AkramNadwi

শিরোনাম : সুদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাড়ির কর পরিশোধ করা।

শিরোনাম : সুদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে বাড়ির কর পরিশোধ করা।
——————–

|| প্রশ্ন:
আমার ব্যাংক জমার ওপর থেকে কিছু সুদের অর্থ আসে। সাধারণত আমি এ অর্থ দরিদ্রদের দিয়ে দিই, তবে কোনো সওয়াবের নিয়ত ছাড়াই। জানতে চাই—ভারত সরকারের কাছে বাড়ির যে সম্পত্তিকর (Property Tax) দিতে হয়, আমি কি এই সুদের অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করতে পারি? এই করের মধ্যে বাৎসরিক ট্যাক্স, বিলম্বে পরিশোধের জরিমানা ও বিলম্ব সুদ—এমন নানা অংশ থাকে।

|| উত্তর:
ইসলামে রিবা (সুদ বা শোষণমূলক সুদ) কঠোরভাবে নিষিদ্ধ—যেমন স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে কুরআনে (সূরা আল-বাকারা ২:২৭৫–২৭৯) এবং হাদিসে।
এর নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো, এতে নিশ্চিত আর্থিক লাভ হয় কোনো প্রকৃত পরিশ্রম বা ঝুঁকি ছাড়া; যা মূলত শোষণমূলক।
তাই সুদ থেকে পাওয়া যেকোনো আয় অপবিত্র এবং ব্যক্তিগত উপকারের জন্য ব্যবহার করা বৈধ নয়।

যখন সুদের অর্থ জমা হয়ে যায়—বিশেষত আধুনিক ব্যাংক ব্যবস্থায়, যেখানে অনেক সময় তা এড়ানো সম্ভব হয় না—তখন এ অর্থ থেকে মুক্তি পাওয়া উচিত, তবে এর বিনিময়ে কোনো সওয়াব বা নেকি আশা না করে।
কারণ এটি সদকা নয়, বরং অপবিত্র অর্থ থেকে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার একটি উপায়।
উলামারা পরামর্শ দিয়েছেন—এ ধরনের অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে বা গরিব-দুঃস্থদের সাহায্যে ব্যয় করা উচিত, যাতে এটি পরিশুদ্ধির একটি রূপ হিসেবে গণ্য হয়, দান হিসেবে নয়।

অন্যদিকে, সম্পত্তিকর বা প্রপার্টি ট্যাক্স হলো এমন এক নাগরিক দায়িত্ব, যা সরকার বা পৌর কর্তৃপক্ষ সম্পত্তির মালিকের ওপর আরোপ করে।
এটি পরিশোধ করা মানে হলো—নিজের সম্পত্তি বৈধভাবে ধরে রাখা এবং জরিমানার হাত থেকে বাঁচা।
অর্থাৎ এর সুফল সরাসরি মালিকের ব্যক্তিগত জীবনে ফিরে আসে।

এই কারণে, রিবা বা সুদ থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়ে সম্পত্তিকর, বিলম্ব জরিমানা বা বিলম্ব সুদ পরিশোধ করা ব্যক্তিগত লাভের অন্তর্ভুক্ত হবে—যা শরিয়তে অনুমোদিত নয়।

অতএব, বাড়ির কর ও তার সংশ্লিষ্ট সব দায়দায়িত্ব হালাল আয়ের অর্থ থেকে পরিশোধ করতে হবে।
আর সুদের অর্থ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করতে হবে—যেমন অভাবীদের সাহায্য করা বা সমাজের উপকারে লাগানো—কিন্তু কোনো সওয়াবের প্রত্যাশা ছাড়া, আত্মিক পরিশুদ্ধির এক প্রয়াস হিসেবে।

——————–
ক্যাটাগরি : ফাতাওয়া, ফিকহ।

✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7254

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *