Skip to main content

AkramNadwi

সিভিল ডিভোর্সের পরে দাম্পত্য: শরিয়ত কী বলে?

সিভিল ডিভোর্সের পরে দাম্পত্য: শরিয়ত কী বলে?

|০৭| ফেব্রুয়ারি |২০২৬|

❖ প্রশ্ন:

যদি কোনো ব্যক্তি প্রথমে শরিয়তসম্মতভাবে নিকাহ সম্পন্ন করেন, পরে ইংলিশ আইনের অধীনে সিভিল ম্যারেজ নিবন্ধন করান, অতঃপর ইংলিশ আইনের অধীনেই সিভিল ডিভোর্স গ্রহণ করেন, তাহলে এই অবস্থায় কি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল থাকে, নাকি তা ভেঙে যায়?
বিশেষ করে যদি তিনি তিন মাসের ভেতর রুজু করে নেন, অর্থাৎ আবার একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে শরিয়তের হুকুম কী হবে?
আর যদি শরিয়তসম্মত নিকাহ বহাল না থাকে, তবে এমন পরিস্থিতিতে শরিয়তের নির্দেশনা কী? যেখানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই এই বিধান সম্পর্কে অবগত ছিলেন না এবং অজ্ঞতাবশত রুজু করে নিয়েছেন।

❖ উত্তর:

যদি কোনো নারী ও পুরুষের মধ্যে শরিয়তসম্মতভাবে সহিহ নিকাহ সম্পন্ন হয়ে থাকে, পরে তারা রাষ্ট্রীয় আইনের শর্ত পূরণ করতে সিভিল ম্যারেজও নিবন্ধন করান, এবং পরবর্তীতে আদালত নিয়মতান্ত্রিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেই বিবাহ বাতিল করে দেয়, তাহলে একে এভাবে ধরে নেওয়া যে নিকাহ আগের মতোই বহাল আছে, কিংবা স্বামীর আগের মতো রুজুর অধিকার রয়েছে, এটি সঠিক নয়।

ফিকহের মৌলিক নীতিমালা হলো: কোনো বৈধ কর্তৃপক্ষ বা আদালত যখন নিকাহ ভেঙে দেয়, তখন তা কেবল সাময়িক বিচ্ছেদ থাকে না; বরং স্বামী-স্ত্রীর বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। এটি সেই তালাক নয় যাকে তালাকে রাজঈ বলা হয়, যেখানে স্বামী ইদ্দতের মধ্যে নতুন নিকাহ ছাড়াই স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারেন। বরং এটি বিচ্ছেদের এমন এক রূপ, যা ফিকহের পরিভাষায় তালাকে বাইন-এর অন্তর্ভুক্ত। তালাকে বাইন-এর ক্ষেত্রে স্বামীর আর রুজুর অধিকার অবশিষ্ট থাকে না—না কথার মাধ্যমে, না একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে, না দাম্পত্য সম্পর্ক পুনরায় শুরু করার দ্বারা।

অতএব, আদালত যখন কোনো বিবাহকে dissolve বা annul করে ( ভেঙে) দেয়, তখন কেবল এই কথা বলা যে আমরা তিন মাসের মধ্যে রুজু করে নিয়েছি, শরিয়তের দৃষ্টিতে কার্যকর হয় না। কারণ রুজু তখনই গ্রহণযোগ্য, যখন রুজুর অধিকার বিদ্যমান থাকে; আর এখানে সে অধিকার ইতোমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এখন দাম্পত্য সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠার একমাত্র পথ হলো নতুন করে নিকাহ সম্পন্ন করা, নতুন ইজাব-কবুল, নতুন মোহর নির্ধারণ এবং সাক্ষীদের উপস্থিতিতে। নতুন আকদ ছাড়া স্বামী-স্ত্রীর মর্যাদা ফিরে আসে না।

যদি নারী ও পুরুষ উভয়েই এই শরিয়তসম্মত বিধান সম্পর্কে অবগত না থাকেন এবং ইদ্দতের মধ্যে রুজু হয়ে যায়, এই ধারণায় একসঙ্গে থাকা শুরু করে দেন, তবে বিষয়টি অজ্ঞতাবশত ঘটেছে। এমন অজ্ঞতার কারণে তাদেরকে ইচ্ছাকৃত গুনাহগার বলা হবে না। তবে সত্য যখন স্পষ্ট হয়ে যাবে, তখন আর বিলম্বের সুযোগ নেই। তাদের কর্তব্য হলো আল্লাহ তাআলার কাছে তওবা ও ইস্তিগফার করা এবং অবিলম্বে শরিয়তের ভিত্তিতে নিজেদের সম্পর্ক সঠিক করা, অর্থাৎ নিয়মমাফিক পুনরায় নিকাহ করা। পূর্ববর্তী সময়টিকে কু-নিয়তের ওপর আরোপ করা হবে না; কিন্তু ভবিষ্যতে সঠিক পদ্ধতির অনুসরণ অবশ্যই জরুরি।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যে দেশে তারা বসবাস করেন, সেখানকার আইনব্যবস্থা সাধারণত শরিয়তসম্মত নিকাহকেই যথেষ্ট বলে গণ্য করে না, বিশেষত যখন আদালত ইতোমধ্যেই সেই সম্পর্ক ভেঙে দিয়েছে। তাই তারা যদি আবার একসঙ্গে থাকতে চান, তবে কেবল শরিয়তসম্মত নতুন নিকাহই নয়, বরং আইনি দিক থেকেও বিবাহ নিবন্ধন করা প্রয়োজন। এতে স্বামী-স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার, বাসস্থান, উত্তরাধিকার, ভরণপোষণ, কর, চিকিৎসা এবং অন্যান্য নাগরিক সুবিধা সুরক্ষিত থাকে এবং ভবিষ্যতের জটিলতা এড়ানো যায়।

সারকথা:
আদালতের রায়ের মাধ্যমে নিকাহ তালাকে বাইন হিসেবে শেষ হয়ে গিয়েছিল। এর পর স্বামীর কথায় বা কাজে কোনো রুজু শরিয়তসম্মত নয়। পুনরায় স্বামী-স্ত্রী হতে হলে নতুন নিকাহ ছাড়া আর কোনো পথ নেই। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় আইনের অধীনে সেই নতুন নিকাহ নিবন্ধন করাও অপরিহার্য। অজ্ঞতার কারণে যা ঘটেছে, তার জন্য তওবা করা হবে; তবে এখন থেকে সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ পদ্ধতিতে দাম্পত্য সম্পর্ক পুনর্গঠন করাই আবশ্যক।

———–

ক্যাটাগরি : ফিকাহ, ফাতাওয়া, উসরাহ, উপদেশ।

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8379

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *