Skip to main content

AkramNadwi

تشبيه/تمثيل কি প্রমাণ হিসেবে গ্রহণযোগ্য ? ।।

https://t.me/DrAkramNadwi/5849

بسم الله الرحمن الرحيم.

।।
——————

কোনো বস্তুকে অন্য কোনো বস্তুর সদৃশ বলা হলে তাকে উপমা (تشبيه) বলে। যেমন বলা হয়— “মাওলানা আজাদের গদ্য মিষ্টতায় মধুর মতো,” এখানে উপমার চারটি উপাদান থাকে:

1. উপমেয় (مشبه)

2. উপমান (مشبه به)

3. উপমা নির্দেশক শব্দ (أداة تشبيه)

4. উপমার ভিত্তি (وجه شبه)

উল্লিখিত উদাহরণে “মাওলানা আজাদের গদ্য” উপমেয়, “মধু” উপমান, “মতো” উপমা নির্দেশক শব্দ এবং “মিষ্টতায়” উপমার ভিত্তি।

যদি কোনো পরিস্থিতিকে অন্য কোনো পরিস্থিতির সদৃশ বলা হয়, তবে তাকে উদাহরণ (تمثيل) বলে। যেমন, নবী কারিম ﷺ-এর জীবনের তুলনা হযরত ইউসুফ (عليه السلام) বা মূসা (عليه السلام)-এর কাহিনির সঙ্গে করা।

উপদেশদাতাদের ও সংস্কারকদের বক্তব্যে প্রচুর উদাহরণ পাওয়া যায়। মাওলানা রূমির মসনভি এবং শেখ সাদীর গুলিস্তান ও বুস্তান মূলত উদাহরণমূলক গল্প ও কাহিনির ওপর ভিত্তি করে গঠিত।

উপমা ও উদাহরণের উদ্দেশ্য হলো বক্তব্যকে স্পষ্ট করা। অর্থাৎ, আপনি কোনো কথা বলেন এবং তার প্রমাণ উপস্থাপন করেন, কিন্তু তবুও যদি শ্রোতার মনে তা সুস্পষ্টভাবে না বসে, তাহলে আপনি তাকে এমন কোনো উদাহরণ বা গল্পের মাধ্যমে বুঝান, যা সে জানে বা সহজেই বুঝতে পারে।

উদাহরণস্বরূপ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই বক্তব্য যে “সে গাজার ভূখণ্ডকে সেখানকার অধিবাসীদের থেকে খালি করে আমেরিকার পর্যটন কেন্দ্র বানাবে”— প্রত্যেকেই জানে যে এটি নিপীড়ন, এক ভয়ংকর অপরাধ এবং প্রকাশ্য গুনাহ। আপনি যদি তার পরিণামের উদাহরণ ফেরাউন বা অন্যান্য অত্যাচারী শাসকদের মাধ্যমে দেন, তাহলে শ্রোতার অন্তরে বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে প্রবেশ করবে।

ট্রাম্প আপনার উদাহরণের কারণে ظالم হয়ে যায়নি, বরং সে আগেই ظالم ছিল। আপনার উদাহরণ কেবল তার জুলুমকে স্পষ্ট করেছে।

উপমা ও উদাহরণ নিজে কোনো প্রমাণ নয়

যখন আপনি বলেন— “খালিদ সাহসিকতায় বাঘের মতো”, তখন আপনি ভালো করেই জানেন যে তার সাহস আগেই প্রমাণিত। আপনি শুধু উপমা দিয়ে তা স্পষ্ট করেছেন। কেউ বলবে না যে বাঘের সঙ্গে তুলনা করার কারণে সে সাহসী হয়ে গেছে।

অথবা আপনি বলেন— “জয়নব সৌন্দর্যে চাঁদের মতো”, আপনার “চাঁদের মতো” বলা তার সৌন্দর্যের প্রমাণ নয়, বরং তার সৌন্দর্য আগেই প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই উপমা তা স্পষ্ট করেছে।

এখানে কিছু লোকের মনে সন্দেহ হতে পারে যে কিয়াস (قياس) ও অনুরূপতা (اعتبار) ও তো উপমা ও উদাহরণের অন্তর্ভুক্ত, অথচ এগুলো তো প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সঠিক কথা হলো— কিয়াস ও অনুরূপতা প্রমাণ নয়। এর ব্যাখ্যা হলো, যখন আপনি বলেন “হুইস্কি নেশার দিক থেকে মদের মতো, তাই মদ যেমন হারাম, হুইস্কিও হারাম”, তখন এর হারাম হওয়া উপমার কারণে নয়। বরং মদ ও হুইস্কি উভয়ের নিষিদ্ধ হওয়ার কারণ একটিই— তা হলো উভয়ের মধ্যে নেশার উপাদান বিদ্যমান।

