AkramNadwi

ধর্মীয় প্রতীকের অবমাননায় আমাদের প্রতিক্রিয়া ❞

بسم الله الرحمن الرحيم.

:: লেখক: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী
অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা :
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

:: প্রশ্ন: ভোপালের একজন প্রভাবশালী আলেম ও শিক্ষা-প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে সক্রিয় মাওলানা হায়দার আলী নদভী (আল্লাহ তাকে নেক হায়াত দিক) লিখেছেন:
আস-সালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ,
শ্রদ্ধেয় ও স্নেহাশিস !
আশা করি আপনি ভালো ও নিরাপদে আছেন।

❓ আমার প্রশ্ন হলো, আজকাল কিছু বিদ্বেষী লোক এমন কিছু ক্লিপ তৈরি করছে যা মুসলমানদের মধ্যে ঘৃণা ও ধর্মীয় আবেগ জাগিয়ে তোলে, যার ফলে মুসলিম জনগণ আলেমদের নিস্ক্রিয়তার জন্য তাঁদের সমালোচনা করে এবং তাঁদের নির্লজ্জ বলে থাকে, দাবি করে যে এঁরা শুধু ধৈর্য ধারণের উপদেশ দেন ইত্যাদি।
সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে একজন বিদ্বেষী কোরআনের অবমাননা ও ব্যঙ্গ করছে, যা সত্যিই হৃদয় বিদারক। এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়, বরং প্রতিটি যুগেই অত্যাচারীদের এটি অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কোরআন থেকে মুসলমানদের দূরত্বও এর একটি কারণ, যেমন বলা হয়, “তুমি কোরআন থেকে দূরে থাকার কারণে দুর্বল হয়ে পড়েছ।” এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে কী বার্তা দেওয়া উচিত? দয়া করে আমাকে পরামর্শ দিন।

✅ উত্তর: কোরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “ليبلوكم أيكم أحسن عملا” অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদের পরীক্ষা করবেন, যেন বোঝা যায় যে তোমরা এই পরীক্ষাগুলিতে কীভাবে সফলভাবে উত্তীর্ণ হতে পারো। কোরআনে এই অর্থে অনেক আয়াত রয়েছে এবং হাদিসে বারবার এই বার্তা পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে।

পরীক্ষার উদ্দেশ্য দুটি প্রধান গুণ অর্জন করানো:
:: প্রথমত, যারা ঈমান এনেছে তারা সব পরিস্থিতিতে আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আনুগত্য করবে, তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করবে এবং তাঁর উপরই নির্ভর করবে। ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর হলো তাওয়াক্কুল বা আল্লাহর উপর পূর্ণ নির্ভরশীলতা। এই গুণ অর্জনের মূল মাধ্যম হলো নামাজ কায়েম করা। নামাজ সময়মতো, জামাতের সঙ্গে এবং সব ফরজ ও সুন্নতের প্রতি গুরুত্বসহকারে আদায় করতে হবে। নামাজ পড়ার সময় প্রতিটি কথা ও কাজে মনোযোগ দেবে এবং হৃদয়ে ভীতি থাকবে।

:: দ্বিতীয়ত, আল্লাহর পথে যে সমস্ত অসুবিধা আসবে, সেগুলোতে ধৈর্য সহকারে সামলাবে। এর মানে হলো কোনো সৃষ্টি বা কারো কাছে অভিযোগ না করা এবং আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদানের আশা নিয়ে ধৈর্য ধারণ করা। এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক উভয় ধরনের সমস্যার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, “ولربك فاصبر”, “فاصبر صبرا جميلا”, “استعينوا بالصبر والصلاة”, “إن الله مع الصابرين”।
(অর্থ:- প্রভুর জন্য ধৈর্য ধরো।
সুন্দরভাবে ধৈর্য ধরো।
ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো ।
আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন।
:: আল কুরআন)
এই বিষয়ে আরও অনেক আয়াত রয়েছে। মৃত্যুর আগে একজন ব্যক্তির ধৈর্যশীল হওয়া অপরিহার্য। সর্বদা আত্মসমালোচনা করবে যে ধৈর্য কতটুকু তার মধ্যে প্রতিষ্ঠিত আছে। যখনই কোনো ভুল হবে, তখনই তওবা করবে এবং আবার ধৈর্যশীল হওয়ার সংকল্প করবে।

বিশ্বের প্রতিটি স্থানে মুসলমান রাজনৈতিক ও সামরিকভাবে দুর্বল। ইসলাম বিদ্বেষীরা তাঁদের প্ররোচিত করার চেষ্টা করে। মানুষ যখন রেগে যায় তখন সে শয়তানের প্রভাবের অধীন হয়ে পড়ে এবং সিদ্ধান্তে ভুল করে। এই সমস্ত চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক থাকা উচিত। কেউ যদি আল্লাহর অবমাননা করে, তাকে আল্লাহর পরিচয় নরমভাবে দেওয়া উচিত। নবীর প্রতি অপমান করলে, তাকে সিরাতের ভালো বই পড়ার জন্য দেওয়া উচিত। কোরআনের অবমাননা করলে, তার ভাষায় একটি ভালো কোরআনের অনুবাদ উপহার দিন। এ ধরনের লোকদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করুন, তাঁদের খাওয়াতে ডাকুন এবং তাঁদের সাহায্য করুন। ভালো আচরণের মাধ্যমে অনেক খারাবি দূর হয়ে যায়।

আইনসঙ্গত সীমার মধ্যে থেকে বিদ্বেষী লোকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া ধৈর্যের বিরুদ্ধে নয়। তবে আলেমরা এই কাজটি করবেন না। আলেমরা আন্তরিকতার সঙ্গে শিক্ষা ও দাওয়াতের কাজে নিয়োজিত থাকবেন। যদি শিক্ষা ও দাওয়াতের কাজে ক্ষতি হয়, তবে মুসলমানদের জাতীয় অস্তিত্ব হুমকির মধ্যে পড়বে।

আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার কাজটি মুসলিম সামাজিক কর্মী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা করবেন। চেষ্টা করুন যাতে সুবিবেচক ও ন্যায়পরায়ণ অমুসলিমরা আপনাদের সঙ্গে থাকে, যেন আপনাদের কোনো উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক রঙ না দেওয়া হয়।

আরেকটি বিষয় মনে রাখবেন যে ধর্মীয় ও পার্থিব অধিকারের মধ্যে পার্থক্য রাখতে হবে। পার্থিব অধিকারের জন্য, যদি কোনো দেশব্যাপী আন্দোলন চালানো হয়, তবে এতে কোনো ক্ষতি নেই, তবে শর্ত হলো বড় সংখ্যক অমুসলিমকে এতে অংশীদার করা। কিন্তু ধর্মীয় অধিকারের জন্য কখনো দেশব্যাপী প্রচেষ্টা চালাবেন না; বরং তা আঞ্চলিক রাখবেন, যেমন জেলার স্তরে চেষ্টা করবেন। এটিকে আঞ্চলিক ও সীমাবদ্ধ রাখার উপকার হলো সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলি আপনাদের দিকে মনোযোগ দিতে ব্যর্থ হবে।

মূল বিষয় হলো প্রতিটি পরিস্থিতিতে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়া এবং তাঁর কাছ থেকে সাহায্য চাওয়া। এটি কখনো অবহেলা করবেন না। মনে রাখবেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি এজন্য আসে যে, যাতে বান্দা আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করে।

https://t.me/DrAkramNadwi/5210

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *