AkramNadwi

রমজান ও মাতৃত্ব

রমজান ও মাতৃত্ব<br>

|১৪|০২|২০২৬|

❖ প্রশ্ন:

সম্মানিত শায়খ, একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা সম্পর্কে আপনার দিকনির্দেশনা কামনা করছি। আমাদের পরিচিত দু’জন বোন, যারা পূর্বে আপনার দরসে অংশগ্রহণ করতেন, সম্প্রতি নবজাত সন্তানের জননী হয়েছেন এবং বর্তমানে সন্তানকে দুধ পান করান।

তাঁদের জিজ্ঞাসা হলো, রমযান মাসে স্তন্যদানকারী মায়ের জন্য রোজা রাখার বিধান কী? যদি রোজা রাখার কারণে নিজের শারীরিক দুর্বলতা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে, কিংবা শিশুর পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের ক্ষতির ভয় থাকে, তবে কি তিনি রোজা ছেড়ে দিতে পারবেন? আর সে ক্ষেত্রে পরবর্তীতে কি কেবল কাযা আদায় করলেই যথেষ্ট হবে, নাকি ফিদিয়া প্রদানও আবশ্যক হবে?

এ বিষয়ে শরিয়তের সুস্পষ্ট নির্দেশনা জানালে উপকৃত হবো।

❖ উত্তর:

আল্লাহ তাআলা প্রশ্নকারী বোনদের প্রতি রহমত নাযিল করুন, তাঁদেরকে সুস্থতা ও শক্তি দান করুন এবং তাঁদের সন্তানদের জীবনে বরকত দান করুন।

স্তন্যদানকালীন সময়ে রোজার বিধান নির্ভর করে সামর্থ্য ও বাস্তব আশঙ্কার ওপর। যদি কোনো মা যুক্তিসংগতভাবে আশঙ্কা করেন যে রোজা রাখলে তাঁর নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে, অথবা তাঁর দুধের পরিমাণ ও গুণগত মান এমনভাবে প্রভাবিত হতে পারে যাতে শিশুর ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হয়, তবে তাঁর জন্য রোজা না রাখা বৈধ।

এটি শরিয়তের সেই মানবিক ও প্রজ্ঞাপূর্ণ নীতির অংশ, যেখানে আল্লাহ তাআলা মানুষের জীবনে সহজতা চান; তিনি কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। দ্বীন কখনো অযথা কষ্ট চাপিয়ে দেয় না; বরং দায়িত্ব ও দয়ার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে।

তবে যে দিনগুলো রোজা রাখা হয়নি, সেগুলো দায়িত্ব হিসেবেই থেকে যাবে। যখন তিনি পুনরায় সক্ষম হবেন (হোক তা শিশুর দুধ ছাড়ানোর পর, কিংবা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলে) তখন সেই রোজাগুলো কাযা আদায় করতে হবে।

এক্ষেত্রে ফিদিয়া ওয়াজিব নয়। ফিদিয়া নির্ধারিত হয়েছে তাঁদের জন্য, যারা স্থায়ীভাবে রোজা রাখতে অক্ষম, যেমন- দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি বা এমন বৃদ্ধ, যাঁদের আর সুস্থ হওয়ার প্রত্যাশা নেই। কিন্তু একজন স্তন্যদানকারী মা সাময়িকভাবে অব্যাহতি পান; তিনি স্থায়ীভাবে অক্ষম নন। তাই তাঁর ওপর দায়িত্ব কেবল অনুপস্থিত দিনগুলোর কাযা আদায় করা।

যদি কষ্টের মাত্রা প্রতিদিন একরকম না থাকে, তবে তিনি দিনভিত্তিক নিজের অবস্থা বিবেচনা করবেন। যে দিন আশঙ্কা ছাড়াই রোজা রাখা সম্ভব মনে হবে, সে দিন রোজা রাখবেন; আর যে দিন ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল হবে, সে দিন রোজা না রেখে পরে তা কাযা করবেন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের সকলকে তাঁর বিধান যথাযথভাবে বুঝে পালন করার তাওফিক দান করুন।

———-

ক্যাটাগরি : রামাদান, ফাতাওয়া, ফিকহ।

✍ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/8413

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *