بسم الله الرحمن الرحيم
✍️ লেখক: ড. মোহাম্মাদ আকরাম নদভী
অক্সফোর্ড।
অনুবাদ যাচাই ও সম্পাদনা :
মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।
—
মাছ ধরার শৈশব স্মৃতি:
যখন পুকুর ও খালে পানি ভরা থাকত, তখন গ্রামের মানুষেরা মাছ ধরার জন্য ছিপ ব্যবহার করতো। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পর কয়েকটি মাছই ধরা পড়ত। ছোটবেলায় আমিও ছিপ দিয়ে মাছ ধরতে পছন্দ করতাম। সঙ্গীদের সঙ্গে সময় কাটানো যেত এবং কিছু ছোট ছোট মাছ ধরা যেত। শীতকালে যখন পানির স্তর কমে যেত, তখন গ্রামবাসীরা বিভিন্ন জাল নিয়ে বের হত এবং মাছ ধরত। এটি ছিল আমাদের জন্য একধরনের মেলার মতো।
মাছের নাম ও ধরার কৌশল
আমাদের এলাকায় বিভিন্ন প্রকার মাছ পাওয়া যেত, যেমন রুই, পুঁটি ইত্যাদি। বড়দের থেকে শিখেছিলাম কীভাবে বড় মাছ ধরতে হয়। একবার আমার বড় চাচা এত বড় মাছ ধরেছিলেন যে তিনি একা তা ধরতে পারেননি, সঙ্গীদের সাহায্য নিয়ে সেই মাছ ভাগ করে নেয়া হয়েছিল।
—
মাছ ধরার গান ও গল্প
মাছ ধরার একটি আলাদা সংস্কৃতি ছিল, যেখানে বিভিন্ন গানের মাধ্যমে জেলেরা তাদের জীবনের গল্প তুলে ধরত। গানগুলির কিছু নমুনা হলো:
> “বাতাসের ঝলক, পানির ঢেউ
সমুদ্রের ডাক, আমাদের ডাকে
পানিতে জাল ফেলি, মাছ উঠাই
স্বপ্নের আশ্রয়, জীবিকার কিনারা।”
এগুলো প্রায় পঞ্চাশ বছর আগের কথা। এখন এগুলোর কিছুই নেই, তবে মাছ ধরতে এখনও মজা পাই। একবার আমি এমনভাবে হাত দিয়ে মাছ ধরেছিলাম যে তা ছিল খুবই বিপজ্জনক, কারণ গর্তে বিষাক্ত কীট থাকতে পারে। কিন্তু সে দিন আমি প্রচুর মাছ ধরেছিলাম।
—
☔ বর্ষাকালে মাছ ধরা
বর্ষাকালে বন্যার সময় মাছেরা পানির উল্টোদিকে এসে উঠে। তখন মাঠের পানি কমে গেলে চারপাশে ছোট ছোট মাছ ভরে যেতো। আমরা এত মাছ ধরেছিলাম যে পুরো গ্রামে মাছের গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন ফ্রিজ ছিল না, তাই মাছগুলো জমিতে ফেলে দেয়া হতো যাতে ফসলের জন্য তা কার্যকরী হয়।
—
মাছ খাওয়ার প্রতি ভালোবাসা:
যেমন আমরা মাছ ধরতে পছন্দ করতাম, তেমনি মাছ খেতেও ভালোবাসতাম। বিরিয়ানি বা অন্য কোনো খাবারও মাছের মতো আকর্ষণীয় ছিল না। কিন্তু এটি শর্তসাপেক্ষে, মাছ ভালোভাবে পরিষ্কার, তেল-মশলায় ভাজা, এবং সুন্দরভাবে রান্না হলে তবেই খেতে ভালো লাগে। মাছ ভাজার মিষ্টি গন্ধ ছিল আমাদের জন্য অত্যন্ত লোভনীয়।
—
বাঙালি ও বিহারি স্টাইলে মাছ রান্না
আমরা মেনে নিয়েছি যে বাংলার বা বিহারের রান্না করা মাছ আমাদের কাছে তেমন স্বাদ লাগে না। কারণ তারা মাছের গন্ধ দূর করতে সঠিকভাবে পেঁয়াজ, রসুন ব্যবহার করেন না। আমার বিশ্বাস বিহার ও বাংলা অঞ্চলের বন্ধুরা আমাদের এই খোলামেলা কথাগুলি গ্রহণ করবেন এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে থাকার চেষ্টা করবেন।
—
হারানো ঐতিহ্য :
এটি ছিল সেই সময়ের গল্প, যা এখন আর হয় না। অনেক ঐতিহ্য হারিয়ে গেছে। হয়তো আমাদের পূর্বপুরুষদের যুগেও কিছু ঐতিহ্য ছিল যা আমাদের জন্মের আগেই হারিয়ে গেছে। আমরা কেবল সেই সব হারানো জিনিসের প্রতিই আকৃষ্ট হই যা আগে ছিল কিন্তু এখন আর নেই।
শেষ কথন
আমরা আমাদের গ্রামের এত স্মৃতি জমা করেছি যে এগুলি পড়ে যে কেউ বুঝতে পারবে আসলেই গ্রাম বলতে কী বোঝায়। ️