Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : নিজের চিন্তা করো হে পরম শ্রদ্ধেয় ও প্র

শিরোনাম : নিজের চিন্তা করো

হে পরম শ্রদ্ধেয় ও প্রিয়জন!

আজ আমি আপনাদের সঙ্গে এমন এক ভঙ্গিতে কথা বলার সাহস করছি, যার সঙ্গে আপনারা অভ্যস্ত নন। আমি বিশ্বস্ততার মানুষ, ভালোবাসার রক্ষক। আমার ভেতরে লজ্জার পাহাড় জমে আছে, সংযমের হাজার দেয়াল দাঁড়িয়ে আছে, তবু এমন এক ব্যথা আছে, যা আর লুকিয়ে রাখা যায় না। সব আনুষ্ঠানিকতার পর্দা সরিয়ে আজ নতুনভাবে কথা বলছি।

যেমন এই দুনিয়ায় বসন্ত ও শরৎ আছে, নবপল্লব ও ঝরা পাতা আছে, শীত ও গ্রীষ্মের পালাবদল আছে, তেমনি ব্যক্তি ও জাতির জীবনেও বিভিন্ন সময়, বিভিন্ন ঋতু আসে। দুর্ভাগা তারা, যারা বসন্তকে শরতে পরিণত করতে চায়; অভিশপ্ত তারা, যারা নতুন পল্লবের প্রতি ঘৃণা পোষণ করে এবং তাকে ঝরায় পরিণত করতে উদগ্রীব।

কেন এমন হচ্ছে যে, আপনারা নিজের ধ্বংসের উপকরণ নিজেরাই প্রস্তুত করছেন? কেন নিজের সংশোধনের ব্যাপারে এত উদাসীন? অন্যের প্রকাশ্য ও গোপন দোষ আপনাদের চোখে পড়ে, আর সংশোধনের নামে তাদের পর্দা ফাঁস করেন; গীবতে লিপ্ত হন; তাদের গল্প দিয়ে পরিবেশকে কলুষিত করেন। কারো মতামত আপনাদের কাছে ভুল মনে হলেই সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে লেখা লিখে ফেলেন, বক্তৃতা দেন, বা ইউটিউবে কোনো ক্লিপ ছড়িয়ে দেন।

কিন্তু কখনো কি চেষ্টা করেন সেই ব্যক্তির অবস্থানকে তার প্রকৃত প্রেক্ষাপটে বুঝতে? তার কথার কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে? সাধারণত যেসব বিষয়ে আপনারা আপত্তি তোলেন, সেগুলো নিছক অনুমানভিত্তিক; আর এমন বিষয়ের প্রতিবাদ করা আপনার দায়িত্বের মধ্যেও পড়ে না। হয়তো আপনাদের চেয়েও যোগ্য কেউ আছেন, যিনি এ দায়িত্ব ভালোভাবে পালন করতে পারেন। তবুও কেন আপনারা মানুষের সম্মান ও মর্যাদা নিয়ে খেলতে পছন্দ করেন?

হে সূক্ষ্মদৃষ্টি আর দোষ-অন্বেষণে মগ্ন ব্যাক্তি ! এই দুর্গন্ধময় কাজে লিপ্ত হয়ে আপনারা বহু নিশ্চিত গুনাহে জড়িয়ে পড়ছেন, যেগুলোর প্রত্যেকটি সেই ভুলের চেয়েও বড়, যার সংশোধনের দাবিদার আপনারা। যেমন—
অন্যের খোঁজখবর নেওয়া,
অন্যের প্রতি কুধারণা পোষণ করা,
গীবত করা,
সবার সামনে কারো গোপন বিষয় প্রকাশ করা,
তার বন্ধুদের মনে তার প্রতি ঘৃণা সৃষ্টি করা,
মুসলমানদের মধ্যে শত্রুতা ছড়িয়ে দেওয়া,
নিজের ও অন্যের মূল্যবান সময় নষ্ট করা।

আপনারা মাদরাসা ও দ্বীনি জামাতগুলোর সমালোচনা করেন। অথচ যখন আপনারা এসব প্রতিষ্ঠানের কোনো দায়িত্বে নেই, তখন আল্লাহর দৃষ্টিতে তাদের কাজের জন্য আপনারাও দায়ী নন। নিজের নিয়তকে যাচাই করুন, হৃদয়ের ভেতরে কোনো খুঁত আছে কি না। এই সমালোচনার পেছনে কোনো গোঁড়ামি কাজ করছে কি না।

এ কথা মনে করিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন নেই যে, দলাদলি, আঞ্চলিকতা, এবং মতবাদগত পক্ষপাত, এসব বিষাক্ত অস্ত্র, যা জাতির শিকড় কেটে দেয়। তখন সব যোগ্যতা ব্যয় হয় দ্বন্দ্বে, ঘৃণা ও শত্রুতা বেড়ে ওঠে, আর যে সময় গঠনমূলক কাজে লাগার কথা ছিল, তা একে অন্যকে ক্ষতি করতেই শেষ হয়ে যায়।

হে গাফেল ও অচেতনতার মোহে ডুবে থাকা মানুষ! একটু সচেতন হোন, গাফলতের ঘুম থেকে জেগে উঠুন। আল্লাহ এই দুনিয়ায় সুযোগের দরজা প্রয়োজনের চেয়েও বেশি খুলে রেখেছেন। প্রতিযোগিতা তখনই হয়, যখন কোনো কিছুর অভাব থাকে আর চাহিদা বেশি হয়, কিন্তু এখানে তেমন নয়। আপনি যে ক্ষেত্রেই এগোতে চান, সেখানে সম্ভাবনার দরজা আপনার কল্পনার চেয়েও বিস্তৃত। বুদ্ধি-বিবেচনা কাজে লাগান, দৃঢ়তা ও সংকল্পকে নিজের স্বভাব বানান।

কেন আপনারা নিজের মূল্যবান সময় হারাম ও গুনাহের কাজে নষ্ট করছেন? কেন আল্লাহর দৃষ্টিতে নিজেকে অপছন্দনীয় করে তুলছেন? আপনারা কি নিজেদের বঞ্চনা দেখতে পাচ্ছেন না? যাদের আপনারা তুচ্ছ করছেন, তারা ইতিবাচক ও উপকারী কাজে ব্যস্ত; আর আপনারা গীবত ও অপবাদে নিমগ্ন।

একটু থেমে ভাবুন—এই অমূল্য জীবনে আল্লাহ আপনার কাছে কী চান। তারপর সেই কাজেই নিজেকে নিয়োজিত করুন। কারণ আমাদের সফলতা আমাদের চাওয়ায় নয়, বরং আমাদের রব যা চান, সেই কাজেই নিহিত।

হে আত্মম্ভরিতা ও ভ্রান্ত অহংকারে মত্তজন! যদি আপনারা অভিযোগ করেন যে, আমি আপনাদের প্রতি কঠোর হয়েছি, কথায় তীক্ষ্ণতা এনেছি, আপনাদের অপরিচিতদের দলে ফেলেছি, তাহলে হ্যাঁ, আমি সেটাই করেছি। আমি চাই আপনাদের আরামের জীবন ব্যাহত হোক, হৃদয়ে কাঁটার খোঁচা লাগুক, আপনারা কাঁদুন, ব্যথিত হন। আমি চাই, এই অস্থিরতার ঝড় আপনাদের হাসি মুছে দিক, আপনাদের ঘুম উড়িয়ে দিক।

সেই আরশের অধিপতির শপথ, যিনি প্রতি মুহূর্তে কাউকে উঁচুতে তোলেন আর কাউকে নিচে নামান, এই ‘নদভী’ পরিচয় আপনাদের কোনো উপকারে আসবে না। উত্থান-পতনের নিয়ম থেকে আপনারা মুক্ত নন।

আপনারা আমাকে অপছন্দ করতে পারেন, আমার কথার ভঙ্গিকে কঠোর ও অপ্রীতিকর মনে করতে পারেন, কিন্তু জেনে রাখুন, যে পথে আপনারা চলছেন, সে পথে আপনাদের কল্যাণ নেই।

আপনারা নিজেদের পূর্বসূরিদের থেকে শিক্ষা গ্রহণ করুন, কীভাবে তারা চারদিকের বিভ্রান্তি থেকে চোখ ফিরিয়ে নিয়ে বিস্ময়কর কীর্তি গড়ে তুলেছিলেন। মাত্র ৫৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন; কিন্তু এই স্বল্প সময়েই তিনি যা করে গেছেন, তা কল্পনারও অতীত। চল্লিশ বছরেরও কম আয়ু পেয়েছিলেন, তবুও শিক্ষা, সংস্কার ও রচনার ক্ষেত্রে

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *