AkramNadwi

দৃঢ় বিশ্বাস রাখে; অথচ ভিন্ন সমাজ, সভ্যতা ও কালের

দৃঢ় বিশ্বাস রাখে; অথচ ভিন্ন সমাজ, সভ্যতা ও কালের বিচিত্র নৈতিক ধারণা ইঙ্গিত করে—নৈতিক সিদ্ধান্তেও মানুষের উপলব্ধি, সংস্কৃতি ও পরিস্থিতি সক্রিয়। তাই নৈতিক বিশ্বাসের জায়েজ অঙ্কশাস্ত্রের প্রমাণের মতো চূড়ান্ত নয়; বরং যুক্তি, মানবানুভূতি ও নৈতিক অন্তর্দৃষ্টিতে টিকে থাকে।

৫. যদি নিখাদ নিশ্চয়তাই শর্ত হয়?
যদি ধার্য করা হয়—ইলম হতে হলে তাকে সবপ্রকার সংশয়ের ঊর্ধ্বে হতে হবে, তবে মানুষ হয়তো কোনো বিষয়কেই ইলম বলতে পারবে না। কারণ আমাদের সব উপলব্ধির মুখ্যসূত্রই সীমাবদ্ধ: ইন্দ্রিয় ভ্রান্তি-সংকুল, স্মৃতি অসম্পূর্ণ, বুদ্ধি ত্রুটিমুক্ত নয়, পরীক্ষা সীমিত, ইস্তিকরা যুক্তি-আবশ্যকতা সৃষ্টি করে না। তাহলে যদি পূর্ণ-নিশ্চয়তাকেই ইলমের শর্ত বানানো হয়, মানবজ্ঞানের সিংহভাগই ইলমের পরিধি থেকে ছিটকে পড়ে—যে-কথা বাস্তব জীবনে ঘটছে না। প্রতিদিনের জীবন, আদালত, চিকিৎসা, বিজ্ঞান—সবক্ষেত্রেই আমরা যেসব বিষয়কে ইলম বলি, সেগুলো মজবুত প্রমাণসাপেক্ষ, যদিও তাত্ত্বিক ভুলের সম্ভাবনা খোলা থাকে।

৬. ইলমের প্রাণশক্তি: সংশোধনযোগ্যতা
তাই ইলমের আসল ভিত্তি নিশ্চয়তা নয়, বরং জায়েজ। মানুষ কোনো কথা তখনই ‘জানি’ বলে, যখন তার বিশ্বাসের পক্ষে সম্মত প্রমাণ, সঠিক তর্ক ও নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য হাজির থাকে। পরে যদি আরও শক্ত দলিল আসে, তখন সে পূর্বতন ইলম পরিশোধন করে। এ-ই ইলমকে জীবন্ত রাখে। ইলমকে যদি অখণ্ড ও অপরিবর্তনীয় ধরা হয়, তবে অনুসন্ধান-সমালোচনা ও অগ্রগতির দুয়ার বন্ধ হয়ে যায়। আর ইলমকে যদি শক্তভিত্তিক ধারণা ধরা হয়, তবে প্রতিটি নতুন প্রমাণ তাকে সমৃদ্ধ, সংশোধিত ও পরিমার্জিত করে তোলে।

৭. ‘ধারণাত্মক’ মানে দুর্বল নয়
ধারণাত্মক হলেই তা দুর্বল, এমন নয়। কিছু ধারণাত্মক ইলম এত স্পষ্ট ও প্রবল যে, সেগুলোর ওপর আস্থা রাখা বুদ্ধিরই দাবি—আগুন জ্বালায়, ওষুধ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে রোগে কাজ করে, পৃথিবী সূর্যের চারদিকে ঘোরে—ইত্যাদি। এখানে তাত্ত্বিক ভুল-সম্ভাবনা অবশিষ্ট থাকলেও, তাদের প্রমাণ এত শক্ত যে, বাস্তবে সন্দেহ উদ্ভট শোনায়। তাই জন্নি ও ওয়াহম -এর তফাৎ করা জরুরি; ওয়াহম অপ্রমাণিত, যেখানে জন্নি মজবুত প্রমাণ-নির্ভর।

উপসংহার
উল্লিখিত সব যুক্তি-সাক্ষ্যের আলোকে স্পষ্ট হয়—মানবজ্ঞান আপন স্বভাবেই ধারণাত্মক। এর কারণ, মানুষ সত্যে পৌঁছালেও তার পথ সীমাবদ্ধ। সীমিত উৎস থেকে প্রাপ্ত জ্ঞান কখনোই পরিপূর্ণ হতে পারে না। মানুষ নিশ্চিততার দিকে যাত্রা করে বটে, কিন্তু তার সমগ্র জ্ঞানভান্ডার এমন প্রমাণের ওপর দাঁড়ায়, যা সদা-সংশোধন, নবসন্ধান ও উৎকৃষ্ট যুক্তির আলোয় পুনর্বিবেচনার যোগ্য।

‘জ্ঞানের ভিত্তি ধারণাত্মক কেন?’—উত্তর সংক্ষেপে এই: মানুষের সব জ্ঞানসূত্র—ইন্দ্রিয়, স্মৃতি, বুদ্ধি, পরীক্ষা ও ইস্তিকরা—নিজ গঠনে ত্রুটির সম্ভাবনা বহন করে। তাই ইলমের মানদণ্ড নিখাদ নিশ্চয়তা নয়, বরং শক্ত জায়েজ, নির্ভরযোগ্য সাক্ষ্য ও সংগত তর্ক। মানুষ ঠিক ততটুকুই জানে, যতটুকু তার প্রমাণ পৌঁছে দেয়—এ-ই ইলমকে মান্য করে তোলে, না যে এমন এক নিশ্চয়তা, যেখানে ভুলের সম্ভাবনা চিরদিনের জন্য নির্বাপিত হয়ে গিয়েছে।
———
ক্যাটাগরি: #দর্শন, #চিন্তন, #শিক্ষা, #বিজ্ঞান, #ধর্মতত্ত্ব
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ: এই নিবন্ধটি AI দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছে।
https://t.me/DrAkramNadwi/9543

ড. মুহাম্মদ আকরম নাদভীর অক্সফোর্ড-সংক্রান্ত লেখার জন্য হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল:
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *