Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম : রুপা ও নূন্যতম সোনা: পুরুষদের জন্য শরিয়ত

শিরোনাম : রুপা ও নূন্যতম সোনা: পুরুষদের জন্য শরিয়তের দৃষ্টিকোণ।
|৩০|১২|২০২৫|

|| প্রশ্ন

আসসালামু আলাইকুম শায়খ।
পুরুষদের জন্য কি এমন স্টার্লিং সিলভার পরা বৈধ, যার সংকর ধাতুতে অতি সামান্য পরিমাণ সোনা মেশানো থাকে, কেবল রুপাকে কালচে হওয়া থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে?

||উত্তর

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

ইসলামে পুরুষদের জন্য সোনা পরিধান নিষিদ্ধ, এ কথা সহিহ নববী বর্ণনার মাধ্যমে সুপ্রতিষ্ঠিত এবং ফিকহের চারটি মাযহাবই এ বিষয়ে একমত। সোনা যখন সোনা হিসেবেই পরিধেয় রূপে বিদ্যমান থাকে এবং অলংকার বা সাজসজ্জা হিসেবে পরিচিত হয়, তখন তা পুরুষদের জন্য হারাম; নারীদের জন্য অবশ্য তা বৈধ। তবে এই বিধান প্রযোজ্য সোনার স্বতন্ত্র ও পরিচিত রূপের ক্ষেত্রে, অন্য কোনো বস্তুতে অণুপরিমাণ বা রাসায়নিকভাবে মিশে থাকা সোনার ক্ষেত্রে নয়।

ইসলামি শরিয়ত সর্বদা বস্তুসমূহকে তাদের প্রধান ও দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যের আলোকে মূল্যায়ন করে, তুচ্ছ ও গৌণ উপাদানের ভিত্তিতে নয়। এ কারণেই ফকিহগণ নিষিদ্ধ কোনো উপাদানের সামান্য সংমিশ্রণকে সব সময় আইনগতভাবে কার্যকর বলে গণ্য করেননি, বিশেষত যখন সেই উপাদান অতি নগণ্য মাত্রায় উপস্থিত থাকে এবং তার স্বতন্ত্র পরিচয় বিলুপ্ত হয়ে যায়। বিবেচ্য বিষয় হলো, নিষিদ্ধ উপাদানটি কি তার নাম, রূপ, কার্যকারিতা বা সামাজিক স্বীকৃতি বজায় রেখেছে কি না।

স্টার্লিং সিলভারে যদি রুপাকে কালচে হওয়া থেকে রক্ষা করার মতো কারিগরি প্রয়োজনে অতি সামান্য পরিমাণ সোনা মেশানো হয়, এবং সেই সোনা যদি বস্তুটির রং, চেহারা, মূল্য কিংবা পরিচিতিকে কোনোভাবেই প্রভাবিত না করে, তবে শরিয়ত ও প্রচলিত রীতিতে সেটি রুপাই থাকে। এ ক্ষেত্রে সোনা সংকর ধাতুর ভেতর সম্পূর্ণভাবে বিলীন হয়ে যায়; অলংকারের স্বতন্ত্র বা অর্থবহ উপাদান হিসেবে তার কোনো অস্তিত্ব থাকে না। ফলে শরিয়তের বিধানও প্রধান উপাদান (রুপার) অনুসারেই নির্ধারিত হবে, আর রুপা পরিধান করা পুরুষদের জন্য নিঃসন্দেহে বৈধ।

এই দৃষ্টিভঙ্গি শাস্ত্রীয় ফিকহি আলোচনার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। সেখানে দেখা যায়, নিষিদ্ধ কোনো উপাদান যদি অদৃশ্য বা রূপান্তরিত অবস্থায় থাকে এবং আর স্বতন্ত্রভাবে কার্যকর বা পরিচিত না থাকে, তবে তার কারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়নি। আধুনিক ধাতুবিদ্যা আজ যেসব সূক্ষ্ম উপাদান শনাক্ত করতে পারে, যা পূর্ববর্তী যুগে উপলব্ধিযোগ্য বা প্রাসঙ্গিকই ছিল না, সে কারণে শরিয়তের বিধান বদলে যায় না।

তবে এই অনুমতিরও সীমা আছে। যদি সোনার পরিমাণ এমন হয় যে তা বস্তুটির রং, মূল্য বা সামাজিক পরিচিতিতে প্রভাব ফেলে, কিংবা সেটি সোনা-মিশ্রিত অলংকার হিসেবে পরিচিত বা বাজারজাত হয়, তাহলে তা পরিধান করা বৈধ হবে না। তেমনি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ভিন্ন নামে কার্যত সোনাই পরিধান করার পথও গ্রহণ করা উচিত নয়।

———-

| ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, ফিকহ, শিক্ষা।

✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍️ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8046

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *