Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম: বর্তমান সময়ে মুসলমানদের দায়িত্বসমূহ
—–
ড. মুহাম্মদ আক্রাম নাদভী
অক্সফোর্ড
২৯/৯/২০২৬

প্রশ্ন:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আশা করি আপনি সুস্বাস্থ্য ও ভালো অবস্থায় আছেন। আমি ফজীল আবদুল গনী নাদভী, গোঁদা, উত্তর প্রদেশ থেকে। আমার নিম্নোক্ত দুটি প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন:

১. বর্তমানে মুসলমানদের ধর্মীয় অবস্থা এমন এক দূরত্বে পৌঁছেছে যে সাধারণ মানুষের মৌলিক আকীদাও প্রায় বিলুপ্ত। যদি এমন পরিস্থিতিতে ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ ঘটে, তাহলে কি সম্ভব যে তারা তাঁকে সম্পূর্ণরূপে অস্বীকার করতে পারে?

২. আমাদের আকীদা তাওহীদ, রিসালাহ এবং আখিরাতকে কেন্দ্র করে। যদি কেউ সাহাবাদের স্বীকার না করে বা তাদের গালি দেয়, তাহলে কি এটি তার আকীদার উপর প্রভাব ফেলবে? আমরা কি এমন ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বহির্ভূত ঘোষণা করতে পারি?

অনুগ্রহ করে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে আমাদের অনুগ্রহ করুন।

উত্তর:
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।
বর্তমানে মুসলিম উম্মাহ বহু চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন, যার মধ্যে প্রধান হলো ধর্মীয় জ্ঞান থেকে দূরত্ব, মৌলিক বিশ্বাসসমূহের অপরিচিতি, দলীয় পক্ষপাত এবং পারস্পরিক মতভেদের বৃদ্ধি। এমন পরিস্থিতিতে কেবল একাডেমিক বিতর্ক বা ভবিষ্যৎ ঘটনার পূর্বাভাস নিয়ে ব্যস্ত থাকা যথেষ্ট নয়। বরং অধিক জরুরি হলো মুসলমানরা ঈমানের বাস্তবতা উপলব্ধি করুক, তাদের ব্যবহারিক জীবন শরিয়তের শৃঙ্খলার অধীনে আনুক এবং আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার তীব্র অনুভূতি গড়ে তুলুক।

ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ এবং মুসলমানদের দায়িত্বসমূহ:
কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ কুরআনের আয়াত এবং অসংখ্য হাদীস দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তবে এ বিষয় উপস্থাপন করার সময় মনে রাখতে হবে যে কিয়ামতের নিদর্শনসমূহের তথ্যের উদ্দেশ্য ভবিষ্যৎ ঘটনার বিস্তারিত জ্ঞান প্রদান নয়, কিংবা এ নিয়ে অনুমানভিত্তিক বিতর্কে লিপ্ত হওয়া নয়। বরং এর উদ্দেশ্য হলো মানুষকে আখিরাতের জন্য প্রস্তুত করা, তাদের ঈমান শক্তিশালী করা এবং আল্লাহর আনুগত্যের দিকে আহ্বান করা।

এই প্রেক্ষাপটে একটি যুক্তিসঙ্গত উদ্বেগ হলো: যদি এমন সময়ে ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণ ঘটে যখন মুসলমানদের একটি বড় অংশ ধর্মীয় শিক্ষার ব্যাপারে অজ্ঞ এবং মৌলিক আকীদাতেও দুর্বল, তাহলে কি তাদের মধ্যে কেউ কেউ তাঁকে চিনতে ব্যর্থ হতে পারে বা তাঁর প্রতি ঈমান আনতে বিরত থাকতে পারে?

নীতিগতভাবে এটি বোঝা যায় যে শুধুমাত্র “মুসলমান” নাম ধারণ করা সত্যকে চিনতে এবং গ্রহণ করতে সর্বদা যথেষ্ট নয়। ঈমানের জন্য কেবল ধর্মীয় পরিচয় যথেষ্ট নয়; জ্ঞান, আন্তরিকতা, সত্য অনুসন্ধান এবং অন্তরের আত্মসমর্পণ অপরিহার্য। যখন একজন ব্যক্তি ধর্মীয় জ্ঞান থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং নিজের সীমিত জ্ঞান, দলীয় অনুরাগ বা গোষ্ঠীগত ধারণাকেই সত্যের একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করে, তখন তার সত্য গ্রহণের সক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এ ক্ষেত্রে একটি গুরুতর বিপদ হলো ধর্মীয় পক্ষপাত এবং বাহ্যিক সাদৃশ্যকে দ্বীনের মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করা। যদি কেউ শুধুমাত্র এই কারণে কোনো দাঈ বা মুস্লিহকে গ্রহণ করতে অস্বীকার করে যে তিনি তার নিজস্ব মাযহাব বা দলের অন্তর্ভুক্ত নন, অথবা তাঁর বাহ্যিক অবস্থা ব্যক্তির পরিচিত ধর্মীয় পরিবেশ থেকে ভিন্ন, তাহলে এই মনোভাব বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্বলতা এবং পক্ষপাতিত্বের পরিচয় দেয়। সত্যকে চেনার মানদণ্ড কোনো দলের বাহ্যিক পরিচয় বা ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ নয়; বরং তা আল্লাহর হেদায়েত এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের শিক্ষার উপর নির্ভরশীল।

অতএব, ঈসা আলাইহিস সালামের অবতরণের সময় প্রত্যেক ব্যক্তি ঈমান আনবে—এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। হাদীসসমূহ থেকেও জানা যায় যে তাঁর অবতরণের পরেও সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত থাকবে। তবে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ অবস্থান সম্পর্কে প্রমাণ ছাড়া চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া সঙ্গত নয়। আমাদের জন্য প্রকৃত শিক্ষা হলো নিজেদের মধ্যে সত্যকে চিনতে, ভালোবাসতে এবং তার কাছে আত্মসমর্পণ করার ক্ষমতা গড়ে তোলা।

এ উদ্দেশ্যে মুসলমানদের মধ্যে কুরআন ও সুন্নাহর সঠিক শিক্ষা প্রচার করা, মৌলিক আকীদা স্পষ্ট করা, ইবাদতে নিয়মিততা সৃষ্টি করা, নৈতিক প্রশিক্ষণ গড়ে তোলা এবং জ্ঞানগত সততা উন্নত করা অপরিহার্য। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষার সাথে পরিচিত করা, বিতর্কমূলক লড়াই বা ফতোয়া প্রদানের প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে না পড়া, যাতে এমন একটি ধর্মীয় চেতনা তৈরি হয় যা তাদের পক্ষপাত থেকে রক্ষা করে এবং সত্য গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করে।

সাহাবায়ে কেরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুমের মর্যাদা এবং তাদের অবমাননা সম্পর্কে বিধান:

সাহাবায়ে কেরাম সেই সৌভাগ্যবান দল যাদেরকে আল্লাহ তাঁর শেষ রাসূল মুহাম্মদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাহচর্য, সহায়তা এবং দাওয়াত প্রচারের জন্য নির্বাচন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *