AkramNadwi

ফকিহগণ এই বিষয়ের কিছু উপশাখা নিয়েও আলোচনা করেছেন।

ফকিহগণ এই বিষয়ের কিছু উপশাখা নিয়েও আলোচনা করেছেন। তাদের কেউ কেউ মনে করেন, যদি কেউ মুসহাফকে তার কভার বা কোনো মধ্যস্থ বস্তু ব্যবহার করে তুলে নেয়, তাহলে তা বৈধ। কারণ সে ক্ষেত্রে সরাসরি মুসহাফ স্পর্শ করা হয় না। একইভাবে প্রায় এ ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে যে, যে ব্যক্তি ছোট অপবিত্রতার অবস্থায় আছে (অর্থাৎ যার অজু নেই), সে মুসহাফ স্পর্শ না করে কুরআন তিলাওয়াত করতে পারে, চাই সে মুখস্থ থেকে পড়ুক কিংবা অন্য কোনো মাধ্যমে।

তবে অজু অবস্থায় কুরআন তিলাওয়াত করা অধিক উত্তম এবং কুরআনের আদবের সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়েছে।

এই সমস্ত মতামত ও দলিলসমূহ গভীরভাবে পর্যালোচনা করলে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও মধ্যপন্থী ফলাফল সামনে আসে। কুরআনুল কারিম অজু অবস্থায় তিলাওয়াত করা এবং পবিত্র অবস্থায় মুসহাফ স্পর্শ করা নিঃসন্দেহে অধিক উত্তম, অধিক উপযুক্ত এবং কুরআনের প্রতি যথাযথ সম্মানের দাবির সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তবে কখনো যদি অজু না থাকে, কেবল এই কারণে কোনো মুমিনকে কুরআন তিলাওয়াত থেকে বিরত রাখা সঙ্গত নয়। কুরআন মূলত আল্লাহ তাআলার সেই হিদায়াতের কিতাব, যা ঈমানদারদের পথনির্দেশের জন্য অবতীর্ণ হয়েছে। তাই এর সঙ্গে মানুষের সম্পর্ককে অযথা কঠিন বা সীমাবদ্ধ করে দেওয়া উচিত নয়।

উত্তম হলো, যেখানে সম্ভব অজু করে নেওয়া। কিন্তু যদি অজু না থাকে, তবুও অন্তত কুরআন তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে একজন মুমিনের হৃদয় ও আত্মার সঙ্গে এই হিদায়াতের কিতাবের সম্পর্ক অটুট থাকে এবং সে এর নূর ও দিকনির্দেশনা থেকে বঞ্চিত না হয়।

————-

ক্যাটাগরি : ফিকাহ, কোরআন, ফাতাওয়া

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8701

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *