بسم الله الرحمن الرحيم
তুমি ইউসুফের সৌন্দর্য সম্পর্কে কতটাই না অজ্ঞ! তুমি মনে করো, ইউসুফের সৌন্দর্য কেবল তাঁর রূপ-লাবণ্য আর বাহ্যিক অবয়বের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। যেন চোখে দেখা দৃশ্যমান রূপই সত্যের সম্পূর্ণ পরিচয় বহন করে! কী ভ্রান্ত ধারণা এটি, আর কত বিভ্রান্ত তোমার আত্মা, যে কেবল উপরিভাগের দিকে ঝুঁকে থাকে!
জেনে রাখো, যদি তুমি ইউসুফের কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্যেরই অনুকরণ করতে, তবে জুলেখার প্রেম তোমার ভাগ্যে কখনো জুটত না। বরং সে তোমার প্রতি বিরক্ত হয়ে উঠত, তোমাকে এড়িয়ে যেত, আর তার অনাগ্রহের আবরণে তোমাকে ঢেকে দিত। কারণ যার প্রতি তার ভালোবাসা নিবদ্ধ ছিল, তা চোখে দেখা কোনো অবয়ব ছিল না, কিংবা কারও বর্ণিত কোনো শরীরী রূপও নয়। বরং তা ছিল এক অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য, আত্মার ঊর্ধ্বতা, অর্থবহতার দীপ্তি, যা প্রকাশ পায় তাকওয়া, পবিত্রতা ও পবিত্র চরিত্রে; যা ফুটে ওঠে হৃদয়ের স্বচ্ছতা ও অন্তরের নির্মলতায়।
যে ব্যক্তি কেবল বাহ্যিক রূপ দেখে আর অন্তরের গোপন সত্যকে উপেক্ষা করে, সে সবচেয়ে বড় ধনভাণ্ডার থেকে বঞ্চিত হয়। সে প্রকৃত সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়, যেমন কেউ অন্ধকারে থেকে আকাশের তারাগুলোকে হারিয়ে ফেলে, আর জানতেই পারে না যে তারা কীভাবে হৃদয়কে আলোকিত করে।
ইউসুফের সৌন্দর্য ত্বকের রঙে নয়, মুখাবয়বের রেখায় নয়; বরং তা নিহিত আত্মার ঔজ্জ্বল্যে, কথার সত্যতায় এবং অন্তরের দৃঢ়তায়। এই সৌন্দর্য চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে, মানুষের উপর প্রভাব ফেলে, কিন্তু উপরিভাগে দৃষ্টি সীমাবদ্ধ যারা, তাদের চোখে তা ধরা পড়ে না।
হে আত্মা! মনে রেখো, মানুষের তিনটি মুখ রয়েছে: একটি বাহ্যিক রূপ, একটি তার বাক্য, আর একটি তার অন্তর। অন্তর যদি শুদ্ধ হয়, সবকিছুই শুদ্ধ হয়ে যায়; আর অন্তর যদি কলুষিত হয়, তবে বাকি সবও কলুষিত হয়ে পড়ে।
কত মানুষ আছে, যারা তাদের চেহারা দিয়ে চোখকে মোহিত করেছে, হৃদয়কে মুগ্ধ করেছে, কিন্তু মানুষ বুঝতেই পারেনি যে তাদের অন্তর কলুষিত, আত্মা অন্ধকারে আচ্ছন্ন; তাদের প্রেম মিথ্যা, আর তাদের স্নেহ প্রতারণা।
সেই সৌন্দর্যকে অনুসন্ধান করো যা চোখে ধরা পড়ে না—আত্মার তাকওয়া ও অন্তরের পবিত্রতার ভেতর। কারণ সেখানেই লুকিয়ে আছে সত্যিকারের ভালোবাসার রহস্য; সেই প্রশংসা, যা বাহ্যিক রূপের ক্ষয় দিয়ে মুছে যায় না, সময়ের প্রবাহেও বিলীন হয় না।
সতর্ক থেকো, যেন আমরা বাহ্যিক চাকচিক্যে প্রতারিত না হই, কোনো ক্ষণস্থায়ী ছবিতে তৃপ্ত না হয়ে যাই। বরং অর্থের অনুসন্ধান করি, কারণ অর্থই প্রকৃত ও চিরস্থায়ী সৌন্দর্য।
এই তো সেই ইউসুফ—যিনি আত্মার গভীরে অবস্থান করেন; যিনি শুধু চোখকে নয়, হৃদয়কেও মুগ্ধ করেন। যে ব্যক্তি এই সৌন্দর্যকে তার প্রকৃত সত্তায় চিনতে পারে, সে ভালোবাসার রহস্যও বুঝে ফেলে। সে জানে মানুষকে কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয়, দৃষ্টির চোখ দিয়ে নয়, বুদ্ধির চোখ দিয়ে; তড়িঘড়ি দৃষ্টিতে নয়, চিন্তাশীল হৃদয়ের গভীর মননে।
————-
ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, আখলাক, ইসলামি চিন্তাধারা,
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8651