AkramNadwi

হানাফি মাযহাবে এক সালামের সাথে নফল নামাজের রাকাত সংখ্যা

https://t.me/DrAkramNadwi/2047

بسم الله الرحمن الرحيم.

—————-

= তারা বললেন: হানাফি মাযহাবে এক সালামের সাথে নফল নামাজের রাকাত সংখ্যা কত?

= আমি বললাম: দিনে আমাদের তিন ইমাম—ইমাম আবু হানিফা, ইমাম আবু ইউসুফ ও ইমাম মুহাম্মদ (রহ.)—এর মতে, দু’ রাকাত অথবা চার রাকাত পড়া যায়। আর রাতে ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, দু’ রাকাত, চার রাকাত, ছয় রাকাত বা আট রাকাত এক সালামের সাথে পড়া যায়। তবে তাঁর দুই সাথী এ বিষয়ে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তাঁরা বলেছেন, রাতে এক সালামের সাথে দুই রাকাতের বেশি পড়া যাবে না।

= তারা বললেন: যদি মাযহাবের নির্ভরযোগ্য কিতাব থেকে কিছু উদ্ধৃতি দিতে পারেন।

= আমি বললাম:

১. ইমাম আলাউদ্দীন কাসানী (মৃ. ৫৮৭ হি.)-এর ‘বদায়েউস সানায়ে’ (২/২৯০)-এ এসেছে:
“যেখানে সংখ্যার বিষয়ে আলোচনা হয়, দিনে চার রাকাতের বেশি এক সালামের সাথে পড়া মাকরুহ। কিন্তু রাতে মাকরুহ নয়। সে ছয় কিংবা আট রাকাত পড়তে পারে। এটি ‘আল-আসল’-এ উল্লেখ করা হয়েছে। আর ‘আল-জামি’ আস-সগীর’-এ এসেছে, ‘যদি চাও, তাহলে এক তাকবীরে দুই রাকাত পড়ো, যদি চাও চার, আর যদি চাও ছয়। তবে এর চেয়ে বেশি নয়।’”

২. ইমাম বুরহানুদ্দীন মারগিনানি (মৃ. ৫৯৩ হি.)-এর ‘আল-হিদায়া’ (১/২৯৬-২৯৭)-এ এসেছে:
“দিবা নফল নামাজের ক্ষেত্রে, চাইলে দুই রাকাত এক সালামে পড়বে, চাইলে চার রাকাত। এর বেশি পড়া মাকরুহ। আর রাতের নফল নামাজ সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা (রহ.) বলেছেন: ‘যদি কেউ আট রাকাত এক সালামের সাথে পড়ে, তাহলে তা জায়েজ।’ কিন্তু তাঁর দুই সাথী বলেছেন: ‘রাতে এক সালামের সাথে দুই রাকাতের বেশি পড়া যাবে না।’”

৩. আল্লামা আবদুল্লাহ বিন মাহমুদ মাওসুলি (মৃ. ৬৮৩ হি.)-এর ‘আল-ইখতিয়ার লি তা’লীলিল মুখতার’ (১/৯২)-এ এসেছে:
“রাতের নামাজ দুই রাকাত এক সালামে, অথবা চার, ছয়, কিংবা আট রাকাত হতে পারে। আর দিনের নামাজ দুই বা চার রাকাত হতে পারে।”

= তারা বললেন: তাহলে কি ইমাম আবু হানিফার মতে রাতে আট রাকাতের বেশি পড়া মাকরুহ?

= আমি বললাম: এ বিষয়ে মাশায়েখদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।

১. ‘আল-হিদায়া’ (১/২৯৬)-এ এসেছে:
“এর বেশি পড়া মাকরুহ”—অর্থাৎ আট রাকাতের বেশি।

২. ‘আদ-দুররুল মুখতার’ (৪/২৬৭)-এ এসেছে:
“নফল নামাজে দিনে চার রাকাতের বেশি এবং রাতে আট রাকাতের বেশি এক সালামের সাথে পড়া মাকরুহ।”

৩. সারাখসী বলেছেন:
“সঠিক মত হলো, আট রাকাতের বেশি পড়া মাকরুহ নয়।” (‘ফাতহুল কাদীর’ ১/৩৮৯)

৪. ‘বদায়েউস সানায়ে’ (২/১৯০)-তে এসেছে:
“মাশায়েখদের মধ্যে আট রাকাতের বেশি এক সালামের সাথে পড়ার বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ বলেছেন, এটি মাকরুহ, কারণ রাসুলুল্লাহ (সা.) থেকে এর অধিক কিছু বর্ণিত হয়নি। অন্যরা বলেছেন, এটি মাকরুহ নয়। ইমাম সারাখসী (রহ.) এ মত গ্রহণ করেছেন এবং বলেছেন: ‘এর মাধ্যমে এক ইবাদত অন্য ইবাদতের সাথে সংযুক্ত হয়, তাই এটি মাকরুহ নয়।’”

৫. ইবনে আবেদিন (রহ.) ‘হাশিয়া’ (৪/২৬৮)-তে বলেছেন:
“মুতাআখখির মাশায়েখদের মধ্যে রাতের আট রাকাতের বেশি পড়া নিয়ে মতভেদ হয়েছে। কেউ বলেছেন, এটি মাকরুহ নয়। এবং এ মত গ্রহণ করেছেন শামসুল আইম্মা সারাখসী।”

৬. ‘ফাতাওয়া হিন্দিয়া’ (১/১১৩)-তে এসেছে:
“দিনের নফল নামাজে চার রাকাতের বেশি এবং রাতের নফল নামাজে আট রাকাতের বেশি এক সালামের সাথে পড়া মাকরুহ।”

= তারা বললেন: তাহলে কি তারাবিহতে চার রাকাত এক সালামের সাথে পড়া যাবে?

= আমি বললাম: হ্যাঁ।

১. ‘বদায়েউস সানায়ে’ (২/২৭৬-২৭৭)-এ এসেছে:
“যদি কেউ এক সালামের সাথে চার রাকাত (এক তরাওয়ীহা) পড়ে এবং দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদ পড়ার মতো সময় বসে থাকে, তাহলে এটি অবশ্যই জায়েজ হবে। কেননা আমাদের ইমামদের মতে, এক তাকবীরের মাধ্যমে অনেক নামাজ আদায় করা যায়। কারণ তাকবীরে তাহরিমা আমাদের মতে শর্ত, রুকন নয়। তবে মাশায়েখদের মধ্যে এ বিষয়ে মতভেদ আছে যে, এটি দুই সালামের স্থলে গণ্য হবে কি না? অধিকাংশ মাশায়েখের মতে, এটি দুই সালামের স্থলে গণ্য হবে। এবং এটিই সঠিক মত।”

২. ‘ফাতাওয়া হিন্দিয়া’ (১/১১৮)-তে এসেছে:
“যদি কেউ এক সালামের সাথে চার রাকাত পড়ে এবং দ্বিতীয় রাকাতে তাশাহহুদ পড়ার মতো সময় বসে থাকে, তাহলে এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। অধিকাংশ মাশায়েখের মতে, এটি দুই সালামের পরিবর্তে গণ্য হবে। এবং এটিই সঠিক। এ বিষয়ে ‘ফাতাওয়া কাযীখান’-এও একই কথা বলা হয়েছে।”

= আমি বললাম: এমনও অনেকে রয়েছেন, যারা চার রাকাতের বেশি এক সালামের সাথে পড়ার অনুমতি দিয়েছেন এবং একে মাকরুহ বলেননি। (‘শরহুল মুনিয়াহ আল-কাবীর’, ‘ফাসল ফি নাওয়াফিল’, পৃষ্ঠা ৪০৫ এবং ‘হাশিয়া ইবনে আবেদিন’, ৪/৩৬৫-৩৬৬ দেখুন)

——————–

✍ মূল : ড. আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড, ইউকে।
✍অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা : মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *