণ করে) এবং মানসিক ও আবেগজনিত সান্ত্বনা (যেমন প্রিয়জন হারানোর বেদনায়)। কিন্তু আধুনিক সমাজ উভয় ক্ষেত্রেই ধর্মবহির্ভূত সমাধানকে প্রাধান্য দেয়। উদাহরণস্বরূপ, তারা কাউকে মনোবিজ্ঞানী বা আচরণ-চিকিৎসকের কাছে পাঠাবে, আর যদি তা কাজে না লাগে তবে হাসপাতাল বা কারাগারে।

অনেকে মনে করেন, কিছু নির্দিষ্ট প্রশ্ন বা বিতর্কের শৈলী আছে যা মানুষকে ধর্মে ফিরিয়ে আনতে পারে। কিন্তু এমন কোনো প্রশ্নমালা বা বিতর্ককৌশল নেই। ধর্ম শেখা হয় সেইসব মানুষের কাছ থেকে, যারা নিজেরা বিশ্বাস করে এবং ধর্ম অনুযায়ী জীবন যাপন করে—যাদের বিশ্বাস মুখের কথায় নয়, বরং তাদের ব্যক্তিত্ব, চরিত্র ও আচরণে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তাদের বিশ্বাস এমন এক বিষয়বস্তু বহন করে, যা আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শেখানো কোনো দক্ষতার আওতার বাইরে। সেই বিষয়বস্তু হলো: আল্লাহকে স্মরণ করার প্রচেষ্টা এবং তাঁর আখেরাতের বিচারের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার প্রচেষ্টা।

এই বিষয়বস্তু সংস্কৃতিগত আনুগত্যের বিভিন্ন রূপে প্রকাশিত হতে পারে, তবে সংস্কৃতিগত আনুগত্য না আবশ্যক, না-ই বা বিশ্বাসের পূর্ণাঙ্গ প্রকাশক। অধিকাংশ ধর্মীয় শিক্ষা সংস্কৃতিগত আনুগত্যের উপাদানগুলোতেই সীমাবদ্ধ থাকে, প্রকৃত বিশ্বাসের বিষয়বস্তু প্রকাশ বা যোগাযোগ করার প্রচেষ্টা খুবই অল্প। বাস্তবে সত্যিকারের বিশ্বাস জন্ম নেয় মুমিনদের সান্নিধ্যে থাকার মাধ্যমে—যা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে হতে পারে, কেবল আনুষ্ঠানিক ইবাদতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, যেমন নামাজ, রোজা, কোরআন তিলাওয়াত বা দান-সদকা নয়, বরং নানান অবস্থায়।

———-
ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, ইসলামি চিন্তাধারা।

✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6714

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *