AkramNadwi

মাওলানা রহমতুল্লাহি আলাইহির পুরো অস্তিত্ব প্রেমের

মাওলানা রহমতুল্লাহি আলাইহির পুরো অস্তিত্ব প্রেমের আগুনে গঠিত মনে হতো। তার মধ্যে যে সোজ ছিল, তা তার কথোপকথন, তার নীরবতা, তার দোয়া, এবং তার কবিতায় সবকিছুতে প্রতিফলিত হতো। যখনই তার কথা আসে, ফয়জীর এই শের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মুখে আসে:

“দারদ খিজদ আজ দিল-ই ফয়জী
সোজিশে দার কিতাব মি বিনাম।”

বাস্তবতা হলো মাওলানার জীবন এবং কবিতা উভয়ই প্রেমের জ্ঞানের সর্বোচ্চ স্তরের প্রতীক ছিল। তার কবিতায় কোনো ভান ছিল না, বরং একজন সত্যিকারের আল্লাহপ্রেমীর ব্যথা ছিল। ছাত্রজীবনে যখন তার দিওয়ান অধ্যয়ন করলাম, তখন মনে হলো যেন আমার মধ্যে কোনো হারানো জিনিসের পুনরুদ্ধার হয়েছে। তার কবিতা প্রেম ও জ্ঞানের এক নতুন স্বাদ দিয়েছিল।

আমি তার একটি কবিতার আরবি অনুবাদ করেছিলাম যা “আল-রায়েদ” এ প্রকাশিত হয়েছিল। যখন মাওলানা দেখলেন, তিনি খুব খুশি হয়েছিলেন এবং একটি প্রেমময় চিঠি লিখেছিলেন, যাতে দোয়া ও স্নেহ ছিল। দুঃখের বিষয়, সেই মূল্যবান চিঠি সময়ের ধুলায় হারিয়ে গেছে, কিন্তু তার আধ্যাত্মিক উষ্ণতা আজও হৃদয়ে সংরক্ষিত আছে।

মাওলানা মুহাম্মদ আহমদ প্রতাপগড়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি সেই সৌভাগ্যবান মানুষদের মধ্যে ছিলেন যাদের জীবনও প্রেম ছিল এবং যাদের বার্তাও প্রেম ছিল। তিনি ধর্মকে বিরোধ ও বিভেদের কারণ বানাননি, বরং আল্লাহর সাথে সম্পর্ক এবং বান্দাদের সাথে প্রেমের মাধ্যম বানিয়েছিলেন। তার মজলিসে ওয়াজের ভারীতা ছিল না, বরং নীরব সান্নিধ্যের সেই প্রভাব ছিল যার সম্পর্কে কেউ সত্য বলেছেন: “দার কার-ই ইশক নালা ও আহে জরুর নি।”

আজ যখন বিশ্ব ধর্মীয় গোঁড়ামি, আধ্যাত্মিক ভান, এবং মতবাদী কোলাহলে ভরা, মাওলানা রহমতুল্লাহি আলাইহির মতো ব্যক্তিত্ব আরও বেশি স্মরণ হয়। তিনি এই সত্যের জীবন্ত উদাহরণ ছিলেন যে ওলায়েতের আসল সারমর্ম হলো মানুষকে আল্লাহর সাথে যুক্ত করা এবং আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি প্রেম করা।

যখনই তার নাম মনে আসে, হৃদয়ে এক নীরব আগুন জ্বলে ওঠে, এবং মনে হয় যেন আল্লাহর প্রেমের একটি প্রদীপ এখনও এই পৃথিবীর অন্ধকারে আলো দিচ্ছে:

আমার দেহে এমন কোনো অঙ্গ নেই, যেখানে তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা নেই;
মনে হয় যেন আমার প্রতিটি অঙ্গই হৃদয় হয়ে সৃষ্টি হয়েছে।

———-

ক্যাটাগরি : সিরাহ, আখলাক, তাজকিয়াহ, ইসলামি চিন্তাধারা

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/9063

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *