بسم الله الرحمن الرحيم.
:: লেখক: মোহাম্মদ আকরাম নাদভী,
অক্সফোর্ড।
:: অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—
প্রারম্ভিকা :
এই সূরাহটি পূর্ববর্তী সূরাহের সাথে যুক্ত করা যেতে পারে। সূরাহ আল-কিয়ামাহ মানব জীবনের ক্ষুদ্র ও বিনম্র প্রথম স্তরগুলির উল্লেখ করে শেষ হয়েছিল। সূরাহ আল-ইনসান মানব জীবনের সেই প্রথম স্তরগুলির উল্লেখের মাধ্যমে শুরু হয় এবং জোরালোভাবে নিশ্চিত করে যে মানব জীবন সর্বদা তাৎপর্যপূর্ণ, যার পরিণতি আখিরাতে সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হবে।
—
⚖️ মানবিক পছন্দ:
কাফির অথবা শাকির
আল্লাহ মানুষকে সঠিক এবং ভুলের মধ্যে পার্থক্য বোঝার এবং বেছে নেওয়ার ক্ষমতা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। মানুষ দুই ধরনের হতে পারে:
কাফির (সত্য অস্বীকারকারী),
অথবা, শাকির (সত্যকে স্বীকার করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী)।
এই জীবনের পরীক্ষা ও বিপদগুলো আল্লাহর সন্তুষ্টি বা অসন্তুষ্টির চিহ্ন নয়। আল্লাহ আমাদের দুনিয়ার সাফল্য দ্বারা বিচার করেন না, বরং ন্যায়পরায়ণতার প্রতি আমাদের প্রচেষ্টা দ্বারা বিচার করেন।
—
অবিশ্বাসী এবং বিশ্বাসীদের জন্য পরিণতি:
যারা সত্য অস্বীকার করে এবং ভুলপথে অবিচল থাকে, তাদের জন্য অবিচ্ছেদ্য শৃঙ্খল এবং প্রজ্জ্বলিত আগুন অপেক্ষা করছে।
:: কিন্তু যারা কৃতজ্ঞ বিশ্বাসী, তাদের জন্য:
রাজকীয় অভ্যর্থনা জান্নাতে, সুখ এবং আরামের সাথে, যা তাদের সবর এর জন্য পুরস্কৃত করা হবে।
—
সবরের গুণাবলী (ধৈর্য এবং দৃঢ়তা)
সবর এর দুটি দিক রয়েছে:
1. ধৈর্য – জীবনের পরীক্ষা সহ্য করা।
2. দৃঢ়তা – জীবনের পরীক্ষায় স্থির থাকা, আল্লাহর দয়া ও প্রজ্ঞার প্রতি বিশ্বাস রাখা।
একটি সুন্দর উদাহরণ হল নবী আইয়ুব (আলাইহি সালাম) এর প্রার্থনা, যেখানে ধৈর্য ও দৃঢ়তা পূর্ণ সমতায় রয়েছে:
“আমার কষ্ট অত্যন্ত বেশি, এবং আপনি সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালুদের মধ্যে অন্যতম।” (২১:৮৩)
—
️ জান্নাতের পুরস্কার ::
বিশ্বাসীদের জন্য জান্নাতের বিলাসবহুল অভ্যর্থনা বর্ণনা করা হয়েছে, যারা সবর এর সাথে জীবনযাপন করেছে। যারা আরবের মরুভূমির দুঃখ-কষ্ট জানে, তারা জান্নাতের রাজকীয় অভ্যর্থনার কল্পনা করতে পারে, কিন্তু তা সম্পূর্ণ উপলব্ধি করতে পারে না।
জান্নাতের ফলমূল এবং আনন্দগুলো পৃথিবীর মতোই হবে এবং একই সাথে পৃথিবীর মতো হবে না। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলো বদলে যাবে যেন আমরা এই নেয়ামতগুলো সম্পূর্ণরূপে উপভোগ করতে পারি। আল্লাহর দয়ায় সেইসব মানুষকে তাঁর দর্শন দান করবেন যারা এর যোগ্যতা অর্জন করেছে।
প্রকাশ এবং ধৈর্য ::
এই সূরাহটি মুমিনদের কুরআনের তানযিল এর কথা মনে করিয়ে দেয় এবং তাদের সবর এর সাথে প্রতিক্রিয়া জানাতে আদেশ দেয়। এটি মুমিনদের দিন ও রাত জুড়ে আল্লাহর প্রশংসা করতে উৎসাহিত করে এবং আল্লাহর সৃষ্টি ও প্রকাশের দুটি অনুগ্রহের প্রতি সচেতন থাকার আহ্বান জানায়।
আল্লাহর বিস্তৃত দয়া ::
এই সূরাহটি আল্লাহর অনন্ত দয়া দ্বারা শেষ হয়। আল্লাহ যাকে চান তাকে তাঁর দয়ায় প্রবেশ করান এবং যারা ভুলপথে অবিচল থাকে তাদের জন্য রয়েছে একটি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।