بسم الله الرحمن الرحيم
জীবন আসলে কী?
ভোর আর সূর্যাস্তের মাঝখানে থমকে থাকা এক ক্ষণিক মুহূর্ত মাত্র, যার শুরু হয় এক আর্তচিৎকারে, আর শেষ হয় গভীর নীরবতায়। ঠিক আকাশে ভেসে চলা এক টুকরো মেঘের মতো; আসে, ভেসে যায়, কিন্তু কোথাও স্থির হয়ে থাকে না।
মানুষ তার আশা-আকাঙ্ক্ষার পেছনে ছুটে চলে। পৃথিবী থেকে যতটুকু পারে কুড়িয়ে নেয়, আর মনে করে, আগামীর পরিধি বুঝি অনেক বিস্তৃত, সময় বুঝি এখনও অনেক দীর্ঘ। কিন্তু হঠাৎ একদিন তার উপলব্ধি হয়, তার বয়স তার পদক্ষেপের চেয়েও দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছিল, আর দিনগুলো তাকে অতিক্রম করে নিরন্তর ঠেলে নিয়ে যাচ্ছিল তার শেষ গন্তব্যের দিকে।
তারপর—মৃত্যু!
সে এক অবধারিত সত্য, যা কখনো নির্ধারিত সময় থেকে বিচ্যুত হয় না, কারও কাছে অনুমতিও চায় না। হঠাৎ করেই সে এসে উপস্থিত হয়। সব কোলাহল থেমে যায়, সব শব্দ স্তিমিত হয়ে পড়ে, জীবনের দীর্ঘ কাহিনি মুহূর্তে গুটিয়ে আসে। আর মানুষ তখন একা দাঁড়িয়ে যায় সেই সত্তার সামনে, যার দিকে সে নিজের হাতেই আগে পাঠিয়ে রেখেছিল তার কর্মসমূহ।
সেদিন সম্পদ কোনো উপকারে আসে না, পদমর্যাদা কোনো লাভ দেয় না, বংশমর্যাদাও সুপারিশ করতে পারে না। অবশিষ্ট থাকে শুধু নেক আমল, নিষ্কলুষ নিয়ত, আর সেই মধুর প্রভাব, যা মানুষ অন্যের হৃদয়ে রেখে গেছে।
অতএব মৃত্যুর স্মরণকে নিজের চেতনায় জীবন্ত রাখুন, হতাশার কারণ হিসেবে নয়, বরং আত্মসংশোধন ও জাগরণের প্রেরণা হিসেবে। কারণ মৃত্যু আমাদের সীমাবদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দেয়, আমাদের আকাঙ্ক্ষাগুলোকে শুদ্ধ করে এবং আমাদের হৃদয়ের ভারসাম্য ঠিক করে দেয়।
যে ব্যক্তি জাগ্রত বোধ ও সৎ হৃদয় নিয়ে মৃত্যুর জন্য প্রস্তুতি নেয়, তার জন্য মৃত্যু হয়ে ওঠে রহমত ও ন্যায়ের দিকে এক নতুন যাত্রা। আর যে এর থেকে উদাসীন থাকে, সে একদিন হঠাৎ দেখে, মৃত্যু তাকে ঘিরে ফেলেছে, অথচ সে হারিয়ে ফেলেছে সেই জিনিস, যার ক্ষতিপূরণ আর কোনোদিন সম্ভব নয়।
————-
ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, উপদেশ, ইসলামি চিন্তাধারা,
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8616