জীবন আর দুনিয়াবি সরাসরি হস্তক্ষেপ—দুটি আলাদা দাবি; পরেরটির দলিল চাই।
স্বপ্ন ও ব্যক্তিগত তাজরিবা
কেউ বলে, “স্বপ্নে বুজুর্গকে দেখেছি, তিনি বললেন…”—আমরা তার অভিজ্ঞতাকে মিথ্যা বলি না, তবে বলি—এটা ব্যক্তিগত; শরিয়তি দলিল নয়। স্বপ্ন, কাশফ, ইলহাম—নিজস্ব কল্যাণ-সুচনাই হতে পারে, কিন্তু সারা উম্মাহর আকিদা বা হুকুম নির্ধারণ করতে পারে না। নচেৎ দ্বীন সংরক্ষিত ওহি না হয়ে ব্যক্তিগত গল্পসমষ্টি হয়ে যেত—এভাবেই বিদআতের দরজা খুলে যায়।
আলেমের মর্যাদা মানে সব কথা অচ্যুত নয়
আমরা আলেমদের শ্রদ্ধা করি, উপকৃত হই; কিন্তু নিষ্পাপ কেবল নবী ﷺ। মহান আলেমও ইজতিহাদে ভুল করতে পারেন, বুজুর্গও কোনো বিষয়ে বিভ্রান্ত হতে পারেন, গল্পও অপ্রমাণিত হতে পারে। তাই মানদণ্ড হল কুরআন-সুন্নাহ, ব্যক্তি নয়। প্রমাণ থাকলে গ্রহণ, না থাকলে তা বিশ্বাসের অংশ বানানো যাবে না।
সারকথা
“বুজুর্গের ফয়েজ মৃত্যু পর বাড়ে”—এর মানে যদি হয়—তাদের ইলম ও নসিহত এখনও কল্যাণবাহী, কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু অর্থ যদি হয়—মৃত বুজুর্গ সরাসরি জিন্দাদের প্রশ্ন শুনছেন, দুঃখ মোচন করছেন, রুহানি তাওয়াজ্জুহ দিচ্ছেন—তবে এটি আকিদা-সংকট ও উম্মাহর জন্য ক্ষতিকর। এতে ধীরে ধীরে মানুষ কুরআন-সুন্নাহ ছেড়ে ব্যক্তিত্বর দিকে ঝুঁকে পড়ে; কবর হয় রেফারেন্স-কেন্দ্র, ঘটনা-অভিজ্ঞতা হয় মানদণ্ড। তখন তাওহিদের আসনে বসে যায় সৃষ্টিরূপী শক্তিধারীর ধারণা—যার প্রমাণ আল্লাহ দেননি। অতিরঞ্জন পরিহার ইসলামি শিক্ষা।
আমরা নেককারদের ভালোবাসি, তাদের জন্য দোয়া করি, তাদের বই পড়ি, তাদের জীবন থেকে শিক্ষা নিই—কিন্তু বিশ্বাসের সীমানা শরিয়তেরই। আলেম মারা গেলেও তার ইলম বেঁচে থাকে; মুজাদ্দিদের চিন্তা প্রজন্ম ছুঁয়ে যায়; উস্তাদের শিক্ষামালা ছাত্রেরা বহন করে; লেখকের গ্রন্থ হাতে হাতে ঘোরে—এটাই স্পষ্ট, বোধগম্য, শরিয়তের সঙ্গত ফয়েজ। কিন্তু বলা—“মৃত নিজেই কবর থেকে নতুনদের তালিম দিচ্ছেন”—এ দাবি স্পষ্ট দলিলের মুখাপেক্ষী।
গায়েব ইস্যুতে “আমি শুনেছি”, “লোকজন বলে”, “আমার অভিজ্ঞতা”, “অমুক বুজুর্গ বলেছেন”—ইত্যাদি যথেষ্ট নয়। চাই কুরআন, চাই সহিহ সুন্নাহ, চাই প্রমাণ।
এই আলোচনা কারও ব্যক্তিগত বিরোধিতা নয়; উদ্দেশ্য—আকিদার সীমানা রক্ষা। দেওবন্দি-বরেলভি, সুফি-সালাফি, আরব-আনআরব—সত্য কারও একক মালিকানাধীন নয়। প্রমাণ-সমর্থিত কথা প্রমাণ দিয়েই গ্রহণযোগ্য, প্রমাণহীন কথা শুধু বুজুর্গের নামে হলেও আকিদা হয় না।
অদৃশ্য নিয়ে বাড়াবাড়ি না করা তাকওয়া। ওহি নীরব থাকলে কল্পনায় গায়েব জগৎ সাজিয়ে তাকে ‘দ্বীন’ বলা আমাদের অধিকার নয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ যা বললেন তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট; তিনি যা বললেন না, সে বিষয়ে নীরবতা রক্ষা করাও দ্বীনের আমানতের হক আদায়।
কুরআন হাতে, সুন্নাহ সামনে, কিয়ামত পর্যন্ত উম্মাহয় আলেম থাকবেন—আমরা তাঁদের থেকেই শিখব, উপকৃত হব, কুরআন-সুন্নাহ বুঝব।
কবর জিয়ারত করুন—আখিরাত স্মরণে; নেককারের জীবন পড়ুন—পুণ্যের পথে ডাকে; তাঁদের গ্রন্থ থেকে ইলম নিন; তাঁদের ছাত্রদের মাধ্যমে জ্ঞান ছড়াক। সবই কল্যাণ। কিন্তু কবরকে মাদরাসা, দরগাহকে ফাতওয়া-কেন্দ্র, মৃতকে সরাসরি হেদায়েতদাতা বানাতে হলে স্পষ্ট দালিলিক ভিত্তি চাই।
মূলনীতি কঠোরভাবে স্মরণে রাখুন—
আকিদা গড়ে প্রমাণে, ভালোবাসায় নয়। গায়েব জানা যায় ওহিতে, অনুমানে নয়। দ্বীন চিনুন কুরআন-সুন্নাহয়, ব্যক্তিত্বে নয়।
আমরা অবশ্যই পূর্বসূরি নেককারদের ভালোবাসি; তবে ভালোবাসায় এমন বাড়াবাড়ি নয় যে তা আমাদের স্পষ্ট দ্বীনি নীতির বাইরে নিয়ে যায়। কারণ নেককারদের সর্বশ্রেষ্ঠ সেবা—তারা আমাদের ডাকে নিজেদের দিকে নয়, আল্লাহর দিকে; নিজেদের ব্যক্তিত্বে নয়, রাসুলের সুন্নাহর দিকে; নিজেদের কারামতে নয়, কুরআন ও ওহির দিকে। সেটাই তাঁদের আসল মর্যাদা, ইলমের ইজ্জত, তাওহিদের হেফাজত।
———
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ: এই নিবন্ধটি AI দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছে।
https://t.me/DrAkramNadwi/10117
ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভীর প্রবন্ধের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল:
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w