AkramNadwi

সবচেয়ে হাস্যকর প্রশ্ন ❞

https://t.me/DrAkramNadwi/2297

بسم الله الرحمن الرحيم.


—————–

|| তারা বলল:
আমরা নাস্তিকদের নিকট আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব প্রমাণ করি, তাদেরকে বস্তুগুলোর কারণ ও তার কারণ, এবং তার কারণ ব্যাখ্যা করতে করতে কারণের কারণ ও প্রথম চালক পর্যন্ত পৌঁছে যাই, আর বলি যে, আল্লাহ আকাশসমূহ ও পৃথিবীর সৃষ্টিকর্তা। এরপর তারা আমাদের জিজ্ঞাসা করে: তাহলে আল্লাহকে কে সৃষ্টি করেছে? ফলে আমরা এই প্রশ্নে হতবাক হয়ে যাই, উত্তর দিতে দ্বিধান্বিত হই, এমনকি মনে হয় যেন আমরা আমাদের বুদ্ধিবৃত্তি হারিয়ে ফেলেছি এবং আমাদের দৃঢ়তা শিথিল হয়ে গেছে।

|| আমি বললাম:
তোমাদের এই বিতর্ক নিষ্ফল বিতর্ক, যা অজ্ঞকে শিক্ষা দেয় না, পথভ্রষ্টকে সঠিক পথে পরিচালিত করে না, এবং বিভ্রান্তকে দিকনির্দেশনা দেয় না। আর যে প্রশ্ন নাস্তিকরা উত্থাপন করে, তা একেবারে হাস্যকর ও দুর্বল প্রশ্ন, আমি এর চেয়েও হাস্যকর কোনো প্রশ্ন মানুষের বুদ্ধিতে শুনিনি, এবং এর চেয়েও দুর্বল কোনো প্রশ্ন প্রকাশ্যে দেখিনি।

|| তারা বলল:
এভাবে কি আপনি সত্য ও সঠিক পথের সন্ধানকারী প্রশ্নকারীদের মুখোমুখি হন ? আমরা তো মানুষকে আল্লাহ তাআলার দিকে আহ্বান জানাই, আর আপনি আমাদের আহ্বানকে নিষ্ফল করে দিলেন এবং আমাদের নিয়ে উপহাস করলেন ! উপরন্তু, আপনি সেই প্রশ্নকারীদের—যারা একাডেমিক বিদ্যায় পারদর্শী—তুচ্ছ ও মূল্যহীন বানিয়ে দিলেন। আপনি কি সীমা লঙ্ঘন করছেন, নাকি আপনি উদ্ধত ও অহংকারী?

|| আমি বললাম:
আমি এই বক্তব্যে একটি কথাও বলিনি, যা আমি না বুঝে বলেছি বা তার বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করিনি, বরং আমি বেছে নিয়েই কথা বলেছি এবং যা প্রসঙ্গের জন্য সবচেয়ে সঠিক ও উপযুক্ত, তাই উচ্চারণ করেছি। সুতরাং, আমি আমার কথা থেকে ফিরে যাব না, যতই অপছন্দ করুক অপছন্দকারীরা, আর যতই ঘৃণা করুক ঘৃণাকারীরা।

|| তারা বলল:
তাহলে এই প্রশ্নের ভ্রান্তি ও দুর্বলতা কোথায়?

|| আমি বললাম:
যদি তোমাদের বলা হয়, “জায়েদ আমরকে আঘাত করল”, তাহলে কি তোমরা প্রশ্ন করবে: “তাহলে জায়েদকে কে আঘাত করল?”

|| তারা বলল: না।

|| আমি বললাম:
আর যদি বলা হয়, “খালেদ মাহমুদকে একজন নারীর সঙ্গে বিবাহ দিল”, তাহলে কি তোমরা প্রশ্ন করবে: “তাহলে খালেদকে কে বিবাহ দিল?”

আর যদি বলা হয়, “হিন্দ জয়নবের প্রশ্নের উত্তর দিল”, তাহলে কি তোমরা প্রশ্ন করবে: “তাহলে হিন্দের প্রশ্নের উত্তর কে দিল?”

|| তারা বলল: না।

|| আমি বললাম: কেন?

|| তারা বলল: কারণ, জায়েদ আমরকে আঘাত করেছে বলেই জায়েদকেও কেউ আঘাত করেছে—এমনটা হওয়া জরুরি নয়। খালেদ মাহমুদকে বিবাহ দিয়েছে বলেই খালেদকেও কেউ বিবাহ দিয়েছে—এমনটা হওয়া জরুরি নয়। আর হিন্দ উত্তর দিয়েছে বলেই তার আগে কোনো প্রশ্ন করা হয়েছিল—এমনটাও জরুরি নয়।

|| আমি বললাম:
যখন তোমরা একই শ্রেণির বিষয়ের মধ্যে এ ধরনের সম্পর্ককে অস্বীকার করছ, যেখানে জায়েদ, আমর, খালেদ, মাহমুদ, হিন্দ ও জয়নব—সবাই এক জাতির অন্তর্ভুক্ত এবং প্রকৃতিতে এক, তাহলে বলো তো, আল্লাহ এবং আকাশসমূহ ও পৃথিবী কি একই প্রকৃতির?

|| তারা বলল: না।

|| আমি বললাম:
তাহলে যখন একই শ্রেণির বিষয়গুলোর মধ্যে এই সম্পর্ক হাস্যকর হয়, তখন কি বিভিন্ন শ্রেণির বিষয়গুলোর মধ্যে এ সম্পর্ক করা আরও হাস্যকর নয়?

আমি তাদের আরও উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দিলাম:

যদি বলা হয়, “জায়েদ মাংস রান্না করল”, “মাহমুদ রুটি বানাল”, “ফাতিমা পোশাক সেলাই করল”, “কর্মী কুয়া খনন করল”, “কারিগর কম্পিউটার বানাল”, “রাজা প্রাসাদ নির্মাণ করল”, “মালী বাগান পরিচর্যা করল”—তাহলে কি তোমরা প্রশ্ন করবে: “তাহলে জায়েদকে কে রান্না করল?” “মাহমুদকে কে রুটি বানাল?” “ফাতিমাকে কে সেলাই করল?” “কর্মীকে কে খনন করল?” “কারিগরকে কে তৈরি করল?” “রাজাকে কে নির্মাণ করল?” “মালীকে কে পরিচর্যা করল?”

|| তারা বলল: না।

|| আমি বললাম: কেন?

|| তারা বলল:
কারণ, এই কাজগুলো হলো কর্ম সম্পাদনকারীদের কাজ, যা তাদের কর্তা থেকে কর্মে পরিণত করে না। এবং তোমার প্রশ্ন একেবারেই হাস্যকর, আমরা কখনও শুনিনি যে কেউ বাবুর্চিকে জিজ্ঞাসা করে: “তোমাকে কে রান্না করল?” অথবা, “রুটি বানানোর কর্মীকে কে বানাল?” অথবা, “দর্জিকে কে সেলাই করল?”

|| আমি বললাম:
তাহলে সৃষ্টি করা আল্লাহর কাজ, তিনি এটি ঘটিয়েছেন ও অস্তিত্ব দিয়েছেন, তাহলে কিভাবে তিনি নিজেই কর্মে পরিণত হবেন?

তোমরা তাদের হাস্যকর মনে কর যারা প্রশ্ন করে: “বাবুর্চিকে কে রান্না করল?” কিন্তু যারা প্রশ্ন করে: “সৃষ্টিকর্তাকে কে সৃষ্টি করল?”—তাদের হাস্যকর মনে করো না!

ধিক তাদের একাডেমিক জ্ঞান ও বুদ্ধিবৃত্তির ওপর! তাদের জিজ্ঞেস করো: তোমরা খাবার খেয়েছ, তাহলে কে তোমাদের খেয়েছে? তোমরা পানি পান করেছ, তাহলে কে তোমাদের পান করেছে? তোমরা পোশাক পরেছ, তাহলে কে তোমাদের পরিয়েছে?

|| আমি বললাম:
তোমাদের মতো লোকদের কথা শুনলে আমার মাথা ব্যথা বেড়ে যায়।

|| তারা বলল:
ধৈর্য ধরুন এবং আমাদের কষ্ট সহ্য করুন, আমরা এই কথার হাস্যকরতা ও নিম্নমান বুঝে গেছি। কিন্তু আমাদের বলুন, যদি বলা হয়: “জায়েদ ওসামাকে জন্ম দিল”, তাহলে কি স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠবে না: “তাহলে জায়েদকে কে জন্ম দিল?”

|| আমি বললাম: এটা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

|| তারা বলল: তুমি কী বোঝাতে চাও?

|| আমি বললাম:
জায়েদ ওসামাকে জন্ম দিয়েছে, কিন্তু জায়েদ জন্ম নেওয়ার আগেই তার জন্মগ্রহণ নিশ্চিত ছিল।

|| তারা বলল: তাহলে এই প্রশ্ন কোন বিষয়ভুক্ত?

|| আমি বললাম:
এটা কারণ ও পরিণামের বিষয়, আর কারণ দু’প্রকার: প্রকৃত কারণ এবং প্রচলিত কারণ। আর অজ্ঞের অজ্ঞতা এই পার্থক্য বুঝতে না পারার মধ্যেই নিহিত।

|| তারা বলল: আমাদের এ পার্থক্য ব্যাখ্যা করে দেন।

|| আমি বললাম: এটি পরে হবে, আমি এখন ব্যস্ত।

|| তারা বলল: তাহলে আমাদের শেষ একটি প্রশ্নের উত্তর দেন।

|| আমি বললাম: কী প্রশ্ন?

|| তারা বলল:
আমরা বুঝলাম যে, আমাদের দাওয়াতের পদ্ধতি ব্যর্থ, তাহলে সঠিক পদ্ধতি কী?

|| আমি বললাম:
সেটাই আল্লাহর কিতাব, তাঁর নবী এবং সমস্ত সৎ জ্ঞানীদের পদ্ধতি। তা হলো, আল্লাহকে তাঁর নিদর্শন দ্বারা, পালনকর্তাকে তাঁর অনুগ্রহ দ্বারা, এবং প্রভুকে তাঁর নিয়ামত ও সৃষ্টি দ্বারা চিনিয়ে দেওয়া।

এটাই সেই আহ্বান যা আদম সন্তান তো বটেই, বরং সমস্ত সৃষ্টি স্বভাবগতভাবে গ্রহণ করে। আর এটাই সেই গোপন রহস্য, যার কারণে আল্লাহ তাআলা তাঁর কিতাবের সূচনা করেছেন এই কথার মাধ্যমে: “الحمد لله رب العالمين”

——————

# শিক্ষা # যৌক্তিক আলোচনা

মূল :
ড. মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী – অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *