Skip to main content

AkramNadwi

শিরোনাম: কুরআন তিলাওয়াতের সময় আজানের জবাব দেওয়া

শিরোনাম: কুরআন তিলাওয়াতের সময় আজানের জবাব দেওয়া
—–
ড. মুহাম্মদ আক্রাম নাদভী
অক্সফোর্ড
১৮/৮/২০২৬

প্রশ্ন:
ফজিলত-মআব ডক্টর সাহেব—আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

বিনীত নিবেদন, কুরআন তিলাওয়াতের সময় যদি আজান শুরু হয়, সে মুহূর্তে শ্রেষ্ঠ আমল কোনটি—তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, নাকি আজানের জবাব দেওয়া? বিষয়টি আজকাল শিক্ষিত ছাত্রদের মধ্যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, কুরআন আল্লাহর কালাম; এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ আর কোন ইবাদত থাকতে পারে না, অথচ আজান সে পর্যায়ের নয়। সুতরাং কিতাব-ও-সুন্নাহর আলোকে সঠিক দিশা কাম্য।

প্রশ্নকারী: মুহাম্মদ ইউসুফ ইয়াসিন সিদ্দিকী নাদভী—ভোপাল

উত্তর:
ওয়া আলাইকুম আল-সালাম ওয়া রাহমাত আল্লাহ ওয়া বারাকাতুহ।

কুরআন তিলাওয়াত চলাকালে আজান শুরু হলে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখা উচিত, নাকি আজানের জবাবের জন্য তিলাওয়াত থামানো উচিত—বাহ্যত এই দ্বিধার কারণ হচ্ছে, কুরআন তিলাওয়াত নিজেই এক মহত্তম ইবাদত, আর আজানের জবাবও সুন্নতে নববী এবং সওয়াবের মাধ্যম।

বিষয়টি স্পষ্ট করতে কয়েকটি মূলনীতি স্মরণ রাখা জরুরি—

১. কেউ যদি আজানের সময় নামাজে রত থাকে, সে নামাজ ভেঙে আজানের জবাব দেবে না। উম্মাহর আলেমদের সর্বসম্মতিতে এটিই বিধান। বরং যে ব্যক্তি কোনো ইবাদতে নয়, তার জন্য আজানের জবাব সুন্নত ও সওয়াবের কারণ।

২. সুতরাং প্রশ্ন দাঁড়ায়—তিলাওয়াতরত ব্যক্তি কার কাছাকাছি? ইবাদতে নিযুক্ত নন এমন কারও, নাকি সালাতরত কারও? যেহেতু তিলাওয়াতও ইবাদত, সালাতও ইবাদত, তাই ইবাদতে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে তার সাদৃশ্য বেশি। এই দিক বিবেচনায় শক্ত মত হলো—তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়া, আজানের জবাবের জন্য থামা নয়।

৩. কুরআন তিলাওয়াত অন্যান্য যিকির ও নফল আমলের তুলনায় স্বতন্ত্র ও উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন। অধিক সওয়াবের ইবাদতকে কেবল সমসময়ীন আরেকটি (যদিও ফজিলতপূর্ণ) ইবাদতের জন্য থামিয়ে দেওয়া সহজাত নয়।

৪. হাদিসের মর্ম অনুযায়ী, তিলাওয়াতরত ব্যক্তি সমষ্টিগত দোয়া-বরকতে শরিক হন। তাই শব্দে আজানের জবাব না দিলেও সে সময়ের ফজিলত থেকে তিনি বঞ্চিত নন।

ফলে—
• তিলাওয়াত অব্যাহত রাখলে কুরআন তিলাওয়াতের মহান ইবাদতও চলতে থাকে, আবার আজানের সময়ের কল্যাণেও অংশীদার থাকা যায়।
• আজানের জবাবদানকারী তখন মূলত ওই জবাবেই নিযুক্ত থাকেন।

আপত্তি উঠতে পারে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো আজান শ্রোতাদের জবাব দিতে উদ্বুদ্ধ করেছেন; তিলাওয়াতরত ব্যক্তি কি সেই নির্দেশ উপেক্ষা করছেন? জবাব, শরিয়তের সাধারণ নির্দেশে ব্যতিক্রম থাকে। যেমন—আজানের জবাবের সামগ্রিক হুকুম সালাতরতকে বাধ্য করে না যে সে নামাজ ভেঙে জবাব দেবে। পরিষ্কার ব্যতিক্রম থেকেই বোঝা যায়, যে কেউ অধিক গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতে নিমগ্ন, তার ক্ষেত্রে একই নির্দেশ অপরিবর্তিত থাকে না।

ফকিহগণ এই নীতির নানা দৃষ্টান্ত দেন। যেমন, মসজিদে প্রবেশে ‘তাহিয়্যাতুল মসজিদ’ সুন্নত; কিন্তু মাকরূহ সময়ে অনেকে তা পড়েন না। অর্থাৎ সাধারণ সুন্নত সর্বাবস্থায় একরূপ প্রযোজ্য নয়; অন্যান্য শরয়ি নীতিও বিবেচ্য।

উপরোক্ত বিশ্লেষণে পরিষ্কার—কুরআন তিলাওয়াতের সময় আজান শুরু হলে তিলাওয়াত অব্যাহত রাখাই অধিকতর উত্তম ও সঠিক। এতে ব্যক্তি তিলাওয়াতের অসামান্য ইবাদত ত্যাগ করেন না, আবার আজানের বরকত থেকেও বঞ্চিত হন না।

তবে কেউ যদি তিলাওয়াত থামিয়ে আজানের জবাব দেন, তাঁকে নিন্দা করা যাবে না; তিনি বৈধ ও সওয়াবপূর্ণ একটি আমলকে আরেকটির ওপর অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাত্র। তাই এ বিষয়ে কঠোরতা বা পারস্পরিক বিষোদ্‌গার অনুচিত।

সারসংক্ষেপ:
কুরআন তিলাওয়াতরত ব্যক্তির জন্য আজান শোনা গেলে তিলাওয়াত চালিয়ে যাওয়াই শ্রেষ্ঠ ও অধিকতর সঠিক। তবে যে তিলাওয়াত থামিয়ে জবাব দেন, তাঁরও দোষ নেই। উভয় কাজই শরয়ি ও সওয়াবপূর্ণ; কেবল অগ্রাধিকারের বিচারে তিলাওয়াত-অবস্থাকে সালাতের অনুরূপ ধরা হয়, ফলে তিলাওয়াত জারি রাখা অধিক গ্রহণযোগ্য।
———
ক্যাটাগরি : #উপদেশ, #ফিকহ, #নামাজ, #কুরআন, #হাদিস

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ: এই নিবন্ধটি AI দ্বারা অনুবাদ করা হয়েছে।
https://t.me/DrAkramNadwi/10058

ড. মুহাম্মাদ আকরাম নদভীর প্রবন্ধের জন্য হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেল:
https://WhatsApp.com/channel/0029VbAxp2qGpLHHqQ3LoY0w

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *