AkramNadwi

১১. নাজিয়া ইবনে জুন্দুব (রাঃ): “আমি তোমাদের মাঝে এ

১১. নাজিয়া ইবনে জুন্দুব (রাঃ):
“আমি তোমাদের মাঝে এমন কিছু রেখে গেলাম—যদি তোমরা তা গ্রহণ করো, কখনো পথভ্রষ্ট হবে না: আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর সুন্নাহ তোমাদের হাতে রয়েছে।”
এভাবেও বলা হয়েছে: “আমি তোমাদের মাঝে আল্লাহর কিতাব এবং তাঁর নবীর সুন্নাহ রেখে গেলাম।”

আহলে সুন্নাহর কিছু দুর্বল বর্ণনায় “সুন্নাহ”-এর পরিবর্তে “ইতরাত” (বংশধর) শব্দটি এসেছে। কিন্তু এ ধরনের কোনো সনদই গ্রহণযোগ্য নয়। তবুও আলেমগণ এ বিষয়ে সমন্বয়ের চেষ্টা করেছেন।

ইবন কুদামা প্রমুখ আলেম “ইতরাত” শব্দকে “সুন্নাহ”-এর ওপর ব্যাখ্যা করেছেন এবং বলেছেন—এটি দুর্বল বর্ণনাকারীদের ভুল।

ইমাম ইবনু তাইমিয়া প্রমুখ এ বর্ণনাগুলোর ওপর অত্যন্ত মূল্যবান আলোচনা করেছেন, যার বিস্তারিত এখানে তুলে ধরা সম্ভব নয়।

রাওয়াফেজদের দৃষ্টিকোণ থেকে:
এই হাদিস ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে রাওয়াফেজরা যে সূক্ষ্ম কৌশল অবলম্বন করেছে, তা তাদের গ্রন্থসমূহ পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যেমন—আল-কাফি, কামালুদ্দীন, আমালি আল-মুফিদ, আমালি আত-তুসি, উয়ূনু আখবারির রিদা, গায়বাতুন নুমানি, বাসায়িরুদ দারাজাত ইত্যাদি।

এ হাদিসকে কেন্দ্র করে পৃথকভাবেও বহু গ্রন্থ রচিত হয়েছে। যেমন—
“হাদিসুস সাকালাইন” (কাওয়ামুদ্দীন মুহাম্মদ আল-ওশনভি আল-কুমি),
“সা‘আদাতুদ দারাইন” (আব্দুল আজিজ দেহলভি, ফারসি ভাষায়),
“হাদিসুস সাকালাইন” (নাজমুদ্দীন আল-আসকারি),
“হাদিসুস সাকালাইন” (সাইয়্যিদ আলী মিলানি),
“হাদিসুস সাকালাইন ওয়া মাকামাতুল মাসুমিন” (আহমদ আল-মাহউজি, আরবি ভাষায়)।

এই বর্ণনাগুলোর ওপর আলোচনা:

যেমনটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল বর্ণনাটি মুওয়াত্তা গ্রন্থে পাওয়া যায়। এর বক্তব্য কুরআন ও নববী শিক্ষার সাধারণ নীতিমালার সঙ্গেই সামঞ্জস্যপূর্ণ। এতে আহলে বাইত বা রাসূলের ইতরাতকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরার কোনো উল্লেখ নেই।

মুওয়াত্তার এই বর্ণনাটি অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের বর্ণনা দ্বারা সমর্থিত হলেও, সনদের দিক থেকে এসব বর্ণনার কোনোটি অত্যন্ত শক্তিশালী নয়।

আর যেসব বর্ণনায় “ইতরাত” শব্দটি এসেছে, সেগুলো আরও দুর্বল। শিয়ারা যেসব শব্দে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছে, তার সবগুলোই মুনকার এবং ইসলামের সাধারণ শিক্ষার পরিপন্থী।

হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু এবং আহলে বাইতের ইমামগণের ফজিলত সহীহ হাদিস দ্বারা সুপ্রতিষ্ঠিত। এ বিষয়ে বিচ্ছিন্ন, দুর্বল কিংবা মুনকার বর্ণনার ওপর নির্ভর করা তাদের উচ্চ মর্যাদার পরিপন্থী।

এ কারণেই হযরত মাওলানা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নাদভী তাঁর গ্রন্থ “আল-মুরতাদা”-তে এই বর্ণনাটিকে কোনো স্থান দেননি। কারণ, যে বর্ণনা মুনকার—বরং তীব্রভাবে অগ্রহণযোগ্য—তা দিয়ে না মাসআলায় দলিল গ্রহণ করা যায়, না ফজিলতের ক্ষেত্রে। বরং কোনো বিষয়ে তা দিয়ে দলিল বা সমর্থন দাঁড় করানো হলে সেই বিষয়ই দুর্বল ও ভিত্তিহীন হয়ে পড়ে।

সমাপ্তি:

শেষে এ কথা নিবেদন করছি—সাহাবায়ে কেরাম, বিশেষত উম্মাহাতুল মুমিনীন এবং আহলে বাইত রাদিয়াল্লাহু আনহুম—তাঁদের ফজিলত কুরআনুল কারীম এবং সহীহ বুখারি ও সহীহ মুসলিমসহ উচ্চমানের অন্যান্য হাদিসগ্রন্থ দ্বারা সুপ্রমাণিত।

অতএব, কোনো মনগড়া, চুরি করা, বিচ্ছিন্ন কিংবা মুনকার বর্ণনার ওপর নির্ভর করে কোনো ফজিলত বা মর্যাদা প্রমাণ করা আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের শোভা পায় না। মিথ্যা ও ভিত্তিহীন কথার ওপর দ্বীনের ভিত্তি স্থাপন করা রাওয়াফেজদের প্রচলিত পদ্ধতি।

আল্লাহ তাআলা “আল-ফারুক”-এর রচয়িতা আল্লামা শিবলী নুমানী এবং “আল-মুরতাদা”-এর রচয়িতা আল্লামা সাইয়্যিদ আবুল হাসান আলী নাদভীর প্রতি রহম করুন, তাঁদের মর্যাদা উচ্চ করুন। তাঁরা এই গ্রন্থগুলো রচনা করে তাশাইয়্যু ও রাফেজিয়াতের মোকাবেলায় এক দৃঢ় লৌহপ্রাচীর প্রতিষ্ঠা করেছেন।

مسند علم از وجودت منبع آداب باد ** آستانت قبلۂ جان اولى الالباب باد
(তোমার অস্তিত্ব থেকেই জ্ঞানের আসন হোক শিষ্টাচারের উৎস,
তোমার দোরগোড়া হয়ে উঠুক জ্ঞানীদের হৃদয়ের কিবলা।)

———-

ক্যাটাগরি : হাদিস, সমালোচনা, ইসলামি চিন্তাধারা

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ AI, সম্পাদনা, মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
https://t.me/DrAkramNadwi/3039

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *