AkramNadwi

শিরোনাম : ঈদের নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ ———-

শিরোনাম : ঈদের নামাজে নারীদের অংশগ্রহণ
———-

|| প্রশ্ন:

দক্ষিণ এশিয়ার অনেক সমাজে নারীদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণের জন্য সক্রিয়ভাবে উৎসাহ দেওয়া হয় না। এটি কি পরিবর্তন করা উচিত? নারীদের কি ঈদের নামাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করা উচিত?

|| উত্তর:

এটি সত্যিই একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

ঈদের নামাজ কেবল একটি ইবাদতই নয়, বরং এটি বহুমাত্রিক কল্যাণ ও সৌন্দর্যে ভরপুর একটি সমবেত আয়োজন। এদিন মুমিনরা একত্রিত হয়, ইমাম বা নেতার খুতবা শোনে, পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানায়, দোয়া করে এবং আনন্দ ও বরকতের এই দিনটি ভাগাভাগি করে নেয়। এটি মুসলিম সমাজে ঐক্য, ঈমানের দৃঢ়তা এবং ভ্রাতৃত্ববোধকে আরও সুদৃঢ় করে।

রাসূলুল্লাহ সা. অত্যন্ত আগ্রহের সঙ্গে চাইতেন- পুরুষ ও নারী উভয়েই যেন ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ করে। এই একটিই প্রমাণ আমাদের জন্য যথেষ্ট যে, এ বিষয়ে তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করা জরুরি। তিনি সকলকে, এমনকি নিজের পরিবারের সদস্যদেরও ঈদের জামাতে অংশ নিতে উৎসাহিত করতেন। যদিও তাঁর পরিবার তাঁর সাথেই বসবাস করত এবং তারা ভাবতে পারত যে, আলাদাভাবে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, তবুও তিনি তাঁদেরকে মদিনার বাইরে অনুষ্ঠিত সেই সমাবেশে যোগ দিতে নির্দেশ দিতেন, যেন তারা সমগ্র মুসলিম সমাজের সঙ্গে একাত্ম হতে পারে।

কিছু নারী অভিযোগ করেছিলেন যে, তাদের উপযুক্ত পর্দার পোশাক নেই। কিন্তু নবী সা. এটিকে অনুপস্থিত থাকার অজুহাত হিসেবে গ্রহণ করেননি। বরং তিনি তাদেরকে অন্যদের কাছ থেকে পোশাক ধার করে হলেও অংশগ্রহণ করতে উৎসাহিত করেছিলেন।

আবার কিছু নারী বলেছিলেন, তারা ঋতুমতী, ফলে নামাজ আদায় করতে পারবেন না। তবুও রাসূল সা. তাদেরকে সমাবেশে উপস্থিত হতে বলেছিলেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন—যদিও তারা নামাজে অংশ নেবে না, তবুও তারা যেন খুতবা শোনে, এই কল্যাণময় পরিবেশ প্রত্যক্ষ করে, মুমিনদের দোয়ায় শরিক হয় এবং এই বরকতময় দিনের সুফল অর্জন করে।

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সময়ের প্রবাহে বিশেষত দক্ষিণ এশিয়ার কিছু অঞ্চলে, নারীরা ধীরে ধীরে ঈদের নামাজে অংশগ্রহণ থেকে দূরে সরে গেছে। কোথাও কোথাও তাদের নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, এমনকি বাধাও দেওয়া হয়েছে। এটি এমন একটি বাস্তবতা, যা নতুন করে ভাবা এবং পরিবর্তন করা প্রয়োজন।

যখন নারীরা এই ধরনের সমাবেশে অংশ নেয়, তখন তারা নিজেদের দ্বীন সম্পর্কে আরও সচেতন হয়, আধ্যাত্মিকভাবে সমৃদ্ধ হয় এবং মুসলিম সমাজের সঙ্গে তাদের সংযোগ আরও গভীর হয়। প্রকাশ্য ইবাদত মানুষের অন্তরে এক বিশেষ একাগ্রতা ও আন্তরিকতা সৃষ্টি করে, এবং মানুষ পরস্পরের কাছ থেকে শিখতেও পারে।

বক্তা এ বিষয়ে বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, সমাজকে এই সংস্কৃতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারতে ইতোমধ্যে কিছু স্থানে এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যেখানে মসজিদগুলোতে নারীদের জন্য ঈদের নামাজে অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে, এটি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ, যা স্বাগত জানানো উচিত।

এরপর তিনি বিষয়টিকে একান্ত ব্যক্তিগত দায়িত্ব হিসেবে তুলে ধরেন।

“তুমি যখন ইংল্যান্ডে ফিরে যাবে, চেষ্টা করবে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য ঈদের নামাজের আয়োজন করতে। বাংলাদেশে গেলে একই কাজ করবে। তুমি যেখানেই থাকো, মানুষকে উৎসাহিত করবে এবং এই ব্যবস্থাটি গড়ে তুলতে চেষ্টা করবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন; শুধু তাত্ত্বিকভাবে একমত হওয়া যথেষ্ট নয়; বরং বাস্তবে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে নারীরা ঈদের নামাজে অংশ নিতে পারে, যতটা সম্ভব সহজ ও উপযোগীভাবে।

তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, একটি বিস্মৃত সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার মধ্যে রয়েছে অসীম সওয়াব। এ প্রসঙ্গে তিনি সুপরিচিত হাদিসটি উল্লেখ করেন-

“যে ব্যক্তি আমার কোনো সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করবে, যা আমার পরে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে, সে ঐ সমস্ত মানুষের সমপরিমাণ সওয়াব পাবে, যারা তার ওপর আমল করবে…”

এছাড়াও তিনি সেই বর্ণনাটির কথাও উল্লেখ করেন, যেখানে বলা হয়েছে—

“যে ব্যক্তি আমার উম্মাহর অবক্ষয়ের সময় আমার সুন্নাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরবে, সে একশ শহীদের সমান সওয়াব পাবে।”

এই বর্ণনাটির সনদ নিয়ে আলেমদের মাঝে মতভেদ থাকলেও, এর তাৎপর্য ব্যবহার করা হয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরতে—বিস্মৃত সুন্নাহকে পুনর্জীবিত করার ফজিলত কত মহান।

শেষে তিনি বলেন, আজকের অনেক মুসলিম সমাজে একটি বিস্মৃত সুন্নাহ হলো নারীদের অবহেলা না করা এবং তাদের ঈদের নামাজে অংশগ্রহণে বাধা না দেওয়া। তাই আমাদের উচিত আন্তরিক নিয়ত করা, এই সুন্নাহকে পুনরুজ্জীবিত করার এবং সমাজে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য কাজ করা, ইনশাআল্লাহ।

———-

ক্যাটাগরি : ফিকাহ, ফাতাওয়া, শিক্ষা, উপদেশ।

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা, মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *