তদ্রূপ স্বামীর উচিত বছরে অন্তত দুইবার স্ত্রীকে উপযুক্ত পোশাক দেওয়া—একবার শীতের জন্য, একবার গ্রীষ্মের জন্য—যাতে সে ঠাণ্ডা ও গরম থেকে সুরক্ষিত থাকে। এমনকি পুরনো পোশাক কম ব্যবহার করা হলেও, প্রতি ছয় মাস পর নতুন পোশাক দেওয়া জরুরি। সাধারণভাবে দুটি লম্বা পোশাক, দুটি পায়জামা, দুটি ওড়না, জুতা এবং একটি জিলবাব দেওয়া আবশ্যক। শীতে সোয়েটার ও কোটও প্রদান করতে হবে।
গহনা ও সৌন্দর্যচর্চার জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র—যেমন সাবান, তেল, চিরুনি—এগুলোর ব্যবস্থাও স্বামীকেই করতে হবে। আর যদি স্ত্রী হায়েজ বা নিফাসের পর গোসলের জন্য গোসলখানায় যায়, তার খরচও স্বামী বহন করবে। স্ত্রীর পরিচ্ছন্নতার জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকরণের ব্যবস্থা করা স্বামীর দায়িত্ব।
চিকিৎসা বিষয়ে প্রাচীন ফকীহগণ বেশি আলোচনা করেননি, কারণ তাঁদের সময়ে চিকিৎসাকে আবশ্যক মনে করা হতো না, বরং তা ছিল অনুমোদিত (মুবাহ) কাজ। কিন্তু বর্তমান যুগে, যেখানে বহু রোগের চিকিৎসা অপরিহার্য হয়ে গেছে, সেখানে স্বামীর জন্য আবশ্যক যে তিনি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর চিকিৎসার খরচ বহন করবেন।
সারসংক্ষেপ:
স্বামীর দায়িত্ব হলো স্ত্রীর সব প্রয়োজন পূরণ করা। ভরণপোষণ দেওয়া তার শরীয়তনির্ধারিত ও আইনগত দায়িত্ব। স্ত্রীকে তার প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করা ইসলামের শিক্ষার পরিপন্থী। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে নিজের অধিকার ও দায়িত্ব বুঝে তা পালনের তাওফিক দান করুন। আমিন।
——————–
ক্যাটাগরি : পারিবারিক জীবন, ফিকাহ।
—-
✍ মূল: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—-
যে আর্টিকেল থেকে অনূদিত, তার লিংক👇
https://t.me/DrAkramNadwi/6717