আরও একটি দিক হলো, বিতর্ক বিশ্বাস গঠনের সঙ্গে যুক্ত যে আন্তরিকতা, দুর্বলতা স্বীকারের মানসিকতা ও উন্মুক্ততা, তা নিরুৎসাহিত করে। বিতর্কে অংশগ্রহণকারীরা প্রবেশ করেন সুদৃঢ় অবস্থান ও কৌশলগত লক্ষ্য নিয়ে। বিশ্বাস স্বীকার করে নেওয়া বা অবস্থান বদলানো মানেই বিতর্ককে প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখার মূল ভিত্তি নষ্ট হয়ে যাওয়া। এর ফলে বিতর্ক প্রায়ই আত্মপরিচয়ের সীমারেখা আরও দৃঢ় করে, অবস্থানকে আরও জমাট বাঁধায়, কিন্তু আধ্যাত্মিক রূপান্তরের পথ খুলে দেয় না।
উপসংহার :
ধর্মীয় বিতর্ক বুদ্ধিবৃত্তিক ও ধর্মতাত্ত্বিক আলোচনায় একটি নির্দিষ্ট, সীমিত ভূমিকা পালন করে। এটি যে যুক্তি অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী, তা দেখাতে পারে, কিন্তু যে ধর্মীয় দাবিকে রক্ষা করা হয় তার সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। খেলাধুলার প্রতিযোগিতার মতোই, বিতর্ক মূলত দক্ষতা ও পারফরম্যান্সের পরিমাপ করে, সত্তা বা সারবস্তুর নয়। একই সঙ্গে, এটি বিশ্বাসের জন্ম দেয় না; বরং প্রতিযোগিতার আবহ সৃষ্টি করে, পার্থক্যগুলো স্পষ্ট করে, কিন্তু বিশ্বাস তৈরি করে না।
এই সীমাবদ্ধতাগুলো স্পষ্টভাবে বোঝা মানে ধর্মীয় বিতর্কের মূল্য অস্বীকার করা নয়; বরং তাকে তার যথার্থ জায়গায় স্থাপন করা। যখন বিতর্ককে বিশ্বাসান্তরের হাতিয়ার নয়, বরং বোধ ও স্পষ্টতার একটি মাধ্যম হিসেবে দেখা হয়, তখনই তা অযথা প্রত্যাশার ভার ছাড়াই বুদ্ধিবৃত্তিক পরিসরে অর্থবহ অবদান রাখতে পারে।
————–
ক্যাটাগরি: ইসলামি চিন্তাধারা, দর্শন, নাসিহাহ, সমালোচনা।
✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড।
✍️ অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7981