কত মানুষ সঠিক কথাকেও দোষারোপ করে,
আর তার এই দুর্ভাগ্যের কারণ তার বিকৃত বোধশক্তি।
কিন্তু মানুষের বোধশক্তি তা থেকে গ্রহণ করে
নিজ নিজ মেধা ও জ্ঞানের পরিমাণ অনুযায়ী।
আকাশ ও পৃথিবী সাক্ষী, কত মানুষ ছিল, যাদের বুদ্ধি-বিবেচনা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তারা অন্যের কথা না শোনার কারণে এমন পরিণতির শিকার হয়েছে, যা মূর্খ ও অজ্ঞদের চেয়েও নিকৃষ্ট। আবার কত কমবুদ্ধি ও অজ্ঞ মানুষ আছে, যারা অন্যদের পরামর্শ গ্রহণ করার কারণে জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবানদের চেয়েও অধিক জ্ঞানী ও দূরদর্শী হয়ে উঠেছে।
চোখ থাকা সত্ত্বেও মানুষ হোঁচট খায়, আর অন্ধ ব্যক্তি সহজেই গন্তব্যে পৌঁছে যায়।
জীবনে প্রকৃত সফলতা তাদেরই, যারা নিজেদের দুর্বলতা চিনতে পারে এবং তা দূর করার চেষ্টা করে। যারা শুধু নিজের দুই চোখ, দুই কান আর এক মস্তিষ্কের ওপর নির্ভর করে সন্তুষ্ট থাকে না; বরং হাজারো চোখ দিয়ে দেখে, হাজারো কান দিয়ে শোনে, এবং হাজারো মস্তি-ষ্ক দিয়ে চিন্তা করে।
আমি তা-ই শুনি, যা শোনা যায় না,
আমি তা-ই দেখি, যা চোখে দেখা যায় না।
কত শিক্ষিত রাষ্ট্রনেতা রয়েছে, যাদের সামনে সংসদ আছে, পরামর্শের সুযোগ আছে; তবুও নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তারা নিজেদের এবং সমগ্র জাতিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, ইতিহাসে এমন অনেক অজ্ঞ ও সাধারণ রাজাও অতিবাহিত হয়েছে, যারা প্রজ্ঞাবান ও জ্ঞানীদের সূক্ষ্ম ইঙ্গিত ও পরামর্শের ওপর আস্থা রেখে নিজেদেরকে জ্ঞানী ও দূরদর্শী প্রমাণ করেছে এবং নিজেদের দেশ ও জাতিকে কল্যাণের পথে পরিচালিত করেছে।
আর যদি তুমি চাঁদ দেখতে না পাও,
তবে তাদের ওপর ভরসা করো, যারা নিজেদের চোখে তা দেখেছে।
———-
ক্যাটাগরি : ইসলামি চিন্তাধারা, তাজকিয়াহ, উপদেশ
✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/2397