কুরআনে মদের নিষিদ্ধতা স্পষ্টভাবে এসেছে, তাই তার নিষিদ্ধতা সুস্পষ্ট। আপনি যখন হুইস্কির তুলনা মদের সঙ্গে দেন, তখন এর নিষিদ্ধতাও পরিষ্কার হয়ে যায়। এ কারণেই কিয়াসকে বিধান সম্প্রসারণ (تعميم الحكم) বলা হয়। অন্য কথায়, একে তাহকীক-ই মানাত (تحقيق المناط) বলা হয়।

একইভাবে, যখন কুরআনে কুরাইশ সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতাদের তুলনা দেওয়া হয়েছে নূহ, আদ, সামূদ ও ফেরাউনের সম্প্রদায়ের সঙ্গে, তখন এর অর্থ এই নয় যে এই তুলনা তাদের আজাবপ্রাপ্ত হওয়ার প্রমাণ। বরং কুরাইশ নেতাদের ও পূর্ববর্তী সম্প্রদায়গুলোর শাস্তিপ্রাপ্ত হওয়ার কারণ একই— তা হলো রাসুলদের অস্বীকার করা।

পূর্ববর্তী জাতিগুলোতে আজাব নেমে এসেছিল, তাই তাদের উদাহরণ দেওয়া হলে কুরাইশদের ক্ষেত্রেও আজাবের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়।

এই ব্যাখ্যা থেকে স্পষ্ট হয়ে গেল যে— উপমা ও উদাহরণ কোনো প্রমাণ নয়, বরং কেবল বিধানকে স্পষ্ট করার মাধ্যম।

যদি বলা হয় “অমুক ব্যক্তি লাল ভূটকির মতো”, তাহলে এই উপমা তার নির্বুদ্ধিতা প্রমাণ করে না। বরং তার নির্বুদ্ধিতার প্রমাণ কিছু অন্যই হবে, উপমার কাজ হলো তা দুই আর দুইয়ে চারের মতো স্পষ্ট করে দেওয়া।

উপমা ও উদাহরণের ব্যাপারে ভুল ধারণা

উপদেশদাতারা ও বক্তারা প্রায়ই গল্প, কাহিনি, উদাহরণ ও উপমার বেশি ব্যবহার করেন। এর মাধ্যমে শ্রোতা বিষয়টি সহজে বুঝতে পারে। এর পরিণাম হলো— অধিকাংশ বক্তা ও উপদেশদাতা মনে করেন যে তাদের বক্তব্যের জন্য কোনো প্রমাণ দেওয়া প্রয়োজন নেই, বরং কেবল উদাহরণ ও কাহিনিই যথেষ্ট।

ফলে তাদের শ্রোতারা— বরং এমনকি অনেক বক্তাও উদাহরণকেই প্রমাণ মনে করতে শুরু করে।

উপমা ও উদাহরণের ব্যাপারে এই ভুল ধারণার প্রচলন মসনভি শরীফ এবং মাশায়েখদের কথামালার অতিরিক্ত অধ্যয়নের কারণে হয়েছে।

ফলস্বরূপ, সাধারণত মাদরাসার শিক্ষার্থীরা তাদের বক্তৃতা ও লেখনীতে উদাহরণের ওপর নির্ভর করে এবং তারা মনে করে না যে নিজের দাবিকে প্রমাণ দ্বারা সুসংগঠিত করা জরুরি।

প্রমাণের পর উদাহরণ আসে। যখন কোনো প্রমাণই থাকবে না, কেবল উদাহরণ থাকবে, তখন সমাজে কেবল কুসংস্কার ছড়িয়ে পড়বে।

আপনি কাউকে “গাধা” বলবেন, সে আপনাকে “গাধা” বলবে।
আপনি আপনার শায়খকে জুনায়েদ ও শিবলি বলবেন, অন্যরাও তাদের শায়খকে জুনায়েদ ও শিবলি বলবে।
আপনি আপনার বক্তাকে তোতা-ই-হিন্দ ও শের-ই-পাঞ্জাব বলবেন, অন্যরাও তাদের বক্তাকে তোতা ও সিংহ বলবে।
আপনি আপনার মাসলাকের কিতাবকে কুরআন বলবেন, অন্যরাও তাদের মাসলাকের কিতাবকে কুরআন বলবে।

প্রমাণ ছাড়া কথা বলার ফল হলো— একটি দেশে একাধিক ‘শায়খুল ইসলাম’ পাওয়া যাবে!

—————–

# শিক্ষা #বিশ্লেষণ

লিখেছেন :
মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী – অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *