AkramNadwi

যেখানে ছাত্রদের ব্যাপার আসে – তারা মাদরাসা বা একাড

যেখানে ছাত্রদের ব্যাপার আসে – তারা মাদরাসা বা একাডেমিতে শিক্ষকের সামনে নামাজ, রোজা ও পর্দার প্রতি যত্নশীল থাকে, কিন্তু বাড়িতে বা একা থাকলে সে আমলগুলো ধরে রাখতে পারে না—এর আসল কারণও এটিই যে আমলগুলোর সত্যিকার অর্থ এখনো তাদের অন্তরে প্রবেশ করেনি। যদি কোনো কাজ কেবল শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য বা পুরস্কার পাওয়ার জন্য করা হয়, তবে তা সবসময় অস্থায়ী ও উপর উপরই থাকবে। পুরস্কার বা ভয়ের কারণ দূর হয়ে গেলে কাজটিও থেমে যাবে।

শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু ছাত্রদেরকে নির্দেশ দেওয়া বা ভয় দেখানো নয়; বরং তার আসল দায়িত্ব হলো তাদের কাছে আমলগুলোর হিকমত ও অর্থ পরিষ্কার করা। যদি নামাজকে শুধু একটি ফরজ হিসেবে তালিকায় লিখে দেওয়া হয়, তবে তা ভারী মনে হবে। কিন্তু যদি বোঝানো হয় যে নামাজ অন্তরকে শান্তি দেয়, মানুষকে আল্লাহর কাছাকাছি করে এবং জীবনের উদ্দেশ্য মনে করিয়ে দেয়—তাহলে এই হিকমতই ছাত্রকে একা থাকলেও নামাজে অবিচল রাখবে।

একইভাবে, যদি রোজাকে কেবল ক্ষুধা-পিপাসা সহ্য করার অনুশীলন হিসেবে বোঝানো হয়, তবে সেটি এক ধরনের বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু যদি পরিষ্কার করে বলা হয় যে রোজা মানুষকে ধৈর্য, দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি ও তাকওয়ার প্রশিক্ষণ দেয়—তাহলে ছাত্র তা অন্তর থেকে গ্রহণ করবে।

পর্দাকে যদি শুধুই সামাজিক প্রথা হিসেবে দেখানো হয়, তবে সেটিও বোঝা মনে হবে। কিন্তু যখন বুঝিয়ে দেওয়া হবে যে পর্দা সম্মান, মর্যাদা ও পবিত্রতার রক্ষাকবচ—তখন ছাত্র তা অন্তরের গভীরতা থেকে গ্রহণ করবে।

শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য হলো ছাত্ররা যেন শুধু বুদ্ধি ও মেধায় নয়, বরং চরিত্র ও আত্মিকতার দিক থেকেও অগ্রসর হয়। যখন শিক্ষা সত্য, হিকমত ও প্রজ্ঞার সাথে যুক্ত হয়, তখন মানুষের অন্তরে সততা, বিনয়, ত্যাগ, মানবসেবা, ভদ্রতা ও সহনশীলতার মতো গুণাবলি জন্ম নেয়। এই গুণাবলিই মানুষকে নিজের প্রবৃত্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম করে। তখন সে নেক কাজ কেবল শিক্ষক বা অভিভাবকের সামনে করে না, বরং একা থাকলেও নিজের চরিত্রকে শুদ্ধ করে ও নেক আমলে স্থির থাকে।

এই সবকিছুর সারকথা হলো—অভিভাবক ও শিক্ষকের কাজ শুধু ভয় দেখানো, লোভ দেওয়া বা জোরজবরদস্তি করার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। তাদের আসল কাজ হলো সন্তান ও ছাত্রদের হৃদয় ও মস্তিষ্ককে জাগ্রত করা। যখন তারা কোনো কিছুর সত্যতা ও হিকমত উপলব্ধি করে, তখন তারা তা নিয়মিতভাবে পালন করে, কারণ তখন তারা মানুষের ভয় বা লোভের কারণে নয়—বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি ও অন্তরের দৃঢ় বিশ্বাসের কারণে আমল করে।

এমন শিক্ষা ও তরবিয়ত একজন সৎ মানুষকে গড়ে তোলে, আর সেই সৎ মানুষ কেবল নিজের নয়, পুরো সমাজের সংশোধনেরও নিশ্চয়তা দেয়।

——————

ক্যাটাগরি: আখলাক, পরিবার, আত্মশুদ্ধি, শিক্ষা।

✍️ মূল : ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ।

🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7105

শেয়ার করুন:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *