Skip to main content

AkramNadwi

মস্তিষ্কের সঙ্গে মজবুত চরিত্র জরুরি। বুদ্ধি পথ দেখ

মস্তিষ্কের সঙ্গে মজবুত চরিত্র জরুরি। বুদ্ধি পথ দেখায়, চরিত্র সেই পথে চলার শক্তি দেয়।

এ কারণেই জীবনকে কেবল সাফল্য-অর্জন বলে মানা অসম্পূর্ণ। মানুষকে জিজ্ঞেস করতে হবে—সাফল্যের সংজ্ঞা কী, আর এই সংজ্ঞা করেছে কে? কেউ যদি সারাজীবন সম্পদ সঞ্চয়ে ব্যস্ত থাকতেও গিয়ে সম্পর্ক, প্রশান্তি ও নীতি বিসর্জন দেয়, তবে কি তাকে সফল বলা যাবে? অন্য কেউ হয়তো স্বল্প অর্থ-সহ অধিক জ্ঞান, চরিত্র, পরিবার, সেবা ও অর্থময় জীবনে সমৃদ্ধ—তাকে ব্যর্থ বলা কি ন্যায়সঙ্গত? এ প্রশ্নের জবাব প্রত্যেককে নিজের মৌলিক মূল্যবোধের আলোকে খুঁজতে হবে। কারণ সঠিক নির্বাচনের সর্বজনীন কোনো ফরমুলা নেই; তবে এক বিশ্বজনীন নীতি আছে—সিদ্ধান্ত হোক সচেতন, চিন্তা হোক স্পষ্ট, বাস্তবতা-অনুধ্যান হোক সঠিক, অগ্রাধিকার হোক নীতিনির্ভর।

এবং মনে রাখতে হবে—মানুষ নিজের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে চূড়ান্ত ও নিখুঁত ভাবতে পারে না। সীমিত জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে আমরা সিদ্ধান্ত নিই, তাই ভুল অনিবার্য। প্রজ্ঞা দাবি করে—মানুষ ভুলকে স্বীকার করুক, তা থেকে শিখুক, ও পরের বার উন্নত নির্বাচন করুক। ভুল সিদ্ধান্ত অবধারিত ধ্বংস আনে না; ভুল থেকে না শেখাই বিপজ্জনক।

শেষাবধি মানবজীবন এমন এক অভিযাত্রা, যেখানে পথবারিধারা ক্রমাগত দ্বিখণ্ডিত হয়। কিছু পথ সহজ, কিছু কঠিন; কোনোটি তাত্ক্ষণিক আনন্দ দেয়, কোনোটি দীর্ঘস্থায়ী প্রশান্তি; কোনোটি অন্যের চোখে সাফল্যের দিকে, কোনোটি নিজের অন্তরে বিজয়ের দিকে। মানুষ সব পথ বেছে নিতে পারে না। তাকে থামতে, দেখতে, ভাবতে, যাচাই করতে, তারপর একটি পথ ধরতে হয়।

এইজন্য উত্তম জীবন বেশি-বেশি বিকল্পে নয়, বরং সঠিক বিকল্প শনাক্তের সামর্থ্যে নিহিত। তথ্য আমাদের সম্ভাবনা জানায়; বুদ্ধি তফাৎ শেখায়; অভিজ্ঞতা ফল দেখায়; নীতি অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে; প্রজ্ঞা এ সবকে সুসমন্বিত সিদ্ধান্তে পরিণত করে।

মানুষ শেষত তার নির্বাচনের সমষ্টি। তার জীবন গড়ে ওঠে বড় ঘোষণায় কম, আর দৈনন্দিন সিদ্ধান্তে বেশি—সে সময় কোথায় ব্যয় করে, কার কথা শোনে, কোন বক্তব্যে আস্থা রাখে, কোন আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করে, কোন নীতিতে অবিচল থাকে, কোন সুযোগ গ্রহণ করে, আর কোনটি প্রত্যাখ্যান করে।

তাই জীবনের মৌলিক প্রশ্ন হয়তো—“আমার কাছে কী-কী বিকল্প আছে?”—এই নয়; বরং—“এই বিকল্পগুলোর মধ্যে আমার জন্য সঠিকটি কী, আর তা শনাক্তে আমি কীভাবে ভাবছি?”

এই প্রশ্ন-ই মানুষকে ঘটনাপ্রবাহের তাড়না থেকে তুলে এনে নিজের জীবনের সচেতন নির্মাতা করে। পথগুলো সবসময় আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, পরিস্থিতিও সবসময় ইচ্ছামাফিক হয় না, ফলাফলের পূর্ণ দখলও আমাদের হাতে নয়; তবে পরের পা-টি অধিকাংশ সময় আমাদের নিয়ন্ত্রণেই। আর জীবন, শেষাবধি, সেই পায়েরস্তবক-ই।
———
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ: এই নিবন্ধটি AI দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছে।
https://t.me/DrAkramNadwi/10174

ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভীর প্রবন্ধের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল:
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *