AkramNadwi

ইবন ইসহাক বলেন, খন্দক যুদ্ধ শেষে মদিনায় ফেরার পথে

ইবন ইসহাক বলেন, খন্দক যুদ্ধ শেষে মদিনায় ফেরার পথে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে যোহরের সময় জিবরাইল আলাইহিস সালাম এলেন এবং বললেন, আল্লাহ আপনাকে বনু কুরায়যার দিকে অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিলালকে নির্দেশ দিলেন লোকদের মধ্যে ঘোষণা দিতে,
“যে শুনছে, সে যেন বনু কুরায়যায় না পৌঁছা পর্যন্ত আসরের নামাজ আদায় না করে।”

তাবারানি ও বায়হাকি তাঁদের ‘দালায়িল’-এ সহিহ সনদে যুহরি থেকে আব্দুর রহমান ইবন আব্দুল্লাহ ইবন কা‘ব ইবন মালিকের সূত্রে তাঁর চাচা উবাইদুল্লাহ ইবন কা‘ব থেকে বর্ণনা করেছেন:
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন আহযাবের বিরুদ্ধে অভিযানের পর ফিরে এলেন, অস্ত্র খুলে গোসল করলেন, তখন জিবরাইল তাঁর সামনে উপস্থিত হয়ে বললেন, যুদ্ধ তো এখনও শেষ হয়নি। তখন তিনি দ্রুত উঠে দাঁড়িয়ে লোকদের নির্দেশ দিলেন,
“তোমরা বনু কুরায়যায় না পৌঁছা পর্যন্ত আসরের নামাজ আদায় করবে না।”
লোকেরা অস্ত্র ধারণ করল। সূর্য অস্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত তারা বনু কুরায়যায় পৌঁছাতে পারেনি। সূর্যাস্তের সময় তাদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিল, একদল আসরের নামাজ আদায় করল, আরেক দল বলল, আমরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশের মধ্যেই আছি; আমাদের কোনো গুনাহ নেই। তিনি উভয় দলকেই তিরস্কার করলেন না।

তাবারানি এই বর্ণনাটি কা‘ব ইবন মালিকের নামসহ সংযুক্তভাবে এনেছেন। বায়হাকি কাসিম ইবন মুহাম্মদের সূত্রে আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে অনুরূপ একটি দীর্ঘ বর্ণনা এনেছেন, যেখানে এসেছে—
“এক দল ঈমান ও সওয়াবের আশায় নামাজ আদায় করল, আরেক দল ঈমান ও সওয়াবের আশায় নামাজ আদায় করল না।”

এসব বর্ণনা একত্রে প্রমাণ করে যে, ঘটনাটি আসরের নামাজকেই কেন্দ্র করে ঘটেছিল, যেমনটি ইমাম বুখারি বর্ণনা করেছেন।

আমি বলি: সম্ভবত ইমাম বুখারির উদ্দেশ্য ছিল, নিজ শাইখের বর্ণনায় যে ভুলটি রয়ে গেছে, তার প্রতি ইঙ্গিত করা। তাই তিনি হাদিসটি সঠিক রূপে বর্ণনা করেছেন, সীরাত ও ইতিহাসবিদদের বর্ণনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে।

সহিহ বুখারিতে এ ধরনের দৃষ্টি আকর্ষণমূলক সংশোধনের নজির রয়েছে। আমি আমার গ্রন্থ مدخل رائع إلى صحيح البخاري وما فيه من أسرار وصنائع এ সে সব দৃষ্টান্ত উল্লেখ করেছি।

———-

ক্যাটাগরি : হাদিস, ইসলামি চিন্তাধারা, কোরআন, ফিকাহ, সিরাহ।

✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍️ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7958

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *