Skip to main content

AkramNadwi

আপনি জানতে চেয়েছেন, উপমহাদেশ—বিশেষত ভারতে—বহুবিবা

আপনি জানতে চেয়েছেন, উপমহাদেশ—বিশেষত ভারতে—বহুবিবাহ তুলনামূলকভাবে কেন কম প্রচলিত? এর পেছনে একাধিক সামাজিক কারণ রয়েছে। শতাব্দী ধরে এ অঞ্চলের পারিবারিক কাঠামো, অর্থনৈতিক অবস্থা, বাসস্থানের সংকীর্ণতা, সামাজিক রীতিনীতি ও আইনি জটিলতা আরব সমাজের তুলনায় ভিন্ন। সুতরাং সব সমাজে একই চিত্র থাকবে—এ কথা সঠিক নয়। শরিয়ত অনুমতি দিয়েছে, তবে কোনো সমাজে তার প্রসার বেশি হবে কি কম হবে, তা বহু বাস্তবিক বিষয়ে নির্ভরশীল।

একইভাবে, বিধবা ও তালাকপ্রাপ্ত নারীর সমস্যার সমাধান শুধু বহুবিবাহের মধ্যেই সীমিত রাখলে চলবে না। তাদের ভরণ-পোষণ, শিক্ষা, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা, পারিবারিক সহায়তা, সামাজিক নিরাপত্তা ও উপযুক্ত সম্পর্কের সংস্থান নিশ্চিত করার জন্য সুসংগঠিত উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। নিঃসন্দেহে কিছু নারীর জন্য দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় স্ত্রী হওয়া শ্রেয় ও সম্মানজনক সমাধান হতে পারে; তবে প্রত্যেক নারীর জন্য এটাই একমাত্র পথ নয়, আর সব পুরুষও সেই দায়িত্ব গ্রহণের যোগ্য নন।

সুতরাং এ বিষয়ে উভয় চরমপন্থা—অতিরঞ্জন ও অবহেলা—পরিহার করা আবশ্যক। বহুবিবাহকে ‘ভুলে যাওয়া সুন্নাহ’ মনে করে শর্তহীনভাবে সাধারণীকরণের আহ্বান যেমন সঠিক নয়, তেমনি একে নিন্দিত বা অবৈধ সাব্যস্ত করাও সমুচিত নয়। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হল—এটি আল্লাহ তায়ালার একটি শর্তসাপেক্ষ অনুমতি, যার ভিত্তি ন্যায়, তাকওয়া, আর্থিক সামর্থ্য এবং স্বত্ব পূর্ণাঙ্গ রক্ষণাবেক্ষণ। যখন এই শর্তগুলি পূর্ণ হয়, তখন এটি কিছু সামাজিক সমস্যার সমাধানের উপায় হতে পারে; আর তা অপূর্ণ থাকলে, এই অনুমতিই অবিচার, বঞ্চনা ও পারিবারিক অস্থিরতার কারণ হয়ে উঠতে পারে।

 ———-

ক্যাটাগরি : উসরাহ, ফিকাহ, উপদেশ, ফাতাওয়া

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/9776

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *