Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : মাসিকের সূচনা: সন্দেহ ও সঠিক ব্যবস্থা —

শিরোনাম : মাসিকের সূচনা: সন্দেহ ও সঠিক ব্যবস্থা
———-

❖ প্রশ্ন :

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ,
আল্লাহ আমাদের প্রিয় রমজান মাসের শেষ দশ দিনকে বরকতময় করুন।

অনেক নারীর জন্য একটি বড় বিভ্রান্তির বিষয় হলো, মাসিকের শুরু কখন ধরা হবে? বিশেষ করে রমজানে এই প্রশ্নটি আরও স্পর্শকাতর হয়ে ওঠে, কারণ এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে রোজা ও নামাজের বিধান।

ধরা যাক, কোনো নারীর মাসিক সাধারণত প্রথমে দুই বা তিন দিন হলুদ রঙের স্রাব দিয়ে শুরু হয়, তারপর রক্তপাত শুরু হয়। এমন অবস্থায় প্রথম এই স্রাব দেখা দিলেই কি সে রোজা রাখা বন্ধ করবে, যদিও পরে তা আর অব্যাহত নাও থাকতে পারে? কোন অবস্থায় বলা হবে যে এটি তার মাসিক নয়? আর যদি সে ভুল ধারণার কারণে রোজা বা নামাজ ছেড়ে দেয়, তবে কি সে গুনাহগার হবে?

বাস্তবে এটি যেন দুই কঠিন অবস্থার মাঝখানে পড়ে থাকার মতো। যদি সে সত্যিই মাসিক অবস্থায় থাকে, তাহলে তার জন্য নামাজ ও রোজা করা হারাম। আবার যদি মাসিক না হয়ে থাকে, তাহলে নামাজ ও রোজা ছেড়ে দেওয়াও তো সঠিক নয়।

# আরও একটি প্রশ্ন হলো, যদি কোনো নারীর মাসিক সাধারণত দশ দিনের কাছাকাছি বা প্রায় দশ দিন স্থায়ী হয়, তাহলে শুরুতে দেখা দেওয়া হলুদ স্রাব কি সে মাসিকের অংশ হিসেবে গণ্য করবে, নাকি আরও স্পষ্ট লক্ষণ দেখা না দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই উত্তম?

আপনার দিকনির্দেশনা পেলে অত্যন্ত উপকৃত হব।
জাযাকাল্লাহু খাইরান।

❖ উত্তর :

ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ।
আল্লাহ রমজানের শেষ দশ দিনকে বরকতময় করুন এবং এই সময়ে সম্পাদিত সব ইবাদত কবুল করুন।

মাসিকের শুরু নির্ধারণ করা নিয়ে যে প্রশ্নগুলো নারীরা করেন, তা অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং বহুবার উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে রমজানে, যখন রোজা ও নামাজের বিধান সরাসরি এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। ইসলামী শরিয়ত এই বাস্তবতাকে স্বীকার করেছে যে অনেক সময় মাসিকের সূচনা স্পষ্টভাবে বোঝা যায় না। তাই ফকিহগণ এ বিষয়ে আলোচনা করেছেন অত্যন্ত সতর্কতা, সহমর্মিতা এবং বাস্তববোধের সঙ্গে, যাতে নারীরা অযথা সংকট বা কষ্টে না পড়েন।

মূলনীতি খুবই স্পষ্ট, যখন কোনো নারীর মাসিক শুরু হয়, তখন সে নামাজ ও রোজা থেকে বিরত থাকবে। নবী সা. নারীদের তাদের মাসিকের দিনগুলোতে নামাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন, যেমনটি বর্ণিত হয়েছে সহিহ বুখারি এবং সহিহ মুসলিমে।

এখানে মূল প্রশ্ন হলো—মাসিক শুরু হয়েছে তা কীভাবে চিহ্নিত করা যাবে। আলেমগণ ব্যাখ্যা করেছেন যে মাসিকের রক্ত শুধু লাল রঙের রক্তেই সীমাবদ্ধ নয়; কখনো কখনো এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্য রঙের স্রাবও মাসিকের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এ বিষয়ে আয়শা রা. থেকে একটি সুপরিচিত ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। নারীরা তাঁর কাছে তুলার টুকরা পাঠাতেন, যাতে হলুদ রঙের দাগ থাকত, এবং জানতে চাইতেন, তারা কি পবিত্র হয়ে গেছেন? তিনি তাদের বলতেন, “তোমরা তাড়াহুড়ো করো না, যতক্ষণ না সেই পরিষ্কার সাদা স্রাব দেখতে পাও, যা পবিত্রতার লক্ষণ।” এই বর্ণনাটি সহিহ বুখারিতে বর্ণিত হয়েছে।

এই বর্ণনা থেকে অনেক ফকিহ এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে মাসিকের সময়ের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হলুদ বা বাদামি স্রাবও মাসিকের অংশ হতে পারে।

সুতরাং যদি কোনো নারী তার অভিজ্ঞতা ও নিয়মিত অভ্যাস থেকে জানেন যে তার মাসিক সাধারণত দুই বা তিন দিন হলুদ স্রাব দিয়ে শুরু হয়, তারপর রক্তপাত শুরু হয়, তাহলে সেই স্রাবকেই তার মাসিকের সূচনা হিসেবে ধরা হবে। সে ক্ষেত্রে এই লক্ষণ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সে নামাজ ও রোজা থেকে বিরত থাকবে, কারণ এগুলো তার পরিচিত মাসিক চক্রের অংশ। ইসলামী আইন নারীর ব্যক্তিগত অভ্যাস ও ধারাবাহিক ধরণকে বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ফকিহগণ বারবার উল্লেখ করেছেন, একজন নারীর স্থায়ী অভ্যাস মাসিক কখন শুরু হয় এবং কখন শেষ হয়—তা নির্ধারণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে কখনো এমনও হতে পারে যে সাময়িকভাবে হলুদ স্রাব দেখা দিল, কিন্তু পরে তা আর অব্যাহত রইল না এবং রক্তপাতও হলো না। এমন পরিস্থিতিতে নারীকে পরবর্তী অবস্থা লক্ষ্য করতে হবে। যদি স্রাব বন্ধ হয়ে যায় এবং মাসিক আর শুরু না হয়, তাহলে এটিকে মাসিকজনিত স্রাব হিসেবে ধরা হবে না; সে আবার নামাজ ও রোজা শুরু করবে।

আর যদি সে শুরুতে ভেবেছিল (এটাই তার মাসিকের সূচনা, কারণ সাধারণত তার ক্ষেত্রে এমনটাই ঘটে) এবং সে সেই কারণে রোজা রাখা বন্ধ করেছিল, তাহলে এতে তার কোনো গুনাহ নেই। সে তার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে যে সিদ্ধান্তটি অধিক সম্ভাব্য মনে হয়েছে সেটিই গ্রহণ করেছিল।

পরবর্তীতে যদি স্পষ্ট হয় যে মাসিক শুরুই হয়নি, তাহলে শুধু সেই রোজাটি রমজানের পরে কাজা করে নিলেই যথেষ্ট। এ ধরনের বিষয়ে যেখানে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো কঠিন, সেখানে আন্তরিক প্রচেষ্টার জন্য কোনো দোষ আরোপ করা হয় না। আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন—তিনি কোনো প্রাণীর উপর তার সামর্থ্যের বাইরে বোঝা চাপিয়ে দেন না।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *