https://t.me/DrAkramNadwi/5898
بسم الله الرحمن الرحيم
❝
শাইখ নিজামুদ্দীন মুহাম্মদ বিন আহমদ বিন আলী বাদায়ূনী দেহলভী, যিনি “আউলিয়া” উপাধিতে পরিচিত (৬৩৩-৭২৫ হিজরি), তিনি ছিলেন ভারতের প্রসিদ্ধ আলেমদের একজন এবং এখানকার চিশতিয়া তরীকার অন্যতম প্রধান সুফি শাইখ। তাঁর পূর্বপুরুষেরা বুখারা শহরের অধিবাসী ছিলেন। তাঁরা ভারত হিজরত করে বাদায়ূন শহরে বসবাস শুরু করেন। শাইখ নিজামুদ্দীন এখানেই জন্মগ্রহণ করেন, বেড়ে ওঠেন এবং জ্ঞান ও আমলে উন্নতি লাভ করেন। তিনি শাইখ ফরিদুদ্দীন মাসউদ গঞ্জশকর, যিনি “বাবা ফরিদ” নামে পরিচিত, তাঁর কাছ থেকে তরীকার ইজাযত লাভ করেন। এরপর তিনি দিল্লিতে স্থায়ী হন এবং সেখানেই ইন্তেকাল করেন ও দাফন হন। তাঁর কবর দিল্লির এক স্থানে রয়েছে, যা তাঁর নামেই পরিচিত— “হজরত নিজামুদ্দীন”। এখানেই দাওয়াত ও তাবলীগের কেন্দ্র অবস্থিত।
শাইখ নিজামুদ্দীন এমন সব রাজা-সুলতানের সমসাময়িক ছিলেন, যাঁদের মধ্যে ছিলেন সুলতান গিয়াসউদ্দীন তুঘলক। তিনি ছিলেন তুর্কি বংশোদ্ভূত এবং ৭২০ থেকে ৭২৫ হিজরি পর্যন্ত শাসনকার্য পরিচালনা করেন। তিনি তুঘলকি বংশের প্রতিষ্ঠাতা, যে রাজবংশ প্রায় এক শতাব্দী ধরে ভারত শাসন করেছিল।
তাসাউফ-সংক্রান্ত গ্রন্থগুলোতে বর্ণিত আছে যে, শাইখ নিজামুদ্দীন আউলিয়ার প্রতি রাজারা বিদ্বেষ পোষণ করতেন, কারণ তাঁরা দেখতেন যে, ভারতের সর্বস্তরের মানুষ তাঁর দিকে ঝুঁকে পড়ছে। তাঁদের মধ্য থেকে একজন ছিলেন সুলতান গিয়াসউদ্দীন তুঘলক। তিনি জীবনের শেষ প্রান্তে বাংলায় এক অভিযানে যান এবং সেখান থেকে শাইখ নিজামুদ্দীনকে একটি পত্র লেখেন, যাতে তিনি দিল্লি ত্যাগ করার আদেশ দেন এবং তাঁর এই নির্দেশ অমান্য করলে প্রাণনাশের হুমকি দেন। উত্তরে শাইখ লিখলেন— “হনুজ দিল্লি দূর আস্ত” অর্থাৎ “দিল্লি এখনও দূরেই”।
সুলতান যুদ্ধ শেষ করে দিল্লির দিকে রওনা হলেন। তখন শাইখের মুরীদরা তাঁকে সুলতানের অত্যাচারের ভয় দেখিয়ে দিল্লি ত্যাগ করতে বললেন। শাইখ শান্ত ও ধীরস্থিরভাবে বললেন— “দিল্লি এখনও দূরেই”।
সুলতান দিল্লির তিন মাইল দূরে অবস্থিত আফগানপুর গ্রামে পৌঁছালেন। তাঁর উত্তরাধিকারী পুত্র সেখানেই তাঁর জন্য একটি বিশাল কাঠের প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। সুলতান সেখানে বিশ্রামের জন্য উঠলেন। এদিকে শাইখ নিজামুদ্দীনকে যখন জানানো হলো যে, সুলতান দিল্লির একদম কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন, তখনও তিনি একই কথা বললেন— “দিল্লি এখনও দূরেই”।
বলা হয়ে থাকে, সেই রাজকীয় প্রাসাদ, যা ছিল চমৎকার অলঙ্করণে সুসজ্জিত, হঠাৎ সম্পূর্ণরূপে ধসে পড়ে এবং সুলতান এর নিচে চাপা পড়ে মৃত্যুবরণ করেন। আর শাইখ নিজামুদ্দীন তাঁর ক্ষতির হাত থেকে নিরাপদে রয়ে যান।
এরপর থেকে “দিল্লি এখনও দূরেই” এই বাক্যটি একটি প্রবাদে পরিণত হয়, যা ব্যবহার করা হয় যখন কোনো নিকটবর্তী বিষয়কে দূরবর্তী হিসেবে দেখানো হয়।
আমি এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটি স্মরণ করলাম যখন শুনলাম, কিছু দাম্ভিক ব্যক্তি ঘোষণা করেছে যে, তারা ফিলিস্তিনকে তার অধিবাসীদের জন্য জাহান্নামে পরিণত করবে। এর দ্বারা কিছু অবনত জাতি উৎসাহিত হয়েছে, যাদের ওপর লাঞ্ছনা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে, যতক্ষণ না তারা আল্লাহর রজ্জু বা মানুষের রজ্জু আঁকড়ে ধরে। তারা অহংকারভরে বলেছে— তারা মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রই বদলে দেবে। আমি তখন বললাম— “দিল্লি এখনও দূরেই”।
——————–
# আলোচনা
মূল: ড. আকরাম নদভী, অক্সফোর্ড, ইউকে।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।