জীবনের সত্য তখনই উন্মোচিত হয়, যখন মানুষ নিজের সঙ্গে এবং নিজের কর্মের সঙ্গে প্রশ্ন করে—এসব কি আমার ব্যক্তিগত গুরুত্বের প্রমাণ, নাকি সত্যের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ? আমি কি আমার সময় নষ্ট করছি, নাকি প্রতিটি মুহূর্ত আমার পরিচয় ও সত্তার ভিত্তি হয়ে উঠতে পারে? এই প্রশ্নগুলোই মানুষকে গভীর চিন্তায় ডুবিয়ে দেয় এবং তাকে নিজের নশ্বরতার সচেতনতায় পৌঁছে দেয়।
হে নশ্বরতার সন্তান, এই কণ্ঠস্বর তোমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, তুমি ক্ষণস্থায়ী, আর তোমার সব দাবি সাময়িক। যদি তুমি নিজের সত্যকে মেনে নিতে পারো, তবে জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত গভীরতা ও উদ্দেশ্যে ভরে উঠতে পারে। প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি ক্ষণ, প্রতিটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি অনুভূতি, সবই এক একটি সুযোগ, যাতে তুমি তোমার অস্তিত্বের সত্যকে অনুভব করতে পারো। সমস্যা এই নয় যে তুমি একদিন মুছে যাবে; সমস্যা হলো, কোন সত্যের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তুমি সেই পরিণতির মুখোমুখি হবে।
এই সচেতনতা মানুষকে গভীর প্রশান্তি ও পূর্ণ স্পষ্টতা দান করে। মানুষ যখন নিজের নশ্বরতাকে চিনে ফেলে, তখন সে দুনিয়ার প্রলোভন, ভোগবিলাস ও ক্ষণস্থায়ী দাবির ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে যেতে দেয় না। তখন তার প্রতিটি কাজ, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি ভাবনা অর্থবহ হয়ে ওঠে। সে জানে, যা তার সঙ্গে থাকবে, তা হলো চিরস্থায়ী সত্য: ঈমান ও আমল। এই সত্যই মানুষের অস্তিত্বকে সজীব, পরিপূর্ণ ও উদ্দেশ্যময় করে তোলে।
হে নশ্বরতার সন্তান, তোমার ট্র্যাজেডি তোমার দুর্বলতা নয়; তোমার ট্র্যাজেডি হলো ভুলে যাওয়া। যদি তুমি নিজের সত্য মনে রাখো, তবে প্রতিটি নিঃশ্বাস ইবাদতে পরিণত হতে পারে, প্রতিটি ভয় হতে পারে মারিফত, আর প্রতিটি ক্ষয় খুলে দিতে পারে স্থায়িত্বের দ্বার। তোমার জীবনের আসল মূল্য এইখানেই, তুমি নিজের নশ্বরতাকে চিনবে এবং সেই চেতনা নিয়েই জীবন যাপন করবে। যে নিজের নশ্বরতাকে বোঝে, সেই-ই নিজের জীবনকে পূর্ণ ও অর্থবহ করে তুলতে পারে। এটাই সেই সত্য, যা সময়ের স্রোতের মধ্যেও মানুষকে তার উদ্দেশ্য ও টিকে থাকার বোধ দান করে, আর প্রতিটি মুহূর্তকে আলো ও গুরুত্বে উজ্জ্বল করে তোলে।
———–
ক্যাটাগরি : তাজকিয়াহ, ইসলামি চিন্তাধারা, ফিলোসোফি,
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8386