AkramNadwi

খোদার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করো না ❞

https://t.me/DrAkramNadwi/5815

بسم اللّه الرحمن الرحيم .


—————-

তোমার রান্নাঘরে বিরিয়ানি তৈরির সব উপকরণ উপস্থিত—মাংস, চাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, মসলা ইত্যাদি। কিন্তু বিরিয়ানি নিজে থেকে তৈরি হবে না। এসব উপকরণকে একত্র করে মিশ্রণে রূপ দেওয়ার জন্য তোমার ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। এই ইচ্ছাই সেই শক্তি, যা চালু হয়ে বস্তুতে গতিশীলতা সৃষ্টি করে, তাদের পরিবর্তন ঘটায় এবং তাদের উন্নয়নের পথে ধাবিত করে।
তোমার কাছে কম্পিউটার এবং লাইব্রেরি থাকলেও, কোনো প্রবন্ধ তখনই রচিত হবে যখন তুমি ইচ্ছা করবে। বাড়ি নির্মাণ, মাঠে চাষাবাদ, শিল্প-হস্তশিল্প এবং ব্যবসা-বাণিজ্য—এসব কিছুই ইচ্ছার অধীন।
এই সমগ্র সৃষ্টিতে প্রতিটি বস্তুর সৃষ্টি এবং প্রতিটি সৃষ্টির অবস্থার পরিবর্তন আল্লাহর ইচ্ছার উপর নির্ভরশীল। আল্লাহ কেবল মিশ্রণ তৈরি করেন না, বরং মৌলিক উপাদানগুলোও তিনিই সৃষ্টি করেন। তিনি যা কিছু যেমন করতে চান, তেমন করেন। প্রতিটি বস্তু সর্বদা তাঁর ইচ্ছার অধীনে থাকে। এমনকি মানুষের ইচ্ছাও তাঁর ইচ্ছার অধীন।
যখন আল্লাহ কল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন কল্যাণ সৃষ্টি হয়। আর যখন তিনি অকল্যাণের ইচ্ছা করেন, তখন অকল্যাণ সৃষ্টি হয়। তাঁর ইচ্ছার মাধ্যমেই সম্মান ও অপমান লাভ হয়। তাঁর ইচ্ছার মাধ্যমেই কেউ ধনী হয়, আবার কেউ গরিব। তিনি যাকে চান, সুখী করেন এবং যাকে চান, দুঃখী করেন।
আল্লাহর ইচ্ছা অপরিমেয়। তাঁর ক্ষমতা সীমাহীন এবং পরম। তাঁর জ্ঞান সীমাহীন এবং পরম। ইচ্ছার এই প্রকৃত মালিকের সঙ্গে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা যায় না। প্রতিটি মানুষের সামনে কেবল একটি বিকল্প রয়েছে, আর তা হলো আল্লাহর সামনে আত্মসমর্পণ করা, যাকে ইসলাম বলা হয়। এই ইসলামই সমগ্র সৃষ্টির ধর্ম। এই আত্মসমর্পণই ইবরাহিম (আ.)-এর প্রকৃতির ডাক। সত্য কথা হলো, পৃথিবী, আকাশ, চাঁদ, সূর্য, তারা, পাহাড়, গাছপালা, অজীব ও জীবজন্তু—সবই ইবরাহিমি প্রকৃতির অধীন।
আল্লাহ মানুষকে সেই শক্তি দেননি যে সে তাঁর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে তাকে একটি সীমিত বিকল্প দিয়েছেন—সে আত্মসমর্পণ নাও করতে পারে। কিন্তু আত্মসমর্পণ না করার পরিণতি পরিবর্তন করার ক্ষমতা মানুষের নেই। এই পরিণতি ভয়াবহ এবং অত্যন্ত ভয়াবহ।
ইউরোপীয় রেনেসাঁ এই ভ্রান্ত ধারণার ওপর প্রতিষ্ঠিত যে আল্লাহ মানুষকে সফল হতে দেন না এবং তাঁর উন্নতির পথে বাধা দেন। তাই মানুষকে আল্লাহর কাছ থেকে জোর করে সাফল্যের উপকরণ কেড়ে নিতে হবে। কেড়ে নেওয়ার আইন হলো শক্তির অধীন, আর এই শক্তি হলো জ্ঞান, সম্পদ এবং ক্ষমতার নাম।
পশ্চিমা মানুষ এই অহঙ্কারে শতাব্দীর পর শতাব্দী বেঁচে রয়েছে। পূর্বের মানুষও তাদের অনুকরণ করছে। কিন্তু উভয়েই জানে না যে তাদের এই বিদ্রোহ আল্লাহর ইচ্ছার অধীন। “فمن شاء فليؤمن ومن شاء فليكفر” অর্থাৎ, “যে চায়, সে ঈমান আনুক, আর যে চায়, সে কুফর করুক।”
মানুষ বিদ্রোহ করতে পারে, কিন্তু সেই বিদ্রোহের পরিণতি পরিবর্তন করতে পারে না।
আজ মুসলমানরাও সেই বিদ্রোহী এবং দম্ভী মানুষদের অনুকরণ করছে, যদিও মুসলমানদের ধর্মের নামই “ইসলাম” অর্থাৎ আল্লাহর স্বেচ্ছায় আনুগত্য ও পূর্ণ আত্মসমর্পণ। মুসলমানেরা আত্মসমর্পণের মহান ইমাম ইবরাহিম (আ.)-এর নাম নেয় ঠিকই, কিন্তু তারা ইবরাহিমের প্রকৃতি থেকে দূরে। সৃষ্টিজগৎ ইবরাহিমি প্রকৃতির অধীন, তাই তা সফল। কিন্তু মানুষ ইবরাহিমি প্রকৃতির বিদ্রোহী, তাই ব্যর্থতা তার নিয়তি।
হে মুসলমান! ভালোভাবে বুঝে নাও যে আল্লাহ তোমার জন্য কল্যাণের ইচ্ছা করেছেন, কিন্তু তোমাকে বাধ্য করেননি। তবে তিনি তাঁর ইচ্ছার কথা তোমাকে জানিয়ে দিয়েছেন। সেই ইচ্ছার উপলব্ধি করো এবং তার সামনে আনুগত্যের মাথা নত করো। যদি শয়তান তোমাকে এই ভ্রান্তিতে ফেলতে চায় যে তুমি তাঁর ইচ্ছার প্রতিদ্বন্দ্বী আরেকটি ইচ্ছা সৃষ্টি করতে পারবে, তবে তুমি মারাত্মক ভুল ধারণায় পড়েছ।
আল্লাহ চান যে তুমি তাঁর সামনে সিজদা করো, রুকু করো, কিয়াম করো। তাঁর হালালকে হালাল মনে করো এবং তাঁর হারামকে হারাম। তাঁর কিতাব নিয়ে চিন্তাভাবনা করো, তা অনুসরণ করো। তাঁর রাসূলের সত্যতা স্বীকার করো এবং নবীদের সুন্নতগুলো পালন করো। দুনিয়ায় মন লাগিয়ো না। আখিরাতের জন্য প্রস্তুতি নাও এবং কৃতজ্ঞতা, তাকওয়া ও ধৈর্যের পথে চলো। তাহলে তুমি সফল হবে।
হে মানুষ! যদি তুমি ভাবো যে শয়তানের মতো সিজদা প্রত্যাখ্যান করে তুমি সফল হতে পারবে, তবে তা কখনো সম্ভব নয়। তোমার ইচ্ছা আল্লাহর ইচ্ছার প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারে না। তোমার ইচ্ছা সৃষ্টি করা হয়েছে এই জন্য যে তুমি সর্বশক্তিমান আল্লাহর ইচ্ছাকে বোঝো এবং তোমার ইচ্ছাকে তার অধীন করো।
তুমি মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছ। বীর্য তোমার উৎস। তোমার কিছুই ছিল না, এমনকি তুমি নিজেও ছিলে না। আল্লাহ যেমন চেয়েছেন, তেমন তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। ভ্রান্ত ধারণার লেবাস ছুড়ে ফেলো। আল্লাহর দাসত্বকে তোমার পথ বানাও এবং নিশ্চিত হও যে এই দাসত্বই তোমার সৌভাগ্যের নিশ্চয়তা।

——————–
# উপদেশ

লিখেছেন :
মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী – অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *