AkramNadwi

গ্লোবাল রামাদান : ভ্রমণে রোজা ও ঈদের বাস্তব নির্দেশনা।

গ্লোবাল রামাদান : ভ্রমণে রোজা ও ঈদের বাস্তব নির্দেশনা।

|১৯|০২|২০২৬|

❖ প্রশ্ন:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ, শায়খ।
আমার একটি প্রশ্ন আছে। সিরিয়ায় রমযান শুরু হচ্ছে বৃহস্পতিবার, কিন্তু যুক্তরাজ্যে শুরু হচ্ছে বুধবার (আগামীকাল)। আমি রমযানের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাজ্যে ভ্রমণ করব।
তাহলে আমি কি যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ঈদ পালন করব? আর যদি দুই দেশের চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে আমার রোজার সংখ্যা ২৯ দিনের কম হয়ে যায়, তবে কী করব? আমি কি যুক্তরাজ্যে অবস্থানকালে তাদের সঙ্গে ঈদ করব এবং যদি ২৯ দিনের কম রোজা হয়, তবে একটি কাজা আদায় করব? সে ক্ষেত্রে ঈদ পালনের বিধান কী হবে?

❖ উত্তর:

ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহ।

আজকের যুগে দেশান্তর ভ্রমণ সহজ হয়েছে, আর চাঁদ দেখার ঘোষণাও দেশভেদে আলাদা হতে পারে। ফলে কেউ এক দেশে রমযান শুরু করে অন্য দেশে গিয়ে মাস শেষ করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, রোজার সংখ্যা ভিন্ন হলে করণীয় কী?

শরিয়ত এ বিষয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও সুস্পষ্ট নীতি নির্ধারণ করেছে। মূল নীতি হলো: একজন মুসলিম যে দেশে অবস্থান করবেন, রমযানের শুরু ও ঈদ পালনের ক্ষেত্রে তিনি সেই দেশের মুসলিম সমাজের সঙ্গেই চলবেন।

রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন: “তোমরা যেদিন সবাই রোজা রাখ, সেটিই রোজার দিন; আর যেদিন সবাই ঈদ কর, সেটিই ঈদের দিন।”

ফকীহগণ এ হাদিস থেকে এ বিধান নির্ণয় করেছেন যে, সামষ্টিক ইবাদতে ব্যক্তি তার এলাকার স্বীকৃত ও ঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুসরণ করবে। এতে ঐক্য বজায় থাকে, বিভেদ এড়ানো যায়, এবং মুসলিম সমাজ থেকে বিচ্ছিন্নতার ক্ষতি রোধ হয়।

অতএব, আপনি রমযানের শুরুতে যে দেশে থাকবেন, সেখানকার ঘোষণামাফিক রোজা শুরু করবেন। যদি সিরিয়ায় অবস্থান করেন, তবে সিরিয়ার সঙ্গে রোজা রাখবেন। পরে রমযানের মাঝপথে যুক্তরাজ্যে গেলে, সেখানকার মুসলমানদের সঙ্গেই রোজা অব্যাহত রাখবেন। এবং যখন যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানেই ঈদের ঘোষণা হলে তাদের সঙ্গেই ঈদ পালন করবেন, যদিও দুই দেশের চাঁদ দেখার ভিন্নতার কারণে আপনার মোট রোজার সংখ্যা আলাদা হয়ে যায়।

তবে মোট রোজার সংখ্যা প্রসঙ্গে শরিয়ত দুটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করেছে:
এক. স্থানীয় মুসলিম সমাজের সঙ্গে ঐক্য রক্ষা।
দুই. চন্দ্রমাসের নির্ধারিত সীমা মানা।

রমযান মাস ২৯ অথবা ৩০ দিনেরর, এর কম বা বেশি নয়।

যদি আপনার মোট রোজা ২৯ বা ৩০ দিনে পূর্ণ হয়, তবে আপনার দায়িত্ব আদায় হয়ে গেছে।

কিন্তু যদি ভ্রমণ ও ঘোষণার পার্থক্যের কারণে মোট রোজা ২৮ দিনে এসে দাঁড়ায়, তাহলে আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, সেখানকার সঙ্গে ঈদ পালন করবেন, তবে ঈদের পর একটি রোজা কাজা আদায় করবেন। কারণ চন্দ্রমাস ২৯ দিনের কম হতে পারে না; তাই ঘাটতি পূরণ করা আবশ্যক।

অন্যদিকে, ভ্রমণ ও ভিন্ন ঘোষণার ধারাবাহিকতায় যদি ৩১ দিনের রোজা হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়, তবে আপনি ৩০ দিনের বেশি রোজা রাখবেন না। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী রমযান ৩০ দিনের বেশি হতে পারে না। ৩০ পূর্ণ হলে অতিরিক্ত রোজা রাখা হবে না, যদিও আপনি যে দেশে অবস্থান করছেন, তারা নিজস্ব চাঁদ দেখার ভিত্তিতে আরও একদিন রোজা রাখে।

এইভাবেই ইসলামী শরিয়ত একদিকে সামষ্টিক ঐক্য সংরক্ষণ করে, অন্যদিকে আল্লাহ নির্ধারিত সীমারেখাও অক্ষুণ্ণ রাখে। মুসলিম ব্যক্তি স্থানীয় সমাজের সঙ্গে একাত্ম থাকেন, আর একই সঙ্গে নিশ্চিত করেন যে, পবিত্র রমযান ২৯ বা ৩০ দিনের নির্ধারিত পরিসীমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে।

আল্লাহ আপনার রোজা কবুল করুন, সফরকে নিরাপদ করুন এবং মুমিনদের হৃদয়কে স্পষ্টতা ও সঠিক পথে ঐক্যবদ্ধ রাখুন।

———-

ক্যাটাগরি : রামাদান, ফিকাহ, ফাতাওয়ায়, ইসলামি চিন্তাধারা।

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8439

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *