শিরোনাম : তাকলিদ।
——
ভারতের এক খ্যাতিমান মুফতি ও ফকীহের কাছে আমি আরজ করলাম—কিছু সহিহ হাদিসে এসেছে যে মাগরিবের নামাজের আগে নফল পড়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, লোকেরা নিজেরাও এই সময়ে নামাজ পড়ে না, আবার অন্যদেরও পড়তে দেয় না। তিনি উত্তর দিলেন: আমরা হানাফি, আর আমাদের মাযহাবে মাগরিবের ফরজ নামাজের আগে কোনো নফল নির্ধারিত নেই।
আমি আরজ করলাম: আপনারা বলেন যে এশার নামাজের আগে চার রাকাত গায়রে মুয়াক্কাদা সুন্নত আছে। এর প্রমাণ কি রাসূলুল্লাহ ﷺ থেকে পাওয়া যায়? তিনি বললেন: আমরা এই চার রাকাতকে ফরজ বলি না, ওয়াজিব বলি না, এমনকি মুয়াক্কাদা সুন্নতও বলি না। তাই এর প্রমাণ খোঁজার কোনো প্রয়োজন নেই।
আমি আরজ করলাম: আমরা আপনার কাছে ফরজ বা ওয়াজিবের প্রমাণ চাইছি না, আমরা গায়রে মুয়াক্কাদা সুন্নতের প্রমাণ জানতে চাইছি। এই চার রাকাতের কোনো প্রমাণ কি নবী করিম ﷺ থেকে পাওয়া যায়? তিনি বললেন: আমাদের কিতাবগুলোতে এটা লেখা আছে, আর আমরা তো মুকাল্লিদ (তাকলিদকারী)।
তাকলিদের আসল শব্দ হলো “কিলাদা”। আর “কিলাদা” বলা হয় সেই দড়িকে, যা উট বা অন্য কোনো পশুর গলায় পরানো হয়। সুতরাং তাকলিদের অর্থ হলো—এক ব্যক্তি তার দড়ি অন্যের হাতে তুলে দিল, সে যেদিকে চাইবে টেনে নিয়ে যাবে। তাকলিদের আসল তা-ই—প্রমাণ ছাড়া অন্যের অন্ধ অনুসরণ করা। যেমন একটি উট তার মালিকের পেছনে পেছনে হাঁটে, জিজ্ঞেস করে না কোথায় যাচ্ছো আর কেন যাচ্ছো, শুধু চলে যায়। তেমনি মুকাল্লিদ মানুষও অন্যের পেছনে পেছনে চলে, না জিজ্ঞেস করে কোথায় নিচ্ছো আর কেন, শুধু তাকলিদ করতে থাকে। এ মনোভাব আসলে সেই মানুষটির অপমান, যাকে আল্লাহ তাআলা বুদ্ধি ও স্বভাববোধের মহা নেয়ামত দিয়েছেন।
উলামারা তাকলিদের সংজ্ঞা এভাবেই দিয়েছেন। ইবনে তাইমিয়া রাহি. বলেন:
“التقليد هو قبول القول بغير دليل”
অর্থাৎ—তাকলিদ হলো প্রমাণ ছাড়া কোনো কথাকে মেনে নেওয়া।
জুরজানি লিখেছেন:
“عبارة عن اتباع الإنسان غيره فيما يقول أو يفعل معتقدًا للحقيقة فيه من غير نظر وتأمل في الدليل”
অর্থাৎ—তাকলিদ হলো মানুষ অন্যের কথা বা কাজ অনুসরণ করবে, সেটিকে সত্য মনে করবে, কিন্তু প্রমাণ নিয়ে চিন্তা করবে না।
আরও বলা হয়েছে:
“التقليد هو اتباع من لم يقم باتباعه حجة ولم يستند إلى علم”
অর্থাৎ—তাকলিদ হলো এমন কারো অনুসরণ করা, যার অনুসরণের পক্ষে কোনো শরঈ প্রমাণ নেই এবং যা জ্ঞানের উপর প্রতিষ্ঠিত নয়।
এছাড়াও বলা হয়েছে:
“التقليد هو قبول قول بلا حجة”
অর্থাৎ—প্রমাণ ছাড়া কোনো কথাকে মেনে নেওয়া।
এই মানসিকতা এমনভাবে গেঁথে গিয়েছিল যে, ইমাম আবুল হাসান কারখি রাহি. বলেছেন:
“كل آية تخالف مذهبنا فهي مؤوّلة أو منسوخة، وكل حديث يخالف مذهبنا فهو مؤوّل أو منسوخ”
অর্থাৎ—যে আয়াত আমাদের মাযহাবের বিরোধী, তা হয় তাওয়িলকৃত নয়তো মানসুখ; আর যে হাদিস আমাদের মাযহাবের বিরোধী, তাও হয় তাওয়িলকৃত নয়তো মানসুখ।
একইভাবে ইমাম আবু হাফস উমর ইবনে আহমদ নাসাফি রাহি., তাফসির ‘তাইসীর’-এর রচয়িতা লিখেছেন:
“الأصل أن كل آية تخالف قول أصحابنا فإنها تحمل على النسخ أو على الترجيح، والأولى أن تحمل على التأويل من جهة التوفيق”
অর্থাৎ—আমাদের আসল নীতি হলো, যেকোনো আয়াত যদি আমাদের আসহাবদের কথার বিরোধী হয়, তবে তা মানসুখ বা তারজীহে বহন করা হবে, আর মিলিয়ে নেওয়ার জন্য তা তাওয়িলে নিয়ে যাওয়া উত্তম।
আল্লাহ তাআলা কোরআন নাজিল করেছেন এবং একজন ব্যক্তিকে তাঁর রাসূল বানিয়েছেন, আর সেই মহান সত্তা হলেন নবী করিম ﷺ। আল্লাহ তাআলা নিজেই তাঁর হেফাজত করেছেন; কোথাও সামান্যতম ভুল হলে তা ওয়াহির মাধ্যমে সংশোধন করেছেন, এবং তাঁকে সমগ্র মানবজাতির জন্য পূর্ণ আদর্শ ও উত্তম নমুনা বানিয়েছেন।
রাসূল ﷺ এর পর যারা এসেছেন—তা ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক হোন, ইমাম বুখারি ও ইমাম মুসলিম হোন, ফারাবি ও ইবনে সিনা হোন, ইমাম গাজালি ও ইবনে তাইমিয়া হোন, কিংবা শাহ ওয়ালিউল্লাহ ও ইমাম শওকানি হোন—সকলেই কেবল এই নবীর অনুসারী।
কোরআন পড়ে কেউ নবী হতে পারে না, কারণ এ কিতাব কাউকে নবী বানায় না, বরং সবাইকে শুধু নবীর অনুসারী করে। আর শুধু অনুসারী—এর বেশি কিছু নয়। এই অনুসরণের হুকুম কোরআন ও সুন্নতে বারবার এসেছে। কখনো একে বলা হয়েছে “ইত্তিবা’”, কখনো “ইক্তিদা’”, কখনো “তাআসসী”। কিন্তু “তাকলিদ” শব্দটি কোরআন-সুন্নতে কোথাও আসেনি। আর স্পষ্ট যে তাকলিদ, ইত্তিবা’ ও ইক্তিদা’ সমার্থক নয়।
ইত্তিবা’র সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এটি বুদ্ধি-বিবেকের ব্যবহার ও স্বভাবজাত সঠিক প্রবৃত্তির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এ-ই সেই ইত্তিবা’, যা আল্লাহ তাআলা মানুষের প্রকৃতির ভেতরে রেখেছেন।
উদাহরণস্বরূপ: যখন আপনি আপনার ছোট সন্তানদের নিয়ে রাস্তা পার হন, তারা অন্ধের মতো আপনার পেছনে পেছনে চলে না। বরং এদিক-ওদিক তাকায়। যদি কোনো গাড়ি আসতে দেখে তবে দাঁড়িয়ে যায়, আর গাড়ি চলে গেলে রাস্তা পার হয়। আপনি এটিকে অবাধ্যতা মনে করেন না, বরং তাদের বুদ্ধিমত্তায় খুশি হন।
এভাবে ধরুন, আপনি আপনার এক বন্ধুকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন এবং তাকে বললেন: “আমার গাড়ির পেছন পেছন এসো।” আপনি যখন মোড়ে পৌঁছালেন, তখন সিগন্যাল সবুজ ছিল—আপনি চলে গেলেন। কিন্তু যখন আপনার বন্ধু পৌঁছাল, তখন লাল সিগন্যাল জ্বলে উঠল, তাই সে থেমে গেল। পরে যখন সিগন্যাল আবার সবুজ হলো, তখন সে গাড়ি চালিয়ে আপনার পেছনে চলতে লাগল। এ ক্ষেত্রে আপনি তার প্রশংসা করবেন, কারণ সে অন্ধভাবে তাকলিদ করেনি, বরং দূরদর্শিতা ও সচেতনতার সাথে ইত্তিবা করেছে।
হয়তো কেউ বলবে যে আমরা তাকলিদ শব্দটিকে ইত্তিবার অর্থে ব্যবহার করি। যদি তা-ই হতো, নীতিগতভাবে এতে কোনো অসুবিধা ছিল না। কিন্তু বাস্তবতা হলো, মুকাল্লিদরা সাধারণত প্রমাণ ছাড়া অনুসরণ করে, এবং তাদেরকে এভাবে বোঝানো হয়েছে যে তারা প্রমাণ বুঝতে সক্ষম নয়। অথচ প্রমাণ তো কিতাব ও সুন্নত, যা সাধারণ মানুষের ভাষাতেই রয়েছে। যদি কিছু হাদিস এমনও থাকে যার অর্থ সাধারণ মানুষের কাছে পুরোপুরি স্পষ্ট হয় না, তবুও হাদিসের দিকনির্দেশ দিলে অন্তত এই উপকার হয় যে, প্রশ্নকারী নতুন কিছু জানতে পারে, আর এটুকু অন্তত বুঝতে পারে যে যাকে সে প্রশ্ন করেছে, তার কাছে প্রমাণ আছে। এর বিপরীতে যে তাকলিদেই সন্তুষ্ট থাকে, সে আসলে কোনো বিষয়ে সচেতন থাকে না।
এই কারণেই সালফে সালেহিন সাধারণভাবে তাকলিদের নিন্দা করেছেন, এবং এ নিন্দা চার ইমামের নিজেদের থেকেই বর্ণিত।
ইমাম আবু হানিফা রাহি. বলতেন:
“এটা আমার মতামত, আর আমার কাছে এটিই উত্তম মনে হয়েছে। তবে যদি কেউ এর চেয়ে উত্তম মতামত পেশ করে, আমরা তা মেনে নেব।”
ইমাম মালিক রাহি. বলতেন:
“আমি তো একজন সাধারণ মানুষ; কখনো সঠিক বলি, কখনো ভুল করি। তাই আমার কথাকে কিতাব ও সুন্নতের উপর পেশ করো।”
ইমাম শাফেয়ী রাহি. বলতেন:
“যখনই কোনো সহিহ হাদিস প্রমাণিত হয়, আমার কথাকে দেয়ালে ছুড়ে মারো। যেখানে তোমরা প্রমাণ পাবে, সেটাই আমার মত।”
ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহি. বলতেন:
“আমার তাকলিদ করো না, মালিকেরও করো না, শাফেয়ীরও করো না, সাওরীরও করো না। বরং যেমনভাবে আমরা জ্ঞান আহরণ করেছি, তেমনি জ্ঞান অর্জন করো।”
মাওলানা শিবলী নোমানী এ সত্যকে অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় বলেছেন:
“কে জানে, মুসলমানদের মধ্যে কোন অদ্ভুত সময়ে তাকলিদের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল; যুগের পর যুগ অসংখ্য পরিবর্তন ঘটে গেলেও তার সেই শৃঙ্খল আজও ভাঙেনি।”
(মাকালাতে শিবলী, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৫২)
আর মাওলানা রুমী তাকলিদের নিন্দায় আরও কঠিন শব্দ ব্যবহার করেছেন:
خلق را تقلید شان برباد داد
اے دو صد لعنت بر این تقلید باد
অর্থাৎ—“মানুষকে তাদের তাকলিদ ধ্বংস করে দিয়েছে, আর এ তাকলিদের উপর দুই শত লানত বর্ষিত হোক।”
কিছু লোক ভুল বোঝায় যে, মুকাল্লিদ আসলে ইমাম আবু হানিফার অনুসরণ করে। আর যেহেতু ইমাম আবু হানিফা আমাদের যুগের আলেমদের তুলনায় অসাধারণ জ্ঞান ও ফজিলতের অধিকারী ছিলেন, তাই তার অনুসরণে কোনো দোষ নেই। কিন্তু এ কেবলই সস্তা তর্ক। কারণ, কোনো সাধারণ মানুষ সরাসরি ইমাম আবু হানিফার বাণী জানে না। সে তো কেবল তার সময়ের যে মুফতি ফাতাওয়া দিয়েছে তাকেই জানে। যদি সে সত্যিই ইমাম আবু হানিফার কথাগুলো বোঝার সামর্থ্য রাখে, তবে কোরআনের স্পষ্ট বাণী এবং সাহাবা ও তাবেঈনের কথাগুলো বুঝতেও তার কোনো অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
বলা হয়, মানুষের প্রকৃতিতেই বড়দের অনুসরণ করার প্রবণতা রয়েছে। তাই তাকলিদ এক প্রাকৃতিক বিষয়। এ কথা সত্য, এবং আমরা আগেই স্পষ্ট করেছি যে, আসলেই ইত্তিবা একটি প্রাকৃতিক ও যৌক্তিক আচরণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এ অনুসরণ কার হবে? মুকাল্লিদরা বলে—অসীমাপরাধী ব্যক্তিদের অনুসরণ হবে, আর আমরা বলি—অনুসরণ হবে কেবল ও কেবলই মাসুম নবীর।
সাহাবায়ে কেরাম রাযি. রাসূলুল্লাহ ﷺ–এর অনুসরণ করেছিলেন, আর এ অনুসরণ আসলে সেই কিতাবের অনুসরণ ছিল, যা তাঁকে দেওয়া হয়েছিল, আর সেই সুন্নতের অনুসরণ ছিল, যা কিতাবের জীবন্ত ব্যাখ্যা। সাহাবারা কিতাব ও সুন্নতের ইত্তিবা সচেতনভাবে করেছেন। তবে তাদের উপলব্ধি ও ইজতিহাদের স্তর এক ছিল না। কিছু সাহাবা ছিলেন যারা অমুসনদিত (non-textual) বিষয়ে কোরআন-সুন্নত ও নিজেদের ইজতিহাদের আলোকে হুকুম নির্ধারণ করতেন। তাদের মাঝে কখনো ঐক্য হতো, কখনো মতবিরোধ। যারা এই স্তরে ছিলেন না, তারা এসব ক্ষেত্রে মুজতাহিদ সাহাবাদের শরণাপন্ন হতেন এবং প্রয়োজনে যেকোনো ফকীহ সাহাবার কাছ থেকে জেনে নিতেন।
তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনদের অবস্থাও তাই ছিল। তারা কোরআন-সুন্নত ও সাহাবাদের বক্তব্যের আলোকে মাসআলা বের করতেন। কিন্তু কোনো সাহাবা বা তাবেঈর নামে স্থায়ী মাযহাব গড়ে তোলেননি। স্থায়ী মাযহাব প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৃতীয় হিজরি শতাব্দীর পরেই তৈরি হয়। এর আগে পদ্ধতি ছিল এই যে, মানুষ আগে কোরআনের দিকে যেত, তারপর সুন্নতের দিকে, তারপর সাহাবা-তাবেঈনের বক্তব্যের দিকে। যদি কোনো নতুন সমস্যা দেখা দিত, তখন তারা নিজেদের যুগের কোনো আলেমকে জিজ্ঞাসা করত। কারো সম্পর্কেই এ কথা প্রমাণিত নয় যে, নবী ﷺ–এর বাইরে আর কারো আজীবন বাধ্যতামূলক অনুসরণ করা হয়েছে।
এর সারমর্ম হলো—নবীদের বাইরে অন্যরা দুই শ্রেণির ছিলেন:
১. যারা ইজতিহাদের যোগ্য ছিলেন—তাঁরা কোরআন, সুন্নত এবং সালাফের বাণীর আলোকে ইজতিহাদ করতেন।
২. আর যারা ইজতিহাদের পর্যায়ে ছিলেন না—তাঁরাও যতটা বুঝতে পারতেন কোরআন ও সুন্নতের উপর আমল করতেন, আর নতুন কোনো সমস্যায় পড়লে আহলে ইলমের কাছে জিজ্ঞেস করতেন—কখনো একজনের কাছে, কখনো আরেকজনের কাছে।
এদের সবার দৃষ্টিতে আসল অনুসরণ ছিল কোরআন ও সুন্নতের, নবী ﷺ–এর বাইরে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিত্বের নয়। অনুসরণে অবশ্যই বুদ্ধি ও বোঝাপড়ার ব্যবহার জরুরি। অর্থাৎ অনুসরণকারী দেখবে, কার কাছে প্রমাণ আছে। যদি দুজন উত্তর দেন—একজন ওয়াহির প্রমাণ দিয়ে আর আরেকজন কেবল নিজের মত দিয়ে—তাহলে প্রকৃত অনুসরণ সেই ব্যক্তিরই হবে, যে ওয়াহিকে ভিত্তি বানায়।
এ প্রসঙ্গে ইমাম তাহাবী রাহি. করেছেন যে, একবার কাযী আবু উবায়দ তাঁকে বললেন:
“এ তো ইমাম আবু হানিফার মত নয়।”
তাহাবী জবাব দিলেন:
“আমি কি আবু হানিফার প্রতিটি কথা মানতে বাধ্য? তাকলিদ তো কেবলই করে কোনো গোঁড়া বা মূর্খ।”
এই উক্তিটি মিশরে এতটাই প্রসিদ্ধ হলো যে এটি প্রবাদবাক্যে পরিণত হয়।
একইভাবে ইমাম আবু আবদুল্লাহ ইবনে খুযাইয মুন্দাদ আল-মালিকী রাহি. বলেছেন:
“তাকলিদের মানে হলো এমন কোনো কথার দিকে ঝোঁকা, যার উপর বলনেওয়ালার কোনো দলিল নেই—এটি দ্বীনে নিষিদ্ধ। আর ইত্তিবা হলো সেই, যার উপর প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত। তাই যে ব্যক্তির কথা প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করা হয়, সেটি তাকলিদ—আর তা দ্বীনে বাতিল। আর যে ব্যক্তির কথা প্রমাণের সাথে বাঁধা থাকে, সেটি ইত্তিবা—আর এটিই দ্বীনে বৈধ।”
——————–
ক্যাটাগরি : ইসলামি চিন্তাধারা, ফিকাহ, শিক্ষা।
—-
✍️ মূল রচনা: ড. মুহাম্মদ আকরাম নাদভী, অক্সফোর্ড
✍️ অনুবাদ, যাচাই ও সম্পাদনা: মাওলানা মারজান আহমদ, সিলেট, বাংলাদেশ
—
🔗 অনূদিত মূল প্রবন্ধের লিংক: 👇
https://t.me/DrAkramNadwi/7070