AkramNadwi

চোখ তোমাকে দেখার জন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে ❞

https://t.me/DrAkramNadwi/5832

بسم الله الرحمن الرحيم.

চোখ ধূলিকণা দেখে, পর্বতমালা, জনপদ ও বিরানভূমি দেখে, চাঁদ, তারা ও চমকপ্রদ সূর্য দেখে; কিন্তু চোখের তৃপ্তি আসে না, তাদের বিস্ময় দূর হয় না। আকাশ জীবনশত্রু, পৃথিবী পরের (অন্যদের) আবাস, পুরো বিশ্বই এক অস্থির ধূলিকণা। হে ভূমি ও আকাশের স্রষ্টা! হে চাঁদ ও সূর্যের নির্মাতা! দৃষ্টিগুলো সর্বত্র তোমাকেই খোঁজে। প্রশান্তির উপকরণ না কোনো অস্তিত্বশীল বস্তুর মধ্যে আছে, না কোনো অনস্তিত্বের মধ্যে; না কোনো দৃশ্যমান জিনিসের মধ্যে, না কোনো অনুপস্থিত জিনিসের মধ্যে। এ দৃষ্টি প্রত্যেক দৃশ্যের অতীত এক দৃশ্য খোঁজে। চোখ তোমার দর্শনের জন্যই সৃষ্টি হয়েছে এবং কেবল তোমাকেই দেখার জন্যই খোলা হয়েছে।

বাগানের বাতাসের গর্বই বা কেন? বিস্ময়ে মোহিত দৃষ্টির জন্য সুসজ্জিত বাগানই বা কী করতে পারে? বাগান তো নিজেই বিপথগামী মনে হয়!
সত্য এটাই যে নানা রঙের ফুল বাগানের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে এবং তাদের সুগন্ধ পরিবেশকে সুরভিত করে। কিন্তু এটাও সত্য যে, তারা তোমাকে না দেখলে শুকিয়ে যায়। কুঁড়িগুলো কাঁদতে থাকে, কেঁদে কেঁদে তাদের চোখ হারিয়ে ফেলে, আর গাছের উড়ে যাওয়া পাতা বেদনাবিধুর কাহিনি বলে যায়।

আমাদের বিষণ্ন অবস্থার খোঁজ কে নেবে? সিক্ত বর্ষা, উজ্জ্বল রাত! এগুলো তো কিছুই নয়, এরা কী? এগুলো হলো অবক্ষয় ও লাগাতার অবক্ষয়ের কাহিনি, এবং অনস্তিত্ব বরং অনস্তিত্বের পর তার বর্ণনা। তুমি না থাকলে সবই মিথ্যা কথা, অন্ধকার হোক বা আলো! হ্যাঁ, তোমার গুণবর্ণনা সব অনুসন্ধানের ঊর্ধ্বে। তোমার প্রশংসা হৃদয়ের ক্ষতের প্রলেপস্বরূপ। তোমার নিদর্শনাবলির দর্শনে এক অপূর্ব আনন্দ আছে, কারণ তারা তোমার সন্ধান দেয়। এই সুদূর জনপদগুলোতে কেবল তোমার স্মৃতিই আমাদের আশ্রয়, যার সঙ্গে আমরা অন্তরঙ্গতা গড়ে তুলি এবং চাঁদ-তারার আলো নিভিয়ে দিয়ে অশ্রুর প্রদীপ জ্বালাই।

শহর ও গ্রামগুলো আলোহীন, পর্বতের মত্ত ও সজীব উপত্যকাগুলো প্রাণহীন, সবুজ-শ্যামলতা, নদী ও বৃক্ষের ছায়া পৃথিবীর খেলনা মাত্র। আধুনিক সভ্যতার দ্যুতিময় জৌলুস অন্ধকারের ভয়ানক উপকথা মাত্র। কেউ প্রকৃত বন্ধু নয়, কেউ প্রকৃত সঙ্গী নয়। তোমাকে ছাড়া মন বিষণ্ন, ভালোবাসার রঙিন মুহূর্তগুলোই বিভীষিকাময়। ইউরোপের মোহনীয় সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা কেবল অন্ধকার ছাড়া কিছু নয়। এখানকার পথঘাট অপরিচিত, ফুলে আচ্ছাদিত রাস্তা কণ্টকময় উপত্যকা, এখানকার আবাসস্থলে ঝড় বইছে, এবং আস্তানাগুলো সত্যসন্ধানীদের কাছে বিরানভূমি।

হায়! ব্যথাভরা গানের মালা মানায় না, ব্যথাতুর হৃদয় কোনো সুর পছন্দ করে না। শোনো আমার বেদনাবিধুর কাহিনি, যদি শোনো, তবে আমরাও শোনাতে শোনাতে ক্লান্ত হবো না। আমাদের অশ্রু কখনো থামবে না, বুকে এক গভীর সুধা প্রবাহিত হবে, আর পুরো পরিবেশ এক অপূর্ব আবেশে নিমগ্ন হয়ে যাবে।

পরিচিত নয় এমন পাখির পালকে তোমার বার্তা খুঁজি, ফুল তোমার বার্তার অপেক্ষায় বিবর্ণ হয়ে যায়। হায় বঞ্চনা, হায় দুর্ভাগ্যের নিয়তি! মুমিন বান্দা সৌভাগ্যবান, কারণ তাকে তোমার কিতাব দান করা হয়েছে, সেই আলোকিত গ্রন্থ, যার জ্যোতি তোমার জ্যোতি থেকেই উদ্ভাসিত। তার বৈশিষ্ট্য সেই, যা তোমার তেজঃপূঞ্জের বৈশিষ্ট্য। তূর পাহাড় তার ভার সহ্য করতে না পেরে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে গিয়েছিল এবং মূসা অজ্ঞান হয়ে পড়ে গিয়েছিলেন। তোমার কিতাবের দীপ্তি যদি পাহাড়ে পড়ত, তবে সেগুলো ধ্বংস হয়ে যেত। এই মহাবিশ্বে কেবল মুমিন পুরুষই সেই সাহসী ও দৃঢ়প্রাণ ব্যক্তি, যে তোমার আমানতের বাহক। তোমার বাণীর প্রতিটি অক্ষর তার হৃদয়ের প্রশান্তি, আর কেনই-বা হবে না? শাশ্বতকাল থেকে তার আত্মা তো এটারই অপেক্ষায় ছিল!

তুমি জানো যে, তোমাকে ছাড়া অন্য কারও প্রতি দৃষ্টি স্থির হয় না। তোমার পর্দা সরিয়ে দাও, অপরিচিতের মতো দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না এবং করুণার দৃষ্টি ফিরিয়ে নিয়ো না, পরের হাতে আমাদের সঁপে দিয়ো না।। অপরের মুখাপেক্ষিতা আত্মমর্যাদাশীলের জন্য লজ্জা ও অপমানের বিষয়।

যদি তুমি মিলো, হৃদয়ের কুঁড়ি ফুটে উঠবে, ক্ষত-বিক্ষত মন জুড়ে যাবে। যারা তোমাকে দেখবে, তারা আর কখনো এই দুনিয়ায় ফিরে আসতে চাইবে না।

তুমি বলো, তুমি তোমার প্রেমিকদের উভয় জগত দান করবে। বলো তো, যে তোমাকে পেয়ে গেছে, সে উভয় জগত নিয়ে কী করবে? তোমার উদ্ঘাটনের পর চোখ অন্য কোনো দৃশ্যে কি আসক্ত হবে?

———————

# আলোচনা

লিখেছেন :
মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী – অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *