AkramNadwi

শিরোনাম : মাহরাম ছাড়া হজ বা ওমরাহর সফর।

শিরোনাম : মাহরাম ছাড়া হজ বা ওমরাহর সফর। <br>
|| প্রশ্ন: মুহতারামা ড. ফারহাত হাশিমি তাঁর এক ছাত্রীর নিম্নলিখিত বার্তা পাঠিয়েছেন— আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, প্রিয় উস্তাযা! আপনি কেমন আছেন? আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলা আপনাকে তাঁর হেফাজত ও নিরাপত্তায় রাখুন। (আমীন) উস্তাযা! আমি হজে যেতে চাই। আমি বিধবা। আমার ভাই সক্ষম নন, তাই আমার সাথে যাওয়ার মতো কোনো মাহরাম নেই। আমার বয়স প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি। দয়া করে আমাকে দিকনির্দেশনা দিন, আমার কী করা উচিত? || উত্তর: ওয়ালাইকুম সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ, সম্মানিতা ও শ্রদ্ধেয়া, আল্লাহ তাআলা আপনাকে সুস্বাস্থ্য ও শান্তির সঙ্গে তাঁর হেফাজতে রাখুন এবং আপনার এই নেক ইচ্ছা তাঁর দরবারে কবুল করুন। (আমীন) আপনি আপনার হজের আগ্রহ এবং সফরের অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন যে, আপনি বিধবা, আপনার সঙ্গে কোনো মাহরাম নেই এবং আপনার বয়স প্রায় ৬০ বছরের কাছাকাছি। মূল হুকুম অনুযায়ী, কোনো নারীর জন্য মাহরাম ছাড়া সফর করা জায়েজ নয়। তবে জুমহুর ফুকাহায়ে কেরাম—বিশেষত শাফেয়ি ও মালিকি ফকিহগণ এবং কিছু হানাফি আলেম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনো নারী ফরজ হজে যেতে চান এবং তাঁর সঙ্গে মাহরাম না থাকে, তবে তিনি বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য নারীদের কাফেলায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতে পারেন। শর্ত হলো, সেই কাফেলায় কিছু নারীর মাহরামও থাকবে, যাতে সফরে নিরাপত্তা ও মানসিক প্রশান্তি নিশ্চিত হয়। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রা.) এবং অন্যান্য মহামান্য সাহাবিয়াতের জীবন থেকেও এ শিক্ষাই পাওয়া যায় যে, যদি নিরাপত্তার ব্যবস্থা থাকে তবে নারীরা দলবদ্ধভাবে হজ ও ওমরাহর সফরে যেতে পারেন। বিশেষ করে আজকের যুগে, যখন হজ ও ওমরাহর সফর সরকারিভাবে পূর্ণ ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তার অধীনে সম্পন্ন হয়, তখন এই সুবিধার কারণে আপনার জন্য মাহরাম ছাড়া এমন নারীদের গ্রুপে যোগ দিয়ে যাওয়া জায়েজ, যাদের সঙ্গে কিছু পুরুষ মাহরামও রয়েছে। অতএব, নিশ্চিন্ত মনে হজের প্রস্তুতি নিন এবং নিরন্তর দোয়া করুন—আল্লাহ তাআলা যেন আপনার এই সফর কবুল করেন, সহজ করে দেন এবং আপনাকে তাঁর ঘরের হাজির হওয়ার সৌভাগ্য দান করেন। والله أعلم بالصواب (আল্লাহই সর্বাধিক সঠিক জানেন।) ——————– ক্যাটাগরি : ফিকাহ, ফাতাওয়া। — ✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড ✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ — 🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇 https://t.me/DrAkramNadwi/6789
শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *