AkramNadwi

প্রতিধ্বনিত হয়, তা সে-ই শুনতে পারে যে স্বপ্নের ধ্

প্রতিধ্বনিত হয়, তা সে-ই শুনতে পারে যে স্বপ্নের ধ্বংসাবশেষে রাত কাটিয়েছে।

আসলে মানুষকে কোমল দুঃখই তৈরি করে। বিপদ আত্মাকে এমনভাবে গড়ে তোলে যেন নদী পাথরকে গড়ে তোলে। যারা কখনো ভাঙে না, প্রায়ই তারাই সবচেয়ে কঠিন হয়ে যায়। আর যারা ভেঙে বেঁচে থাকে, তাদের ভিতরে এক অদ্ভুত আলো তৈরি হয়; তারা অন্যের ক্ষতের উপর লবণ ছিটায় না, মলম রাখে। এর বিপরীতে কিছু লোক এমনও আছে যারা অন্যের ক্ষত দেখে সেই আনন্দ প্রকাশ করে যা সাধারণত কোনো সফল বিয়ে বা সস্তা জমি কেনার সময় করা হয়।

আজকের মানুষ হয়তো আগের চেয়ে বেশি শিক্ষিত, কিন্তু আগের চেয়ে বেশি নির্দয়ও। আমাদের শহরে ভবনগুলো উঁচু হয়েছে, কিন্তু হৃদয়গুলো নিচু হয়েছে। ভাষা শালীন হয়েছে, কিন্তু স্বরের উষ্ণতা চলে গেছে। লোকজন নৈতিকতার উপর বই লেখে, কিন্তু একে অপরের ভুলের উপর এমনভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে যেন ক্ষুধার্ত পাখি আহত দেহের উপর। কখনো কখনো মনে হয় যে সভ্যতা শুধু পোশাক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে, হৃদয় এখনও জঙ্গলে বাস করে।

আমরা এমন সময়ে বাস করছি যেখানে প্রত্যেকেই কথা বলতে চায়, কিন্তু শুনতে কেউ চায় না; প্রত্যেকেই সিদ্ধান্ত জানাতে চায়, কিন্তু কারো ব্যথায় প্রবেশ করতে চায় না। যদিও মানুষের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ওষুধের নয়, “বুঝে নেওয়ার”। এবং আশ্চর্যের বিষয় হল যে এই আশীর্বাদ আজকাল ওষুধের চেয়েও বেশি দামী হয়ে গেছে।

খাজা নাসির উদ্দিনের এই বাক্য আসলে পুরো মানব সভ্যতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। মানুষ সমুদ্রকে বশ করেছে, পাহাড় কেটেছে, তারকায় পৌঁছেছে, কিন্তু এখনও অন্য মানুষের ব্যথায় পৌঁছানোর পথ পুরোপুরি শিখতে পারেনি। বিজ্ঞান আমাদের চাঁদে পৌঁছে দিয়েছে, কিন্তু প্রতিবেশীর হৃদয়ে পৌঁছানোর কৌশল এখনও আবিষ্কার হয়নি।

সম্ভবত এই কারণেই আল্লাহ্‌ তায়ালা নবীদের শুধু উপদেশক বানিয়ে পাঠাননি, বরং তাদের দুঃখের ভাঁটিতে নিয়ে গেছেন; এতিমি, হিজরত, দারিদ্র্য, বিরোধিতা, একাকীত্ব, ধৈর্য, যাতে তারা মানব অশ্রুর উষ্ণতা জানতে পারেন। কারণ যে নিজে অন্ধকার রাতের মধ্য দিয়ে যায়নি, সে অন্যের জন্য প্রদীপ কীভাবে হবে?

এবং আজও খাজা নাসির উদ্দিনের সেই সুর সময়ের গলিতে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে: “আমার জন্য এমন একজন মানুষকে নিয়ে আসো যে নিজেও কখনো ছাদ থেকে পড়েছে!”

কারণ মানুষের জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তাদের যারা ক্ষত দেখে তামাশা নয়, নিজের হৃদয়কে স্মরণ করে।

———-

ক্যাটাগরি : আখলাক, উপদেশ, ফিলোসোফি, তাজকিয়াহ

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ AI, সম্পাদনা, মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/9086

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *