https://t.me/DrAkramNadwi/5800
بسم الله الرحمن الرحيم.
❝
যদি কোনো মুসলিমের সঙ্গে কোনো অলৌকিক ঘটনা ঘটে, তবে একে কারামত বলা হয়। আর যদি এমন ঘটনা কোনো অমুসলিমের সঙ্গে ঘটে, তবে একে ইস্তিদরাজ বলা হয়। এটি একটি প্রচলিত পরিভাষা, তবে সঠিক কথা হলো, এই বিভাজন ভিত্তিহীন। সাধারণ ঘটনা এবং অলৌকিক ঘটনা—উভয়ই আল্লাহর রহমত, জ্ঞান এবং ক্ষমতার ফল। আল্লাহ তাআলা মুসলিম এবং অমুসলিম সবার রব। তিনি সবার দোয়া শোনেন এবং সবার সাহায্য করেন। কখনো তাঁর এই সাহায্য হয় মানুষকে তাঁর সঙ্গে সংযুক্ত রাখতে, কখনো ইস্তিদরাজ হিসেবে হয়, আর কখনো অন্য কোনো হিকমাহর কারণে।
আমি অলৌকিক সাহায্যের জন্য “কারামত” শব্দ ব্যবহারে অগ্রাধিকার দিই, তা মুসলিমের সঙ্গেই হোক বা অন্য কারো সঙ্গে। এর প্রমাণ আল্লাহর কিতাবেই রয়েছে: “আর অবশ্যই আমি আদম সন্তানকে সম্মানিত করেছি।” আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের আরেক ধরনের কারামতও দান করেন, যা তাঁর সন্তুষ্টির প্রকাশ। এটি তাঁর নেক বান্দাদের সাথেই বিশেষভাবে ঘটে। এ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, “তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে সম্মানিত সে-ই, যে তোমাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মুত্তাকি।”
এখানে দুই খ্রিস্টান নারীর কারামতের ঘটনা বর্ণনা করা হচ্ছে। এই কারামত আমার কাছে বর্ণনা করেছেন মাননীয়া জিহান স্কিনার। জিহান স্কিনার একজন মার্জিত এবং শিক্ষিত নারী। তিনি পশ্চিমা সমাজের নৈতিক অবক্ষয় থেকে দূরে থাকেন। তাঁর মা মিশরের বাসিন্দা, আর তাঁর বাবা একজন অভিজাত ব্রিটিশ, যিনি একসময় কানাডায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে কাজ করেছেন। তাঁদের পরিবার বহু জমির মালিক। অক্সফোর্ডে তাঁদের একটি বনও রয়েছে। মাননীয়া জিহান আমাদের ওই বনে প্রবেশের জন্য বিশেষ টিকিট দিয়েছিলেন। আমি আমার পরিবারসহ সেই বনে ভ্রমণ করি এবং আমরা ভালো সময় কাটাই।
তিনি আমার কাছে নিম্নলিখিত দুটি ঘটনা বর্ণনা করেন:
প্রথম ঘটনা
একবার আমি অক্সফোর্ড শহরে পোর্ট মেডো (Port Meadow) পথ ধরে বিনসি ভিলেজ চার্চের (Binsey Village Church) দিকে হাঁটতে গিয়েছিলাম। সাধারণত যখনই আমি ওই পথে যাই, আমি একা থাকি। পথে কাউকে দেখি না, কারণ এটি একটি নির্জন পথ, যা একটি খামারবাড়ি এবং ছোট চার্চ পর্যন্ত যায়।
যে দিনের ঘটনা আমি বর্ণনা করছি, সেদিন পথে আমাকে এক ৪০ বছর বয়সী নারী দাঁড়িয়ে থাকতে দেখেন। আমরা কথা বলতে শুরু করি। সেই নারী আমাকে একটি অদ্ভুত ঘটনা শোনান। তিনি ইংল্যান্ডের অন্য কোনো অঞ্চলের বাসিন্দা। তিনি এই চার্চে ধর্মীয় উদ্দেশ্যে এসেছিলেন, কারণ একবার এখানে তাঁর সঙ্গে একটি অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছিল, যা তাঁর জীবনের কঠিন সময়ে তাঁকে সাহায্য করেছিল।
তিনি বলেন, তিনি অক্সফোর্ডের ছাত্রী ছিলেন এবং ডিপ্রেশনে ভুগছিলেন। একদিন সন্ধ্যায় তাঁর মধ্যে প্রবল ইচ্ছা জাগে যে তিনি সাইকেলে করে এই চার্চে যাবেন। ইচ্ছাটি এতটাই তীব্র ছিল যে তিনি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সন্ধ্যা হওয়া সত্ত্বেও তিনি সাইকেল চালিয়ে চার্চে যান।
যখন তিনি চার্চে পৌঁছান, তখন চারপাশে অন্ধকার নেমে এসেছিল। তিনি চার্চের উঠোনে প্রবেশ করেন এবং চার্চের দিকে এগিয়ে যান। চারপাশে অন্ধকার ছিল। হঠাৎ তিনি নিজের সামনে একটি বৃদ্ধা নারীকে দেখতে পান, যাঁর হাতে একটি লণ্ঠন ছিল। তিনি বৃদ্ধা নারীর সঙ্গে কথা বলা শুরু করেন। কথার প্রসঙ্গ চার্চের দিকে ঘুরে যায়। দুজনের কেউই নিজেদের পরিচয় দেয়নি বা একে অপরের নাম জিজ্ঞাসা করেনি। কথোপকথনের সময় বৃদ্ধা বলেন, “আজ তোমার অলির (saint) দিন।” (এটি সেই দিনকে বোঝায় যেদিন কোনো অলিকে বিশেষভাবে খ্রিস্টান চার্চে স্মরণ করা হয়।)
তিনি বলেন, আমি লক্ষ্য করি, সত্যিই এটি আমার অলির দিন ছিল। অন্ধকার বেড়ে গিয়েছিল, এবং সাইকেল চালিয়ে অক্সফোর্ড ফিরে আসা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছিল। সেই বৃদ্ধা চার্চের একটি অংশ খুলে আমাকে রাত কাটানোর ব্যবস্থা করে দেন। আমি সেখানে শান্তিতে রাত কাটাই এবং সকালে অক্সফোর্ড ফিরে যাই।
সেই সময় তিনি ঘটনাটিকে বেশি গুরুত্ব দেননি। তবে ওই সাক্ষাতের কারণে তিনি অদ্ভুতভাবে শান্তি অনুভব করেন। যখন তিনি তাঁর কলেজের কক্ষে ফিরে আসেন, তিনি আবার ঘটনাটি নিয়ে চিন্তা করেন। তাঁর সেই বৃদ্ধা নারীটির কথা মনে পড়তে থাকে, যিনি লণ্ঠন হাতে চার্চে দাঁড়িয়েছিলেন এবং অলির দিনের কথা বলেছিলেন। তিনি যখন বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করেন, তখন জানতে পারেন যে সেটি সত্যিই তাঁর অলির দিন ছিল।
সেই বৃদ্ধা নারীর কথা তাঁকে চিন্তিত করতে থাকে। তিনি আবার চার্চে যান। সেখানে কাউকে পাননি। কাছাকাছি একটি খামারবাড়ি ছিল। তিনি সেখানে যান এবং দরজায় কড়া নাড়েন। খামারবাড়ির লোকজনের কাছে বৃদ্ধা নারীর চেহারার বর্ণনা দেন এবং জিজ্ঞাসা করেন, সন্ধ্যায় এ ধরনের কোনো নারী এখানে আসেন কি না। তাঁরা জানান, সেখানে এমন কোনো বৃদ্ধা আসেন না।
মাননীয়া জিহান আমাকে জানিয়েছিলেন যে সেই নারীর ধারণা ছিল, সেই বৃদ্ধা যেন অন্য জগৎ থেকে তার সাহস ও মনোবল যোগানোর জন্য পাঠানো হয়েছিল। তিনি সবসময় এই অভিজ্ঞতাকে একটি চিহ্ন হিসেবে দেখেন। এই অভিজ্ঞতা তার বিষণ্ণতা নিরাময়ে সহায়ক প্রমাণিত হয়েছিল। এখন তিনি নিয়মিত সেই গির্জায় যান এবং সেই অভিজ্ঞতা স্মরণ করে ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
দ্বিতীয় ঘটনা এক অত্যন্ত ধার্মিক খ্রিস্টান নারী, জেনিফার রেইস লারকম্ব সম্পর্কে। জেনিফার রেইস লারকম্বের প্রার্থনা, আরোগ্য, বক্তৃতা এবং লেখালেখির ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতার একটি দীর্ঘ এবং সফল ইতিহাস রয়েছে। ১৯৮২ সালে একটি ভাইরাসের কারণে তিনি মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন, যা তাকে আট বছর ধরে কঠিন যন্ত্রণায় একটি হুইলচেয়ারের সাহায্যে জীবনযাপন করতে বাধ্য করে। তবে একটি সভায়, যেখানে তিনি বক্তৃতা করছিলেন, একজন নব খ্রিস্টানের প্রার্থনার ফলে অলৌকিকভাবে তিনি আরোগ্য লাভ করেন।
তার একটি বইয়ে একটি ঘটনা উল্লেখ রয়েছে, যখন তিনি ছোট ছিলেন, তখন তিনি প্রাকৃতিক পরিবেশে হাঁটতে খুব পছন্দ করতেন। একদিন, তিনি পাহাড়ে একা হাঁটছিলেন, তখন একটি অদ্ভুত লোক সেখানে উপস্থিত হয় এবং তার পিছু নিতে শুরু করে। তিনি অনুভব করলেন যে তিনি কতটা নিরাপত্তাহীন অবস্থায় আছেন, এবং তিনি ঈশ্বরের কাছে তার নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করলেন।
হঠাৎ করেই জঙ্গলের ভেতর থেকে একটি বড় কালো কুকুর বেরিয়ে এলো। কুকুরটি তার দিকে ছুটে এলো এবং তার পাশে হাঁটতে শুরু করলো। তিনি পাহাড় থেকে নামতে থাকলেন, এবং লোকটি তার পিছু নিতে থাকলো, তবে দূর থেকে। শেষ পর্যন্ত লোকটি কুকুরের ভয়ে তার পিছু নেওয়া বন্ধ করে দিল। কুকুরটি তার সঙ্গে থাকল যতক্ষণ না তিনি পাহাড়ের নিচে পৌঁছালেন। তারপর হঠাৎ করেই কুকুরটি অদৃশ্য হয়ে গেল।
জেনিফার বিশ্বাস করতেন যে ঈশ্বর তাকে একজন রক্ষক পাঠিয়েছিলেন, যে বিপদজনক পরিস্থিতিতে তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে পেরেছিল। একটি কুকুরের এই আচরণ ছিল অত্যন্ত অস্বাভাবিক। সেজন্য তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল যে এটি ঈশ্বরের পক্ষ থেকে একজন দূত ছিল।
————-
# ঘটনা বর্ণনা
লিখেছেন :
মুহাম্মাদ আকরাম নাদভী – অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা:
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।