https://t.me/DrAkramNadwi/5816
بسم الله الرحمن الرحيم.
——————-
ইহুদি বন্দিদের মুক্তি দেওয়া হলো, তাদের আত্মীয়রা আনন্দিত হলো, তাদের সাথী ও প্রিয়জনেরা ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় তাদের স্বাধীনতা উদযাপন করলো। কিন্তু যখন ফিলিস্তিনিরা মুক্তি পেল, তখন জারি হলো এক নিষ্ঠুর নির্দেশ: “শোনো! আনন্দ করো না, হে ফিলিস্তিনিরা!” তাদের আনন্দ উদযাপনের পথে রাখা হলো বাধা ও প্রতিবন্ধকতা, এমনকি ষড়যন্ত্র করা হলো যেন তাদের আনন্দই বিপর্যয়ে পরিণত হয়।
এ দৃশ্য আমাকে স্মরণ করিয়ে দিলেন সৈয়দ জাওয়েদ আখতারের একটি উর্দু কবিতা, যা আমি আরবিতে অনুবাদ করেছিলাম (যার বাংলা অনুবাদ) নিম্নরূপ:
রাজকীয় ফরমান জারি হলো:
সব ধরনের বাতাসকে অবশ্যই আমাদের জানাতে হবে,
তারা কোন দিক থেকে আসছে এবং কোথায় যাচ্ছে।
বাতাস যদি বইতে চায়,
তবে তাদের জানাতে হবে—তার গতি কত হবে।
আমরা বাতাসকে কখনোই অনুমতি দিই না
ঝড় হয়ে ওঠার, এটা একেবারে নিষিদ্ধ।
আরও এক ফরমান জারি হলো:
আমাদের যে দেয়ালগুলো বালু দিয়ে বানানো
আর প্রাসাদগুলো কাগজ দিয়ে গড়া,
সেগুলোকে অবশ্যই পাহারা দিতে হবে ও রক্ষা করতে হবে।
কারণ ঝড় হল চিরকাল এই বালু আর কাগজের প্রাসাদের
সবচেয়ে বড় শত্রু।
এটা কি কারও অজানা?
আরও এক ফরমান জারি হলো:
সমুদ্রের ঢেউগুলোকে বাধ্য করা হলো—
তাদের বিদ্রোহ হালকা করতে হবে
এবং নিজেদের সীমার মধ্যেই থাকতে হবে।
কিন্তু যদি ঢেউগুলি উত্তাল হয়,
তারপর আবার শান্ত হয়ে আরও শক্তি নিয়ে জেগে ওঠে—
তবে এই বিশৃঙ্খলাকে ধরা হবে মহাপাপ হিসেবে,
এটা হবে বর্বরতার প্রতীক, অসভ্যতার পরিচয়।
এমন বিদ্রোহ সহ্য করা হবে না,
এমন অশান্তি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
যদি ঢেউগুলো সমুদ্রে থাকতে চায়,
তবে তাদের শান্তভাবেই বইতে হবে।
আরও একটি ফরমান জারি হলো:
বাগান ও বাগিচার প্রতি নির্দেশ দেওয়া হলো—
সেখানে যেন ফুলগুলো শুধু একটাই রঙ ধারণ করে।
কর্তৃপক্ষ নিয়োজিত থাকবে, যারা নির্ধারণ করবে—
আগামী দিনের বাগান কেমন হবে।
নিশ্চিতভাবে ফুলগুলোর থাকবে একক রঙ,
কিন্তু সেই রঙের গাঢ়ত্ব বা হালকাতা—
এটা ঠিক করে দেবে নিয়োজিত কর্মচারীরাই।
কে এই ফরমান দাতাদের জানাবে—
যে বাগানের ফুলগুলো কখনো এক রঙের হয় না,
আর হবেও না।
প্রতিটি রঙের মধ্যেই থাকে অসংখ্য রঙের ছায়া।
যারা এক রঙের বাগান বানাতে চেয়েছিল,
তাদের দেখো, এখন কী উদ্বিগ্ন,
কী বিষণ্ন হয়ে উঠেছে তারা,
যখন একটি রঙের মধ্যেই দেখা দিল শত রঙ।
কে তাদের জানাবে—
বাতাস ও ঢেউ কারো আদেশ মানে না।
বাতাসকে রাজাদের মুঠোয় বন্দী করা যায় না,
না বেঁধে রাখা যায় শিকল বা কারাগারে।
আর যদি ঢেউগুলোকে থামিয়ে রাখা হয়,
তবে সমুদ্র যত শান্তই দেখাক,
একসময় সে জেগে উঠবে উত্তাল হয়ে,
এমন এক প্রলয় সৃষ্টি হবে,
যা থামানো কোনো শক্তির পক্ষেই সম্ভব হবে না।
———-
✍ মূল : ড. আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড, ইউকে।
✍অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।